দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান বাদল। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হলেন তিনি।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১১ টার দিকে স্থানীয় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম বেসরকারীভাবে আনুষ্ঠানিকতার সহিত এ ফলাফল ঘোষণা করেন।এসময় নবনির্বাচিত এমপি ফয়জুর রহমান বাদল ও তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মেয়র এডভোকেট শিব শংকর দাসসহ আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নবীনগরের সফল এমপি খ্যাত ‘জননেতা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ফয়জুর রহমান বাদল নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় এ আসনের সকল ভোটার ও ভোটের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন,’নবীনগর বাসীর সার্বিক ‘সামাজিক নিরাপত্তা’ প্রদান করাই হবে তাঁর প্রধান কাজ। নবীনগরের নিরপরাধ কোন ব্যক্তি যেন তাঁর আমলে অনর্থক কখনও ‘হয়রাণী’র শিকার না হন সে বিষয়েও তিনি উপস্থিত সসকলকে নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
তিনি এ সময় নবীনগরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনেরও সার্বিক সহযোগিতা চান। ঘোষিত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ফয়জুর রহমান বাদল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলহাজ্ব মোবারক হোসেন দুলু (লাঙ্গল প্রতীক) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৮ ভোট।
এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে নৌকাকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া ঢাকা মহানগর যুবলীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম মমিনুল হক সাঈদ (ঈগল) ৪৭১ ভোট, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের (ফুলের মালা) সৈয়দ জাফরুল কুদ্দুস ৭৭৬ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (একতারা) জামাল সরকার ৭৬২ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটে (মিনার) মো. মেহেদী হাসান ২ হাজার ৭৫৪ ভোট ও তৃণমূল বিএনপির (সোনালী আঁশ) হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৪৩৩ ভোট।
পুরো ফলাফল ঘোষণার সময় ইউএনও তানভীর শামীম জানান, এ আসনে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭ ভোটারের মধ্যে মোট ভোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৩ ভোট। এতে দেখা যায়, প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার হল ৪০ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এদিকে এ আসনে মোট ১৪৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহন হয়। অন্যদিকে রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ আসনের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও উপজেলার বাশারুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক অতর্কিত এক সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মাথা ও চোখের নীচে একাধিক সেলাই লেগেছে।
তিনি এখন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উপজেলার ২০/২২টি কেন্দ্র সরজমিনে ঘুরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হতে দেখা গেছে।






















