০২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগ, নবীনগরে দুই আ.লীগ নেতা জেলহাজতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১০ লাখ টাকাসহ একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগে গত রবিবার রাতে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন আপন ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা। তাদের গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে নবীনগর থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা গতকাল নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন উপজেলার বিটঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিটঘর ইউনিয়ন পরিষেদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন। অপরজন তার আপন ভাই এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কবির হোসেন আহমেদ। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। অপহরণের ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় তাদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম (৪৪) ও তার ভাই উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। গত রবিবার দুপুরে উপজেলার টিয়ারা বিটঘর সড়কের গলাকাটা সেতু এলাকা থেকে তাদের অপহরণের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাড়িতে দুজনকে আটকে রাখে নির্যাতন করা হয়।

মামলার এজাহার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম ও তার ভাই রবিবার দুপুরে তার ছোট ভাইকে ইটালিতে পাঠাতে একটি ব্যাগে ১০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য বিটঘর একটি ব্যাংকের শাখায় যাচ্ছিলেন। পথে টিয়ারা বিটঘর সড়কের গলাকাটা সেতুর কাছে আগে থেকে উঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দুই ভাইকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ ও মারধর করে। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাড়িতে দুই ভাইকে নিয়ে আটকে রাখে নির্যাতন চালানো হয়। এর এক পর্যায়ে ফরিদুল ইসলাম কৌশলে জাতীয় জরুরি সহায়তা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে পুরো ঘটনা জানান। পরে পুলিশ রাতে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নবীনগর থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই পুলিশ প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বাদী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী ওই দুই ভাইয়ের সঙ্গে আমার জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। এর জেরে ওরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের দুভাইকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা লুটে নেয়। আমরা লুট হওয়া টাকা এখন ফেরত চাই, অপহরণ ও নির্যাতনের বিচার চাই।’

এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার ও আদালতে চালান হওয়ায় তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

নবীনগর থানার ওসি মাহাবুব আলম গতকাল দুপুরে বলেন, ‘১৭ জনকে আসামি করে অপহরণ ও মারামারির অভিযোগে মামলা হয়েছে। টাকা উদ্ধারসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগ, নবীনগরে দুই আ.লীগ নেতা জেলহাজতে

প্রকাশিত : ০৬:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১০ লাখ টাকাসহ একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগে গত রবিবার রাতে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন আপন ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা। তাদের গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে নবীনগর থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা গতকাল নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন উপজেলার বিটঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিটঘর ইউনিয়ন পরিষেদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন। অপরজন তার আপন ভাই এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কবির হোসেন আহমেদ। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। অপহরণের ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় তাদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম (৪৪) ও তার ভাই উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। গত রবিবার দুপুরে উপজেলার টিয়ারা বিটঘর সড়কের গলাকাটা সেতু এলাকা থেকে তাদের অপহরণের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাড়িতে দুজনকে আটকে রাখে নির্যাতন করা হয়।

মামলার এজাহার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম ও তার ভাই রবিবার দুপুরে তার ছোট ভাইকে ইটালিতে পাঠাতে একটি ব্যাগে ১০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য বিটঘর একটি ব্যাংকের শাখায় যাচ্ছিলেন। পথে টিয়ারা বিটঘর সড়কের গলাকাটা সেতুর কাছে আগে থেকে উঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দুই ভাইকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ ও মারধর করে। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাড়িতে দুই ভাইকে নিয়ে আটকে রাখে নির্যাতন চালানো হয়। এর এক পর্যায়ে ফরিদুল ইসলাম কৌশলে জাতীয় জরুরি সহায়তা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে পুরো ঘটনা জানান। পরে পুলিশ রাতে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নবীনগর থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই পুলিশ প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বাদী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী ওই দুই ভাইয়ের সঙ্গে আমার জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। এর জেরে ওরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের দুভাইকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা লুটে নেয়। আমরা লুট হওয়া টাকা এখন ফেরত চাই, অপহরণ ও নির্যাতনের বিচার চাই।’

এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার ও আদালতে চালান হওয়ায় তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

নবীনগর থানার ওসি মাহাবুব আলম গতকাল দুপুরে বলেন, ‘১৭ জনকে আসামি করে অপহরণ ও মারামারির অভিযোগে মামলা হয়েছে। টাকা উদ্ধারসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ