০২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আসনগুলোতে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপক প্রতিযোগিতা

কয়েকদিনের মধ্যে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এরও প্রায় মাস দেড়েক আগে থেকেই পাবনায় বিরাজ করছে নির্বাচনী হাওয়া। উঠান বৈঠক, কর্মীসভা, হোন্ডা শোডাউন, মতবিনিময় ও আলোচনা সভার মত নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠ গরম করে চলেছেন। পাবনার আসনগুলোতে আ.লীগের অসংখ্য মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় নিজেদের মধ্যেই রয়েছে ব্যাপক প্রতিযোগিতা। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামাতের মত বিরোধী দলগুলোকে তেমন মাঠে দেখা যাচ্ছে না। হরতাল অবরোধ পালনের মত দলীয় কর্মসূচীতেও পাবনার ১, ২ ও ৩ নং আসনগুলোতে তাদের তৎপর দেখা যাচ্ছে না। এ তিনটি আসনের নির্বচনী হালচাল নিয়ে আলাপ রয়েছে পাবনার নির্বাচনী হালচাল এর প্রথম পর্বে-

পাবনা- ১ (জাতীয়- ৬৮)
জেলার সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন গঠিত। ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৮ জন পুরুষ, ২ লাখ ১১ হাজার ২৬৫ জন মহিলা ও একজন তৃতীয় লিঙ্গের সহ এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া জামাতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুই মেয়াদে এ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া ১৯৯৬ সালে আ.লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান বহিষ্কৃত নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। এরপর ২০০৮ সালে বর্তমান ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু আ.লীগের পক্ষে বিজয়ী হবার পর থেকে টানা তিনবারের মত তিনিই দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
বর্তমানেও এ আসন আ.লীগের দখলেই রয়েছে। টানা তিনবারের পর এবারও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু দলীয় মার্কায় নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ায় আ.লীগের তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তবে জামাতের একসময়কার শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামীর এলাকা হওয়ায় এখানে জামাতের মোটা দাগের চাপা ভোট রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

পাবনা – ২ (জাতীয়- ৬৯)
১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির প্রভাবই বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। কেননা ১৯৯১ সালে বিএনপির ওসমান গনি ও ২০০১ সালে বিএনপির সেলিম রেজা হাবিব এ আসনে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন। মাঝে ১৯৯৬ সালে আ.লীগের পক্ষে নির্বাচিত হন বর্তমান সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের বাবা আহমেদ তফিজ উদ্দিন। এরপর ২০০৮ সালে আ.লীগের পক্ষে এ.কে খন্দকার ও ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন খন্দকার আজিজুল হক আরজু। সবশেষ ২০১৮ সালে আ.লীগের প্রয়াত নেতা আহমেদ তফিজ উদ্দিনের ছেলে আহমেদ ফিরোজ কবির আ.লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন। বর্তমানেও সরল মানসিকতা ও ক্লিন ইমেজের কারণে এ আসনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় উটান বৈঠক ও কর্মীসভার মত নানা কর্মসূচীতে জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এর বিপরীতে নিজের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে দাবি করে নিরলস জনসংযোগ করে চলেছে পাবনা জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান উজ্জ¦ল। এছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এ আসনে আ.লীগের বড় প্রতিদ্বন্দী হতে পারেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব। এই আসনে বিএনপির একটি বড় ভোট ব্যাংক থাকায় হাসান জাফির তুহিন ও সেলিম রেজা হাবিব হতে পারেন বড় ফ্যাক্টর। তবে এদের মধ্যেও আত্মকোন্দল রয়েছে।

সুজানগর ও বেড়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫ জন ভোটার নিয়ে এ আসন গঠিত। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩০২ জন পুরুষ, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪২ জন মহিলা ও একজন তৃতীয় লিঙ্গের।

পাবনা- ৩ (জাতীয়- ৭০)
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মোট ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬২ জন ভোটার নিয়ে এ আসন গঠিত। ১৯৯১ সালে সাইফুল আযম ও ২০০১ সালে কে.এম আনোয়ারুল ইসলাম বিএনপির পক্ষে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মাঝে ১৯৯৬ সালে আ.লীগের মনোনয়নে ওয়াজি উদ্দিন খান নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালে আ.লীগের হয়ে মকবুল হোসেন নির্বাচিত হলে টানা তিনবারের মত সংসদ সদস্য হিসেবে এপর্যন্ত মকবুল হোসেনই রয়েছেন। তবে জেলা আ.লীগের সদস্য ও চাটমোহর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আ: হামিদ মাস্টার সহ আ.লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আসনগুলোতে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপক প্রতিযোগিতা

প্রকাশিত : ০৫:৫১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০২৩

কয়েকদিনের মধ্যে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এরও প্রায় মাস দেড়েক আগে থেকেই পাবনায় বিরাজ করছে নির্বাচনী হাওয়া। উঠান বৈঠক, কর্মীসভা, হোন্ডা শোডাউন, মতবিনিময় ও আলোচনা সভার মত নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠ গরম করে চলেছেন। পাবনার আসনগুলোতে আ.লীগের অসংখ্য মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় নিজেদের মধ্যেই রয়েছে ব্যাপক প্রতিযোগিতা। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামাতের মত বিরোধী দলগুলোকে তেমন মাঠে দেখা যাচ্ছে না। হরতাল অবরোধ পালনের মত দলীয় কর্মসূচীতেও পাবনার ১, ২ ও ৩ নং আসনগুলোতে তাদের তৎপর দেখা যাচ্ছে না। এ তিনটি আসনের নির্বচনী হালচাল নিয়ে আলাপ রয়েছে পাবনার নির্বাচনী হালচাল এর প্রথম পর্বে-

পাবনা- ১ (জাতীয়- ৬৮)
জেলার সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন গঠিত। ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৮ জন পুরুষ, ২ লাখ ১১ হাজার ২৬৫ জন মহিলা ও একজন তৃতীয় লিঙ্গের সহ এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া জামাতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুই মেয়াদে এ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া ১৯৯৬ সালে আ.লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান বহিষ্কৃত নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। এরপর ২০০৮ সালে বর্তমান ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু আ.লীগের পক্ষে বিজয়ী হবার পর থেকে টানা তিনবারের মত তিনিই দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
বর্তমানেও এ আসন আ.লীগের দখলেই রয়েছে। টানা তিনবারের পর এবারও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু দলীয় মার্কায় নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ায় আ.লীগের তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তবে জামাতের একসময়কার শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামীর এলাকা হওয়ায় এখানে জামাতের মোটা দাগের চাপা ভোট রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

পাবনা – ২ (জাতীয়- ৬৯)
১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির প্রভাবই বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। কেননা ১৯৯১ সালে বিএনপির ওসমান গনি ও ২০০১ সালে বিএনপির সেলিম রেজা হাবিব এ আসনে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন। মাঝে ১৯৯৬ সালে আ.লীগের পক্ষে নির্বাচিত হন বর্তমান সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের বাবা আহমেদ তফিজ উদ্দিন। এরপর ২০০৮ সালে আ.লীগের পক্ষে এ.কে খন্দকার ও ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন খন্দকার আজিজুল হক আরজু। সবশেষ ২০১৮ সালে আ.লীগের প্রয়াত নেতা আহমেদ তফিজ উদ্দিনের ছেলে আহমেদ ফিরোজ কবির আ.লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন। বর্তমানেও সরল মানসিকতা ও ক্লিন ইমেজের কারণে এ আসনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় উটান বৈঠক ও কর্মীসভার মত নানা কর্মসূচীতে জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এর বিপরীতে নিজের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে দাবি করে নিরলস জনসংযোগ করে চলেছে পাবনা জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান উজ্জ¦ল। এছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এ আসনে আ.লীগের বড় প্রতিদ্বন্দী হতে পারেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব। এই আসনে বিএনপির একটি বড় ভোট ব্যাংক থাকায় হাসান জাফির তুহিন ও সেলিম রেজা হাবিব হতে পারেন বড় ফ্যাক্টর। তবে এদের মধ্যেও আত্মকোন্দল রয়েছে।

সুজানগর ও বেড়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫ জন ভোটার নিয়ে এ আসন গঠিত। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩০২ জন পুরুষ, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪২ জন মহিলা ও একজন তৃতীয় লিঙ্গের।

পাবনা- ৩ (জাতীয়- ৭০)
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মোট ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬২ জন ভোটার নিয়ে এ আসন গঠিত। ১৯৯১ সালে সাইফুল আযম ও ২০০১ সালে কে.এম আনোয়ারুল ইসলাম বিএনপির পক্ষে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মাঝে ১৯৯৬ সালে আ.লীগের মনোনয়নে ওয়াজি উদ্দিন খান নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালে আ.লীগের হয়ে মকবুল হোসেন নির্বাচিত হলে টানা তিনবারের মত সংসদ সদস্য হিসেবে এপর্যন্ত মকবুল হোসেনই রয়েছেন। তবে জেলা আ.লীগের সদস্য ও চাটমোহর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আ: হামিদ মাস্টার সহ আ.লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh