১০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

আনোয়ারায় ওসি সোহেলের বিরুদ্ধে হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল আহমেদকে থানা থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইজিপি’স কমপ্লেইন সেলে আবেদন জানিয়েছে মামলা করতে গিয়ে ওসি কর্তৃক হয়রানীর শিকার হওয়া মোহাম্মদ ইদ্রিচ (৬৫) নামের এক ভুক্তভোগী। তিনি বর্তমানে পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান।

শনিবার (৪ এপ্রিল) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স-এ আইজিপি’স কমপ্লেইন সেল, অতিরিক্ত ডিআইজি (ডিএন্ডপিএস-১) বরাবরে পাঠানো ৫ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগ পত্রের অনুলিপি দেয়া হয় ডিআইজি চট্টগ্রাম, পুলিশ সুপার চট্টগ্রাম ও সহকারি পুলিশ সুপার আনোয়ারা সার্কেল বরাবরে।

মোহাম্মদ ইদ্রিচ এর করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , গত ৮ এপ্রিল বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তার বাড়ির পাশে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া থামাতে যান। এ সময় হাসান শরীফ (৪০), আবু সৈয়দ (৫০), জামির হোসেন (২৫), আশরাফ উদ্দিন, আব্দুর নুর (৩৫) আমাকে প্রথমে গালিগালাজ ও বেদম মারধর করে জখম করেন। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে।তার আর্তচিৎকারে পুত্র আশরাফুল ইসলাম মুন্না (২৪) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে চোখে জখম করে। পরে অন্য প্রতিবেশীরা এসে আমাদের পিতা-পুত্রকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করান। পরে আনোয়ারা থানায় গেলে তাৎক্ষনিকভাবে একজন এসআইকে ডেকে একটি অভিযোগ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসামিদের গ্রেপ্তারের নিদের্শ দেন এবং আমাকে বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন ওসি । একই সঙ্গে পরে এসে মামলার কপি নিয়ে যেতে বলেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার ওসি দালালদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে সমর্থ হন তার মামলার আসামীরা। তারা থানা থেকে ফিরে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে আমার বাড়িতে ফের চড়াও হয় এবং ইট পাথর নিক্ষেপ করে। অবস্থা বেগতিক দেখে পিছনে খালপাড় দিয়ে পালিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় উপস্থিত হন এবং ওসি সোহেল আহমেদকে তার মামলাটি রের্কড করে আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু ওসি সোহেল আহমেদ এই সময় রুদ্র মুর্তি ধারণ করে আমাকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন।

গালমন্দের এক পর্যায়ে আমাকে প্রশ্ন করেন, “শালা বুড়া এতরাতে কেন থানায় এসে বিরক্ত করছিস?’’ জবাবে, ভোক্তভোগী বৃদ্ধ মোহাম্মদ ইদ্রিচ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জানালে ওসি সোহেল “কিছুদিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে থাক’’ বলে তার কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

পরে নিরুপায় হয়ে ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে সিআর মামলা নং ২০৬/২০২৪ দায়ের করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৬ এর সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুন মামলাটি আমলে নেন এবং আনোয়ারা থানার ওসিকে মামলাটি রের্কড করার নির্দেশ দেন। এদিকে ৮ এপ্রিল বিকালের ঘটনায় ৯ এপ্রিল সকালে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করতে অন্ধ মেন্না মিয়ার দুই কন্যা তসলিমা আক্তার (২৫) ও ইসমো আক্তার (২৩) আনোয়ারা থানায় মামলা করতে যায়। কিন্তু ওসি মামলা নেয়নি। পরে ১০ এপ্রিল তসলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৬জনকে আসামী করে চট্টগ্রাম চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ( সিআর মামলা-২০৭/২০২৪) মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য আনোয়ারা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

এদিকে দুই মামলার আদালতের আদেশের কপি হাতে পেয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন ওসি সোহেল আহমেদ। তিনি এই সময় পুলিশের এক এসআইকে ডেকে চিৎকার করে বলেন, ‘শালা আদালতে গেল কেন? বুড়ারে ধরে নিয়ে আয়’। কিন্তু আমি বাড়িতে না থাকায় তাকে থানায় ধরে নিতে পারেনি পুলিশ।

ভুক্তভুগী মোহাম্মদ ইদ্রিচ বলেন, ওসি সোহেল আহমেদ প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আমার দায়ের করা মামলার আসামিদের থানায় ডেকে নিয়ে ঘটনার ৯ দিন পর মনোয়ারা বেগম (৪৫) নামে এক মহিলা বাদী করে একটি মামলা নেন ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় পাল্টা মামলা নেন। আমাকে নানাভাবে হুমকি দেন। আমি উধ্বর্তন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এদিকে ওসির যোগসাজসে সাজানো, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা থেকে ২৩ এপ্রিল মোহাম্মদ ইদ্রিচসহ মামলার সব আসামী চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পিপি, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুম চৌধুরী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দীন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট উম্মে সালমা চৌধুরীসহ একদল আইনজীবী বিজ্ঞ আদালতে আনোয়ারা থানার ওসি সোহেল আহমেদের অনিয়ম দুর্নীতি, তার অপেশাদার আচরণ এবং আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ঘটনার ৯দিন পর পাল্টা মামলাটি গ্রহণ করার দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল আহমেদ বলেন, ইদ্রিচ নামে আমি তো কাউকে চিনি না । অভিযোগ এর বিষয়ে আমি তো কিছু জানিনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

আনোয়ারায় ওসি সোহেলের বিরুদ্ধে হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৫:১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০২৪

চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল আহমেদকে থানা থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইজিপি’স কমপ্লেইন সেলে আবেদন জানিয়েছে মামলা করতে গিয়ে ওসি কর্তৃক হয়রানীর শিকার হওয়া মোহাম্মদ ইদ্রিচ (৬৫) নামের এক ভুক্তভোগী। তিনি বর্তমানে পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান।

শনিবার (৪ এপ্রিল) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স-এ আইজিপি’স কমপ্লেইন সেল, অতিরিক্ত ডিআইজি (ডিএন্ডপিএস-১) বরাবরে পাঠানো ৫ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগ পত্রের অনুলিপি দেয়া হয় ডিআইজি চট্টগ্রাম, পুলিশ সুপার চট্টগ্রাম ও সহকারি পুলিশ সুপার আনোয়ারা সার্কেল বরাবরে।

মোহাম্মদ ইদ্রিচ এর করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , গত ৮ এপ্রিল বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তার বাড়ির পাশে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া থামাতে যান। এ সময় হাসান শরীফ (৪০), আবু সৈয়দ (৫০), জামির হোসেন (২৫), আশরাফ উদ্দিন, আব্দুর নুর (৩৫) আমাকে প্রথমে গালিগালাজ ও বেদম মারধর করে জখম করেন। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে।তার আর্তচিৎকারে পুত্র আশরাফুল ইসলাম মুন্না (২৪) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে চোখে জখম করে। পরে অন্য প্রতিবেশীরা এসে আমাদের পিতা-পুত্রকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করান। পরে আনোয়ারা থানায় গেলে তাৎক্ষনিকভাবে একজন এসআইকে ডেকে একটি অভিযোগ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসামিদের গ্রেপ্তারের নিদের্শ দেন এবং আমাকে বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন ওসি । একই সঙ্গে পরে এসে মামলার কপি নিয়ে যেতে বলেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার ওসি দালালদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে সমর্থ হন তার মামলার আসামীরা। তারা থানা থেকে ফিরে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে আমার বাড়িতে ফের চড়াও হয় এবং ইট পাথর নিক্ষেপ করে। অবস্থা বেগতিক দেখে পিছনে খালপাড় দিয়ে পালিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় উপস্থিত হন এবং ওসি সোহেল আহমেদকে তার মামলাটি রের্কড করে আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু ওসি সোহেল আহমেদ এই সময় রুদ্র মুর্তি ধারণ করে আমাকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন।

গালমন্দের এক পর্যায়ে আমাকে প্রশ্ন করেন, “শালা বুড়া এতরাতে কেন থানায় এসে বিরক্ত করছিস?’’ জবাবে, ভোক্তভোগী বৃদ্ধ মোহাম্মদ ইদ্রিচ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জানালে ওসি সোহেল “কিছুদিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে থাক’’ বলে তার কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

পরে নিরুপায় হয়ে ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে সিআর মামলা নং ২০৬/২০২৪ দায়ের করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৬ এর সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুন মামলাটি আমলে নেন এবং আনোয়ারা থানার ওসিকে মামলাটি রের্কড করার নির্দেশ দেন। এদিকে ৮ এপ্রিল বিকালের ঘটনায় ৯ এপ্রিল সকালে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ করতে অন্ধ মেন্না মিয়ার দুই কন্যা তসলিমা আক্তার (২৫) ও ইসমো আক্তার (২৩) আনোয়ারা থানায় মামলা করতে যায়। কিন্তু ওসি মামলা নেয়নি। পরে ১০ এপ্রিল তসলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৬জনকে আসামী করে চট্টগ্রাম চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ( সিআর মামলা-২০৭/২০২৪) মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য আনোয়ারা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

এদিকে দুই মামলার আদালতের আদেশের কপি হাতে পেয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন ওসি সোহেল আহমেদ। তিনি এই সময় পুলিশের এক এসআইকে ডেকে চিৎকার করে বলেন, ‘শালা আদালতে গেল কেন? বুড়ারে ধরে নিয়ে আয়’। কিন্তু আমি বাড়িতে না থাকায় তাকে থানায় ধরে নিতে পারেনি পুলিশ।

ভুক্তভুগী মোহাম্মদ ইদ্রিচ বলেন, ওসি সোহেল আহমেদ প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আমার দায়ের করা মামলার আসামিদের থানায় ডেকে নিয়ে ঘটনার ৯ দিন পর মনোয়ারা বেগম (৪৫) নামে এক মহিলা বাদী করে একটি মামলা নেন ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় পাল্টা মামলা নেন। আমাকে নানাভাবে হুমকি দেন। আমি উধ্বর্তন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এদিকে ওসির যোগসাজসে সাজানো, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা থেকে ২৩ এপ্রিল মোহাম্মদ ইদ্রিচসহ মামলার সব আসামী চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পিপি, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুম চৌধুরী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দীন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট উম্মে সালমা চৌধুরীসহ একদল আইনজীবী বিজ্ঞ আদালতে আনোয়ারা থানার ওসি সোহেল আহমেদের অনিয়ম দুর্নীতি, তার অপেশাদার আচরণ এবং আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ঘটনার ৯দিন পর পাল্টা মামলাটি গ্রহণ করার দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল আহমেদ বলেন, ইদ্রিচ নামে আমি তো কাউকে চিনি না । অভিযোগ এর বিষয়ে আমি তো কিছু জানিনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ