১০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একাধিক স্টিল মিলের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৌর শহড়ে ৩টি স্টিল মিলের পুরান লোহা গলানো ক্যামিকেল মিশ্রিত বিষাক্তধোঁয়া পরিবেশ বিপন্ন করে তুলছে। ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে মানুষ। বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও দূষিত বর্জ্যে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার কারণে এলাকায় শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে । এসব কারখানার চুল্লিতে জ্বলে পুরনো লোহার টুকরো। কম উচ্চতার নির্গমন চিমনির কালো ধোঁয়া সেডের চাল দেয়ালের টিনের ফাঁক দিয়ে সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ে। সেই ধোঁয়ায় কালো আস্তোরণ বাতাসে উড়ছে ছাই এসে পড়ছে গাছপালা আর আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায়।এদিকে ধোঁয়ার প্রকোপে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় এক কিলো মিটার এলাকা জুড়ে হরহামেশাই হচ্ছে অন্ধকারাছন্ন। ধোঁয়ার প্রভাবে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে পরতে হচ্ছে বিপাকে। রয়েছে দুর্ঘটনার সঙ্কা। সরকারী কোনো নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই এসব কারখানা কতৃপক্ষ দীর্ঘদিন যাবত উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরিবেশ ও বায়ুদূষণ আইন অনুসারে অপরাধ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর রয়েছে নীরব ভুমিকায়।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়,উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসকের পাশে তারাব পৌরসভার,বরপা, অড়িয়াব এলাকায় আল-ফালা স্টিল এন্ড রিরোলিং, প্রিমিয়ার স্টিল এন্ড রিরোলিং এবং মজুমদার স্টিল এন্ড রিরোলিং নামে তিনটি কারখানা দীর্ঘদিন যাবত ত্রুটিপুর্ন অবকাঠামো নিয়ে এলাকাবাসীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারখানার বিকট শব্দ ও ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া এলাকাবাসীর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পাশের রফতানিমুখী পোশাক কারখানাসহ অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মকান্ডে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক লাগো কারখানা গুলোর অবস্থান হওয়াতে অবাধে নির্গত ধোঁয়া সহজেই আছন্ন করে রাখছে মহাসড়কের বরপা থেকে কর্ণগোপ ইউএস বাংলা হাসপাতালের গন্ডি পর্যন্ত এক কিলো মিটার মহাসড়ক। ধোঁয়ায় অন্ধকারাছন্ন থাকার কারণে মহাসড়কে যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্কা তৈরী হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,মিল কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও এসব স্টিল মিল কর্তৃপক্ষ ধোঁয়া পরিশোধন ও চারপাশে ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহন যাত্রী ,পথচারী ও স্থানীয়দের।মহাসড়কে গণপরিবহনের যাত্রীরা কালো ধোঁয়ার বিষাক্ত সংস্পর্শে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বরপা এলাকার বাসিন্দা রাব্বি বলেন, এসব কারখানার নির্গত কালো ধোঁয়ার কারণে আশপাশের এলাকা শীতের দিনের মতো কুয়াশাছন্ন অন্ধকার হয়ে থাকে। বিশেষ করে সকাল আর বিকেল বেলা তো দুরে কিছুই দেখা যায় না।

আড়িয়াব এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল করমি জানান, স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে এখানে আমাদের ব্যবসা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে এ উমুক্ত ধোঁয়া নির্গত শুরু হয়ে সারারাত শেষে সকাল ১০ টা পর্যন্ত আচ্ছন্ন করে রাখে মহাসড়ক সহ আশপাশের এলাকা। দীর্ঘদিন এ অবস্থায় এখানে বসবাস করার কারণে এখন আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।অনেক কষ্টে আছি। নিয়মিত আমার ওষধ সেবন করতে হচ্ছে।

আল ফালাহ স্টিল মিলের পাশে রপ্তানীমুখী একটি পোষাক কারখানার শ্রমিক জিয়া সরকার বলেন,এ কারখানার ধোঁয়ায় চতুরদিক আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। একদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিঅন্যদিকে ধোঁয়ার কারণে ঠিকমত কাপড় শুকাতে রোদে দেয়া যায় না। ধোঁয়ার কারণে সব কালো হয়ে যায়। আমরা খুব বিপদে আছি। এখানে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট লেগেই আছে।

তারাব পৌরসভার কাউন্সিলর রাসেল সিকদার জানান, এখানকার চুল্লিতে জ্বলে পুরনো লোহার টুকরো। নির্গমন চিমনির উচ্চতা এখানে কম, ছাদ ও দেয়ালের টিনের ফাঁক দিয়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। এরা শুধু যে বায়ু দূষণ করছে তা নয়। এরা পানি দূষণও করে। এখানকার উত্তপ্ত পানি বিভিন্ন নালা দিয়ে ছেড়ে দেয় এগুলো দিয়ে আশপাশের নালার মাছ ও কৃষি জমি নষ্ট হয়ে যায়। এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। ধোঁয়া শোধনের কোন উদ্যোগই নেই। ধোঁয়া নিদৃষ্ট উচ্চতায় যতটা সম্ভব পরিশোধন করে বাতাসে ছাড়া উচিত। কিন্তু এরা নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে উৎপাদন কার্যক্রম চারাচ্ছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও নাজমুল আহম্মেদ বলেন, ধোঁয়া কালো হোক বা সাদা, তা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ধোঁয়ার প্রকোপে মানুষের সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট সমস্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগির সংখ্যা ব্যপক হারে বেড়েছে।

এ বিষয়ে প্রিমিয়ার স্টিল এন্ড রিলোলিং মিলের ম্যানেজার নাছির উদ্দিন বলেন, আমাদের এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে রড উৎপাদন করা হয়। এই স্টীল মিল থেকে কালো ধোঁয়া বের হওয়ার কথা না।১০০ ফিট চিমনি নির্ধারিত করা থাকলেও আমারা ১২০ ফিট চিমনি ব্যবহার করছি। পরিচালন বিধি ও আইন মেনেই আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে আল ফালা স্টিল এন্ড রিলোলিং মিলের এইচ আর এডমিন তানভীর হোসেন বলেন, পরিবেশের জন্য সহনশীল ধোঁয়া নির্গত করার লক্ষ্যে আমাদের নতুন একটি এটিপি প্লান তৈরীর কাজ চলমান থাকায় সাময়িক ভাবে ধোঁয়া পরিশোধন করে নির্গমন করা সম্বব হচ্ছেনা। এ বিষয়ে আমরা তারাব পৌরসভা ও নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্লান্টের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। তখন ধোঁয়া নির্গমনে আমাদের আর কোনও সমস্যা থাকবে না।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, পরিবেশ ও বায়ুদূষণ কল্পে কারখানার চিমনি নির্দিষ্ট উচ্চতায় থাকাটা জরুরী। না হলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়ে। আর ধোঁয়া যতটা সম্ভব পরিশোধন করে বাতাসে ছাড়তে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলেই পরিবেশের জন্য মারাতক হুমকি হয়ে দাড়াবে। আমি কয়েক সপ্তাহ হলো এখানে যোগদান করেছি । ইতিমধ্যে এবিষয়ে অভিযানও পরিচালনা করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে অত্র এলাকা পরিদর্শন করে পরিবেশ ও বায়ুদূণে দায়ি কারখানা গুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বেলুচিস্তানে ৪০ ঘণ্টার নিরাপত্তা অভিযানে ১৪৫ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত

একাধিক স্টিল মিলের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ

প্রকাশিত : ০৬:০০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৌর শহড়ে ৩টি স্টিল মিলের পুরান লোহা গলানো ক্যামিকেল মিশ্রিত বিষাক্তধোঁয়া পরিবেশ বিপন্ন করে তুলছে। ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে মানুষ। বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও দূষিত বর্জ্যে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার কারণে এলাকায় শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে । এসব কারখানার চুল্লিতে জ্বলে পুরনো লোহার টুকরো। কম উচ্চতার নির্গমন চিমনির কালো ধোঁয়া সেডের চাল দেয়ালের টিনের ফাঁক দিয়ে সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ে। সেই ধোঁয়ায় কালো আস্তোরণ বাতাসে উড়ছে ছাই এসে পড়ছে গাছপালা আর আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায়।এদিকে ধোঁয়ার প্রকোপে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় এক কিলো মিটার এলাকা জুড়ে হরহামেশাই হচ্ছে অন্ধকারাছন্ন। ধোঁয়ার প্রভাবে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে পরতে হচ্ছে বিপাকে। রয়েছে দুর্ঘটনার সঙ্কা। সরকারী কোনো নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই এসব কারখানা কতৃপক্ষ দীর্ঘদিন যাবত উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরিবেশ ও বায়ুদূষণ আইন অনুসারে অপরাধ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর রয়েছে নীরব ভুমিকায়।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়,উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসকের পাশে তারাব পৌরসভার,বরপা, অড়িয়াব এলাকায় আল-ফালা স্টিল এন্ড রিরোলিং, প্রিমিয়ার স্টিল এন্ড রিরোলিং এবং মজুমদার স্টিল এন্ড রিরোলিং নামে তিনটি কারখানা দীর্ঘদিন যাবত ত্রুটিপুর্ন অবকাঠামো নিয়ে এলাকাবাসীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারখানার বিকট শব্দ ও ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া এলাকাবাসীর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পাশের রফতানিমুখী পোশাক কারখানাসহ অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মকান্ডে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক লাগো কারখানা গুলোর অবস্থান হওয়াতে অবাধে নির্গত ধোঁয়া সহজেই আছন্ন করে রাখছে মহাসড়কের বরপা থেকে কর্ণগোপ ইউএস বাংলা হাসপাতালের গন্ডি পর্যন্ত এক কিলো মিটার মহাসড়ক। ধোঁয়ায় অন্ধকারাছন্ন থাকার কারণে মহাসড়কে যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্কা তৈরী হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,মিল কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও এসব স্টিল মিল কর্তৃপক্ষ ধোঁয়া পরিশোধন ও চারপাশে ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহন যাত্রী ,পথচারী ও স্থানীয়দের।মহাসড়কে গণপরিবহনের যাত্রীরা কালো ধোঁয়ার বিষাক্ত সংস্পর্শে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বরপা এলাকার বাসিন্দা রাব্বি বলেন, এসব কারখানার নির্গত কালো ধোঁয়ার কারণে আশপাশের এলাকা শীতের দিনের মতো কুয়াশাছন্ন অন্ধকার হয়ে থাকে। বিশেষ করে সকাল আর বিকেল বেলা তো দুরে কিছুই দেখা যায় না।

আড়িয়াব এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল করমি জানান, স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে এখানে আমাদের ব্যবসা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে এ উমুক্ত ধোঁয়া নির্গত শুরু হয়ে সারারাত শেষে সকাল ১০ টা পর্যন্ত আচ্ছন্ন করে রাখে মহাসড়ক সহ আশপাশের এলাকা। দীর্ঘদিন এ অবস্থায় এখানে বসবাস করার কারণে এখন আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।অনেক কষ্টে আছি। নিয়মিত আমার ওষধ সেবন করতে হচ্ছে।

আল ফালাহ স্টিল মিলের পাশে রপ্তানীমুখী একটি পোষাক কারখানার শ্রমিক জিয়া সরকার বলেন,এ কারখানার ধোঁয়ায় চতুরদিক আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। একদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিঅন্যদিকে ধোঁয়ার কারণে ঠিকমত কাপড় শুকাতে রোদে দেয়া যায় না। ধোঁয়ার কারণে সব কালো হয়ে যায়। আমরা খুব বিপদে আছি। এখানে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট লেগেই আছে।

তারাব পৌরসভার কাউন্সিলর রাসেল সিকদার জানান, এখানকার চুল্লিতে জ্বলে পুরনো লোহার টুকরো। নির্গমন চিমনির উচ্চতা এখানে কম, ছাদ ও দেয়ালের টিনের ফাঁক দিয়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। এরা শুধু যে বায়ু দূষণ করছে তা নয়। এরা পানি দূষণও করে। এখানকার উত্তপ্ত পানি বিভিন্ন নালা দিয়ে ছেড়ে দেয় এগুলো দিয়ে আশপাশের নালার মাছ ও কৃষি জমি নষ্ট হয়ে যায়। এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। ধোঁয়া শোধনের কোন উদ্যোগই নেই। ধোঁয়া নিদৃষ্ট উচ্চতায় যতটা সম্ভব পরিশোধন করে বাতাসে ছাড়া উচিত। কিন্তু এরা নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে উৎপাদন কার্যক্রম চারাচ্ছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও নাজমুল আহম্মেদ বলেন, ধোঁয়া কালো হোক বা সাদা, তা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ধোঁয়ার প্রকোপে মানুষের সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট সমস্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগির সংখ্যা ব্যপক হারে বেড়েছে।

এ বিষয়ে প্রিমিয়ার স্টিল এন্ড রিলোলিং মিলের ম্যানেজার নাছির উদ্দিন বলেন, আমাদের এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে রড উৎপাদন করা হয়। এই স্টীল মিল থেকে কালো ধোঁয়া বের হওয়ার কথা না।১০০ ফিট চিমনি নির্ধারিত করা থাকলেও আমারা ১২০ ফিট চিমনি ব্যবহার করছি। পরিচালন বিধি ও আইন মেনেই আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে আল ফালা স্টিল এন্ড রিলোলিং মিলের এইচ আর এডমিন তানভীর হোসেন বলেন, পরিবেশের জন্য সহনশীল ধোঁয়া নির্গত করার লক্ষ্যে আমাদের নতুন একটি এটিপি প্লান তৈরীর কাজ চলমান থাকায় সাময়িক ভাবে ধোঁয়া পরিশোধন করে নির্গমন করা সম্বব হচ্ছেনা। এ বিষয়ে আমরা তারাব পৌরসভা ও নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্লান্টের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। তখন ধোঁয়া নির্গমনে আমাদের আর কোনও সমস্যা থাকবে না।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, পরিবেশ ও বায়ুদূষণ কল্পে কারখানার চিমনি নির্দিষ্ট উচ্চতায় থাকাটা জরুরী। না হলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়ে। আর ধোঁয়া যতটা সম্ভব পরিশোধন করে বাতাসে ছাড়তে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলেই পরিবেশের জন্য মারাতক হুমকি হয়ে দাড়াবে। আমি কয়েক সপ্তাহ হলো এখানে যোগদান করেছি । ইতিমধ্যে এবিষয়ে অভিযানও পরিচালনা করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে অত্র এলাকা পরিদর্শন করে পরিবেশ ও বায়ুদূণে দায়ি কারখানা গুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh