০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ধামইরহাটে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

হেমন্ত এলেই প্রকৃতির মতো জীবনে যেন এক অন্য রকম শীতলতা ও অনুভূতি তৈরি হয়। এখন আর ঝকঝকে প্রখর রোদের সকাল নয়। দিন শুরু হচ্ছে কমলার মতো শীতল সূর্যের মোহনীয় আলোয়। চারদিক ঘিরে কুয়াশার চাদর। মাঝ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঝরছে শিশির। আর এসব শিশির জমছে ফসলের খেতে আর ঘাসের ডগায়। পাল্টে যাচ্ছে বরেন্দ্র এলাকার রুক্ষ প্রকৃতি।

এরই মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা নওগাঁর ধামইরহাটে মিলছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোরের স্নিগ্ধ শিশিরে মিলছে শীতের আবেশ। পুর্ব আকাশে সূর্য যখন উঁকি দিচ্ছে, ঘন কুয়াশার চাদরে তখন ঢাকা পড়ছে ভোরের সেই মোহনীয় রোদ।

ভোর সকালে ধানক্ষেতের মাকড়সার জালে আটকা পড়ছে শিশির। এই মুক্তো ঝরা শিশিরে হেমন্তেই হাতছানি দিচ্ছে শীত। আবহমান বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে আবারও শুরু হয়েছে ঋতু বদলের পালা । কার্তিক-অগ্রহায়ণ এ দুই মাস বাংলায় হেমন্তকাল। আর হেমন্তকে বলা হয় অনুপম ও অপরূপ রূপের ঋতু। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্না।

তবে সারাদিনে গরম অনুভূত হলেও সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হচ্ছে হালকা হিমেল হওয়া। বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজতেই পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ছে রক্তিম সূর্য। অলস বিকেলের গোধূলী লগ্ন পেরিয়ে জলদিই নেমে আসছে সন্ধ্যা। আর ভোরের আলো ফুটতেই স্নিগ্ধ শিশিরে ভেজা সবুজ ধানের পাতাগুলো নুয়ে পড়ছে বাতাসে। এসে গেছে শীত কাল।

এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শীতের আগমনীতে সবজি খেতে বেড়েছে কৃষকের ব্যস্ততা জমে উঠেছে। কৃষকরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, লাউ, টমেটো, লাল শাকসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করছেন। এ ঋতুতেই স্বপ্ন দেখেন বাংলার কৃষক-কৃষাণী।

পৌরসভার ফার্শিপাড়া গ্রামের সবজিচাষি মো. আজিজ বলেন, এ বছর আগাম শীতের আমেজে ফুলকপি ও সবজির চাষ করেছি । এতে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আমি গত বছর ন্যায় এবারেও আমার ২০ শতাংশ জমিতে বেগুন, ফুলকপি ও বাধাকপির গাছ রোপন করেছি । আশা করি গত বছরের থেকে এবারে বেশি ফলন হবে । আমি এর কয়েকদিন আগে এসব রোপন করেছিলাম। বৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু চারা-গাছ বিনষ্ট হয়েছে । আজ এগুলো বাছাই করে গাছে প্রয়োজনীয় পানি দিতে এসেছি । তিনি আরও বলেন, গবাদি পশুর থেকে ক্ষেত রক্ষায় আমি আমার জমির চারপাশে কাটা-তারের বেষ্টনি দ্বারা আবদ্ধ করেছি । সেই বেষ্টনীতেই ধারে-পাশেই লাউ বীজ রোপন করেছি । তা থেকে আমার বাড়তি অর্থ উপার্জন হয় । লাউ আমি ৪০-৪৫ টাকা পিচ বিক্রি করেছি, তাতে আমার এক বছরে খরচ উঠে আসতে পারে।

একই গ্রামের কৃষক মো. রফিক বলেন বলেন, আমি আমার জমিতে এবারে ধান চাষ করেছি। গত বছরের থেকে এবারে অধিক লাভ ফলন হবে আমি আশা করছি । তবে ধানে এবার কারেন্ট পোকার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে । এটি নির্মূল হলেই সব ধান ক্ষেতে অধিক হবে। কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার বাংলাদেশের নাহিদ রানা

ধামইরহাটে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

প্রকাশিত : ০৩:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ নভেম্বর ২০২৩

হেমন্ত এলেই প্রকৃতির মতো জীবনে যেন এক অন্য রকম শীতলতা ও অনুভূতি তৈরি হয়। এখন আর ঝকঝকে প্রখর রোদের সকাল নয়। দিন শুরু হচ্ছে কমলার মতো শীতল সূর্যের মোহনীয় আলোয়। চারদিক ঘিরে কুয়াশার চাদর। মাঝ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঝরছে শিশির। আর এসব শিশির জমছে ফসলের খেতে আর ঘাসের ডগায়। পাল্টে যাচ্ছে বরেন্দ্র এলাকার রুক্ষ প্রকৃতি।

এরই মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকা নওগাঁর ধামইরহাটে মিলছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোরের স্নিগ্ধ শিশিরে মিলছে শীতের আবেশ। পুর্ব আকাশে সূর্য যখন উঁকি দিচ্ছে, ঘন কুয়াশার চাদরে তখন ঢাকা পড়ছে ভোরের সেই মোহনীয় রোদ।

ভোর সকালে ধানক্ষেতের মাকড়সার জালে আটকা পড়ছে শিশির। এই মুক্তো ঝরা শিশিরে হেমন্তেই হাতছানি দিচ্ছে শীত। আবহমান বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে আবারও শুরু হয়েছে ঋতু বদলের পালা । কার্তিক-অগ্রহায়ণ এ দুই মাস বাংলায় হেমন্তকাল। আর হেমন্তকে বলা হয় অনুপম ও অপরূপ রূপের ঋতু। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্না।

তবে সারাদিনে গরম অনুভূত হলেও সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হচ্ছে হালকা হিমেল হওয়া। বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজতেই পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ছে রক্তিম সূর্য। অলস বিকেলের গোধূলী লগ্ন পেরিয়ে জলদিই নেমে আসছে সন্ধ্যা। আর ভোরের আলো ফুটতেই স্নিগ্ধ শিশিরে ভেজা সবুজ ধানের পাতাগুলো নুয়ে পড়ছে বাতাসে। এসে গেছে শীত কাল।

এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শীতের আগমনীতে সবজি খেতে বেড়েছে কৃষকের ব্যস্ততা জমে উঠেছে। কৃষকরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, লাউ, টমেটো, লাল শাকসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করছেন। এ ঋতুতেই স্বপ্ন দেখেন বাংলার কৃষক-কৃষাণী।

পৌরসভার ফার্শিপাড়া গ্রামের সবজিচাষি মো. আজিজ বলেন, এ বছর আগাম শীতের আমেজে ফুলকপি ও সবজির চাষ করেছি । এতে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আমি গত বছর ন্যায় এবারেও আমার ২০ শতাংশ জমিতে বেগুন, ফুলকপি ও বাধাকপির গাছ রোপন করেছি । আশা করি গত বছরের থেকে এবারে বেশি ফলন হবে । আমি এর কয়েকদিন আগে এসব রোপন করেছিলাম। বৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু চারা-গাছ বিনষ্ট হয়েছে । আজ এগুলো বাছাই করে গাছে প্রয়োজনীয় পানি দিতে এসেছি । তিনি আরও বলেন, গবাদি পশুর থেকে ক্ষেত রক্ষায় আমি আমার জমির চারপাশে কাটা-তারের বেষ্টনি দ্বারা আবদ্ধ করেছি । সেই বেষ্টনীতেই ধারে-পাশেই লাউ বীজ রোপন করেছি । তা থেকে আমার বাড়তি অর্থ উপার্জন হয় । লাউ আমি ৪০-৪৫ টাকা পিচ বিক্রি করেছি, তাতে আমার এক বছরে খরচ উঠে আসতে পারে।

একই গ্রামের কৃষক মো. রফিক বলেন বলেন, আমি আমার জমিতে এবারে ধান চাষ করেছি। গত বছরের থেকে এবারে অধিক লাভ ফলন হবে আমি আশা করছি । তবে ধানে এবার কারেন্ট পোকার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে । এটি নির্মূল হলেই সব ধান ক্ষেতে অধিক হবে। কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে