০৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

সব কিছু প্রতিহত করে ১০ ডিসেম্বর মানববন্ধনের ঘোষণা বিএনপির

আগামী রোববার (১০ ডিসেম্বর ) ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা সদরে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানববন্ধন করবে বিএনপি। এদিন রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয়ভাবে এই কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এই কর্মসূচি উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার ( ৮ ডিসেম্বর) বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

রিজভী বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে। সেদিন গুম-খুনের শিকার পরিবারের সমন্বয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঢাকা মহানগরসহ জেলা সদরে এই কর্মসূচি পালিত হবে। ঢাকায় মানববন্ধন হবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায়। এই বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলাসমূহে মানববন্ধনে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন।’

রিজভী আরও বলেন, সরকারের দিক থেকে বাধা-বিপত্তি যদি আসে, সবকিছুকে প্রতিহত করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে এই মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে হবে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, মানববন্ধন কর্মসূচিতে যে সকল পরিবার নিপীড়ন-নির্যাতন ও গুম-খুনের শিকার হয়েছেন সেই সব পরিবারের সদস্যদের আপনারা মানববন্ধনে উপস্থিত করবেন।

গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে লাগাতার হরতাল-অবরোধ করে যাচ্ছে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং তফসিল বাতিলের দাবিতে দশম দফায় ২০ দিন অবরোধ এবং তিন দফায় চার দিন হরতাল করেছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয়েছে শুক্রবার সকাল ৬টায়।

৪৮ ঘণ্টার অবরোধ সফল করার জন্য নেতা-কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে রিজভী বলেন, এই কর্মসূচি অনাচারের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, একটা কর্তৃত্ববাদী সরকার যে জনগণের কাঁধের ওপর আরব্য উপন্যাসের দৈত্যের মতো চেপে বসেছে, যার কাছে মানবতা, মানবাধিকার, মানুষের নাগরিক অধিকারের কোনো দাম নেই।

তিনি বলেন, আজকে একটি জাতির সমস্ত সম্ভাবনা, অগ্রগতি, এগিয়ে যাওয়া সকল কিছুকে স্তব্ধ করে দিয়ে নিজের হাতে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য স্বৈরাচারে রূপান্তরিত হয়েছে আওয়ামী সরকার। তারা দেশ থেকে, রাষ্ট্র থেকে, সমাজ থেকে সত্য কথা ভুলিয়ে দিতে চাচ্ছে। তারা ন্যায় বিচার বিবেককে অন্তর্হীত করছে, নিরুদ্দেশ করতে চাচ্ছে। এ রকম একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে সত্য কথা, মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলা সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, অন্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়।

নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে অন্তত ২১৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাতটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮৭৫ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে। এ সময়ে বিভিন্ন হামলায় দলের অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলেও জানান রিজভী।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি

জনপ্রিয়

সব কিছু প্রতিহত করে ১০ ডিসেম্বর মানববন্ধনের ঘোষণা বিএনপির

প্রকাশিত : ০৮:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

আগামী রোববার (১০ ডিসেম্বর ) ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা সদরে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানববন্ধন করবে বিএনপি। এদিন রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয়ভাবে এই কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এই কর্মসূচি উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার ( ৮ ডিসেম্বর) বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

রিজভী বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে। সেদিন গুম-খুনের শিকার পরিবারের সমন্বয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঢাকা মহানগরসহ জেলা সদরে এই কর্মসূচি পালিত হবে। ঢাকায় মানববন্ধন হবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায়। এই বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলাসমূহে মানববন্ধনে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন।’

রিজভী আরও বলেন, সরকারের দিক থেকে বাধা-বিপত্তি যদি আসে, সবকিছুকে প্রতিহত করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে এই মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে হবে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, মানববন্ধন কর্মসূচিতে যে সকল পরিবার নিপীড়ন-নির্যাতন ও গুম-খুনের শিকার হয়েছেন সেই সব পরিবারের সদস্যদের আপনারা মানববন্ধনে উপস্থিত করবেন।

গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে লাগাতার হরতাল-অবরোধ করে যাচ্ছে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং তফসিল বাতিলের দাবিতে দশম দফায় ২০ দিন অবরোধ এবং তিন দফায় চার দিন হরতাল করেছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয়েছে শুক্রবার সকাল ৬টায়।

৪৮ ঘণ্টার অবরোধ সফল করার জন্য নেতা-কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে রিজভী বলেন, এই কর্মসূচি অনাচারের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, একটা কর্তৃত্ববাদী সরকার যে জনগণের কাঁধের ওপর আরব্য উপন্যাসের দৈত্যের মতো চেপে বসেছে, যার কাছে মানবতা, মানবাধিকার, মানুষের নাগরিক অধিকারের কোনো দাম নেই।

তিনি বলেন, আজকে একটি জাতির সমস্ত সম্ভাবনা, অগ্রগতি, এগিয়ে যাওয়া সকল কিছুকে স্তব্ধ করে দিয়ে নিজের হাতে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য স্বৈরাচারে রূপান্তরিত হয়েছে আওয়ামী সরকার। তারা দেশ থেকে, রাষ্ট্র থেকে, সমাজ থেকে সত্য কথা ভুলিয়ে দিতে চাচ্ছে। তারা ন্যায় বিচার বিবেককে অন্তর্হীত করছে, নিরুদ্দেশ করতে চাচ্ছে। এ রকম একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে সত্য কথা, মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলা সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, অন্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়।

নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে অন্তত ২১৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাতটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮৭৫ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে। এ সময়ে বিভিন্ন হামলায় দলের অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলেও জানান রিজভী।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি