০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে: ম্যাক্রোঁ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন। শনিবার (১১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বোমাবর্ষণ এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে বলে সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বিবিসিকে দেওয়া তার এই সাক্ষাৎকার শুক্রবার রাতে প্রকাশিত হয়।

এতে তিনি বলেছেন, গাজায় বোমা হামলার কোনও যুক্তি নেই এবং সেখানে যুদ্ধবিরতি হলে ইসরায়েল উপকৃত হবে।

ফরাসি এই প্রেসিডেন্ট বলেন, হামাসের ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘স্পষ্টভাবে নিন্দা’ করছে ফ্রান্স। কিন্তু ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ‘গাজায় ইসরায়েলের এই বোমা হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা’।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনসহ অন্যান্য দেশের নেতারা তার এই যুদ্ধবিরতির আহ্বানে যোগ দিক, এটা তিনি চান কিনা জানতে চাইলে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন: ‘আমি আশা করি তারা (আমার আহ্বানের সঙ্গে) যোগ দেবে।’

মূলত গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া ইসরায়েলের এই বিমান হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না গাজার কোনও অবকাঠামো। তারা মসজিদ, গির্জা, স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক মানুষের বাড়ি-ঘর সব জায়গায় হামলা চালিয়ে আসছে।

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিহত এসব ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি শিশু। এছাড়া নিহতদের মধ্যে নারীর সংখ্যাও তিন হাজারের বেশি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা শুক্রবার গাজা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই ৪ হাজার ৫০৬ জন। এছাড়া নিহতদের মধ্যে ৩ হাজার ২৭ জন নারী এবং ৬৭৮ জন বৃদ্ধ রয়েছেন। ইসরায়েলি আগ্রাসনে আহত হয়েছেন আরও ২৭ হাজার ৪৯০ জন।’

তিনি বলেন, ইসরায়েলি হামলায় দেড় হাজার শিশুসহ ২ হাজার ৭০০ জন লোক এখনও বিধ্বস্ত বহু ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে।

রয়টার্স বলছে, গাজা যুদ্ধ সম্পর্কে প্যারিসে মানবিক সহায়তা সম্মেলনের পরের দিন বিবিসিকে দেওয়া ওই সাক্ষাকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, প্যারিসের শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত সমস্ত সরকার এবং সংস্থা ‘স্পষ্টভাবে এই উপসংহারে’ পৌঁছেছেন যে- ‘গাজার সংঘাতে প্রথমে মানবিক বিরতি এবং সেখান থেকে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও সমাধান নেই। আর সেটি হলে সেইসব বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার সুযোগ পাওয়া যাবে… যাদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কোনও সম্পর্ক নেই’।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আজ, বেসামরিক লোকদের ওপর বোমা হামলা করা হচ্ছে। শিশু, নারী ও বৃদ্ধ মানুষদের বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। তাই এটি চলার কোনও কারণ নেই এবং এই হামলাকে বৈধতাও দেওয়া যায় না। তাই আমরা ইসরায়েলকে থামানোর জন্য অনুরোধ করছি।’

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে: ম্যাক্রোঁ

প্রকাশিত : ১০:২৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন। শনিবার (১১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বোমাবর্ষণ এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে বলে সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বিবিসিকে দেওয়া তার এই সাক্ষাৎকার শুক্রবার রাতে প্রকাশিত হয়।

এতে তিনি বলেছেন, গাজায় বোমা হামলার কোনও যুক্তি নেই এবং সেখানে যুদ্ধবিরতি হলে ইসরায়েল উপকৃত হবে।

ফরাসি এই প্রেসিডেন্ট বলেন, হামাসের ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘স্পষ্টভাবে নিন্দা’ করছে ফ্রান্স। কিন্তু ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ‘গাজায় ইসরায়েলের এই বোমা হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা’।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনসহ অন্যান্য দেশের নেতারা তার এই যুদ্ধবিরতির আহ্বানে যোগ দিক, এটা তিনি চান কিনা জানতে চাইলে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন: ‘আমি আশা করি তারা (আমার আহ্বানের সঙ্গে) যোগ দেবে।’

মূলত গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া ইসরায়েলের এই বিমান হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না গাজার কোনও অবকাঠামো। তারা মসজিদ, গির্জা, স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক মানুষের বাড়ি-ঘর সব জায়গায় হামলা চালিয়ে আসছে।

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিহত এসব ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি শিশু। এছাড়া নিহতদের মধ্যে নারীর সংখ্যাও তিন হাজারের বেশি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা শুক্রবার গাজা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই ৪ হাজার ৫০৬ জন। এছাড়া নিহতদের মধ্যে ৩ হাজার ২৭ জন নারী এবং ৬৭৮ জন বৃদ্ধ রয়েছেন। ইসরায়েলি আগ্রাসনে আহত হয়েছেন আরও ২৭ হাজার ৪৯০ জন।’

তিনি বলেন, ইসরায়েলি হামলায় দেড় হাজার শিশুসহ ২ হাজার ৭০০ জন লোক এখনও বিধ্বস্ত বহু ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে।

রয়টার্স বলছে, গাজা যুদ্ধ সম্পর্কে প্যারিসে মানবিক সহায়তা সম্মেলনের পরের দিন বিবিসিকে দেওয়া ওই সাক্ষাকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, প্যারিসের শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত সমস্ত সরকার এবং সংস্থা ‘স্পষ্টভাবে এই উপসংহারে’ পৌঁছেছেন যে- ‘গাজার সংঘাতে প্রথমে মানবিক বিরতি এবং সেখান থেকে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও সমাধান নেই। আর সেটি হলে সেইসব বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার সুযোগ পাওয়া যাবে… যাদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কোনও সম্পর্ক নেই’।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আজ, বেসামরিক লোকদের ওপর বোমা হামলা করা হচ্ছে। শিশু, নারী ও বৃদ্ধ মানুষদের বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। তাই এটি চলার কোনও কারণ নেই এবং এই হামলাকে বৈধতাও দেওয়া যায় না। তাই আমরা ইসরায়েলকে থামানোর জন্য অনুরোধ করছি।’

বিজনেস বাংলাদেশ/একে