০৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

কক্সবাজারে নিরাপদ সবজি চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক

কক্সবাজারের শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত সদর, রামু ও চকরিয়া উপজেলা। এখানকার কৃষকেরা বারো মাস বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে থাকেন। মৌসুমের আগে শীতের ফসল চাষ করে বাজারে তুলে লাভবান হচ্ছেন অনেক চাষী। কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে জমিতে হাল চাষ, চারা রোপণ, ক্ষেতে পানি দেয়া ও আগাছা পরিষ্কার করাসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটে এখানকার কৃষকদের।

বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় এসব সবজি। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে নানা ফসল। এখানকার উৎপাদিত ফসল জেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে অনেক কৃষক।

জেলার প্রধান ফসল ধান, মরিচ, আলু, ফুল কপি, কলা, ঢেড়ষসহ বিভিন্ন শীত কালীন শাক-সবজি। এছাড়া মৌসুমের আগেই জেলার বিভিন্ন মাঠে সারি সারি শিম গাছ, শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, মুলা, করলা, পটল, পালং ও লালশাকসহ হরেক রকমের শীতকালীন সবজির চারা।

এসব শীতকালীন সবজি বাজারে তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আগাম বাজারে উঠায় সবজির দামও ভালো পাচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।

কক্সবাজার জেলার কৃষি ফসলের পাশাপাশি বাণিজ্যকভাবে মহেশখালী, সদর ও ঈদগাঁও উপজেলায় পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছ চাষাবাদ হয়ে আসছে। এখানকার বিভিন্ন জাতের মাছ ও পোনা বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিশেষকরে মহেশখালীর চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়।

সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চাঁন্দের পাড়া গ্রামের কৃষকরা জানান, প্রতিবছরের মতো এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আগাম সবজি চাষ করেছেন। সবজি চাষে তুলনামূলকভাবে মূলধনও কম লাগে। একটু বেশি পরিচর্যা করতে হয়। রোগবালাই দমনে সবজিতে কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করতে হয়। খুব কম সময়েই বিক্রি উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রায় দিনই বাজারে বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদাও মেটানো সম্ভব হয়। জমিতে সবজি থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের হাতে কম-বেশি টাকা থাকে। যা অন্য ফসলের বেলায় সম্ভব নয়। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো।

মহেশখালী উপজেলার মাছ চাষী আব্দুল আজিজ জানান, ৪ বিঘা জমির বিশাল পুকুরে প্রায় সারাবছর বিভিন্ন জাতের মাছ চাষাবাদ করে আসছে। এছাড়া মাছের পোনা উৎপাদন করে গত কয়েক বছরে জেলায় অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রতি বছর এখানকার চিংড়ি মাছ বিদেশে রপ্তানি হয়ে আসছে।

সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের কৃষক সালাউদ্দিন জানান, বর্তমানে মুলা জমিতে লাগিয়ে অনেক বেশি লাভবান হয়েছি। এরপর আলু লাগানো হবে। এরপর আবার মুলা হবে তারপর একই জমিতে করলা লাগানো হবে।

সদর উপজেলার আওতাধীন কলাতলী এলাকার কৃষক মোঃ ফরিদ জানান, বিগত সময়ে বিভিন্ন ঘুর্ণিঝড় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন আবার সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টায় রয়েছি। ইনশাআল্লাহ কয়েক দিনের মধ্যেই চাষাবাদে অনেক সফলতা অর্জন হবে।

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আশিস কুমার দে জানান, জেলায় কৃষকরা নানান ফসল চাষাবাদ করে থাকে। চলতি বছর শীতকালিন সবজি চাষ হয়েছে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। যা থেকে শীতকালীন সবজিতে হাজার মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাবে। সামনে শীতকালীন সবজির চাষ আরো বাড়বে। গত বছরের তুলনায় জমিতে সবজি চাষ জানুয়ারি মাসে আরো বাড়বে। কক্সবাজারে চাষকৃত সবজি বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়ে থাকে। এখানকার উৎপাদিত সবজিতে কৃষকরা অনেক বেশি লাভবান হবে বলে প্রত্যাশা করেন। এছাড়াও ১২ হেক্টর জমিতে এই পর্যন্ত বীজ তোলা হয়েছে। ২য় ধাপে কৃষকরা আবাদ করে আরো বেশি সুফল পাবে বলে মনে করেন তিনি।

ট্যাগ :

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্যেও

কক্সবাজারে নিরাপদ সবজি চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক

প্রকাশিত : ০৮:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩

কক্সবাজারের শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত সদর, রামু ও চকরিয়া উপজেলা। এখানকার কৃষকেরা বারো মাস বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে থাকেন। মৌসুমের আগে শীতের ফসল চাষ করে বাজারে তুলে লাভবান হচ্ছেন অনেক চাষী। কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে জমিতে হাল চাষ, চারা রোপণ, ক্ষেতে পানি দেয়া ও আগাছা পরিষ্কার করাসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটে এখানকার কৃষকদের।

বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় এসব সবজি। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে নানা ফসল। এখানকার উৎপাদিত ফসল জেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে অনেক কৃষক।

জেলার প্রধান ফসল ধান, মরিচ, আলু, ফুল কপি, কলা, ঢেড়ষসহ বিভিন্ন শীত কালীন শাক-সবজি। এছাড়া মৌসুমের আগেই জেলার বিভিন্ন মাঠে সারি সারি শিম গাছ, শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, মুলা, করলা, পটল, পালং ও লালশাকসহ হরেক রকমের শীতকালীন সবজির চারা।

এসব শীতকালীন সবজি বাজারে তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আগাম বাজারে উঠায় সবজির দামও ভালো পাচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।

কক্সবাজার জেলার কৃষি ফসলের পাশাপাশি বাণিজ্যকভাবে মহেশখালী, সদর ও ঈদগাঁও উপজেলায় পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছ চাষাবাদ হয়ে আসছে। এখানকার বিভিন্ন জাতের মাছ ও পোনা বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিশেষকরে মহেশখালীর চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়।

সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চাঁন্দের পাড়া গ্রামের কৃষকরা জানান, প্রতিবছরের মতো এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আগাম সবজি চাষ করেছেন। সবজি চাষে তুলনামূলকভাবে মূলধনও কম লাগে। একটু বেশি পরিচর্যা করতে হয়। রোগবালাই দমনে সবজিতে কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করতে হয়। খুব কম সময়েই বিক্রি উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রায় দিনই বাজারে বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদাও মেটানো সম্ভব হয়। জমিতে সবজি থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের হাতে কম-বেশি টাকা থাকে। যা অন্য ফসলের বেলায় সম্ভব নয়। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো।

মহেশখালী উপজেলার মাছ চাষী আব্দুল আজিজ জানান, ৪ বিঘা জমির বিশাল পুকুরে প্রায় সারাবছর বিভিন্ন জাতের মাছ চাষাবাদ করে আসছে। এছাড়া মাছের পোনা উৎপাদন করে গত কয়েক বছরে জেলায় অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রতি বছর এখানকার চিংড়ি মাছ বিদেশে রপ্তানি হয়ে আসছে।

সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের কৃষক সালাউদ্দিন জানান, বর্তমানে মুলা জমিতে লাগিয়ে অনেক বেশি লাভবান হয়েছি। এরপর আলু লাগানো হবে। এরপর আবার মুলা হবে তারপর একই জমিতে করলা লাগানো হবে।

সদর উপজেলার আওতাধীন কলাতলী এলাকার কৃষক মোঃ ফরিদ জানান, বিগত সময়ে বিভিন্ন ঘুর্ণিঝড় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন আবার সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টায় রয়েছি। ইনশাআল্লাহ কয়েক দিনের মধ্যেই চাষাবাদে অনেক সফলতা অর্জন হবে।

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আশিস কুমার দে জানান, জেলায় কৃষকরা নানান ফসল চাষাবাদ করে থাকে। চলতি বছর শীতকালিন সবজি চাষ হয়েছে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। যা থেকে শীতকালীন সবজিতে হাজার মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাবে। সামনে শীতকালীন সবজির চাষ আরো বাড়বে। গত বছরের তুলনায় জমিতে সবজি চাষ জানুয়ারি মাসে আরো বাড়বে। কক্সবাজারে চাষকৃত সবজি বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়ে থাকে। এখানকার উৎপাদিত সবজিতে কৃষকরা অনেক বেশি লাভবান হবে বলে প্রত্যাশা করেন। এছাড়াও ১২ হেক্টর জমিতে এই পর্যন্ত বীজ তোলা হয়েছে। ২য় ধাপে কৃষকরা আবাদ করে আরো বেশি সুফল পাবে বলে মনে করেন তিনি।