০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

চট্টগ্রামে প্রার্থীকে জেতাতে টাকা দিচ্ছেন আ.লীগ নেতা

টাকা উড়ছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। পছন্দের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহেদুল হককে হেলিকপ্টার প্রতীকে ভোট দিতে ঘরে ঘরে গিয়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বোয়ালখালী আমুচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আল নোমানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি টাকা বিতরণের এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, প্রচারণার শেষের দিকে এসে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে জয় ছিনিয়ে নিতে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন আ.লীগ নেতা আব্দুল আল নোমানের নেতাকর্মীরা। আর টাকা দিচ্ছেন হাতে হাতে। এমনকি খোদ আব্দুল আল নোমান গণসংযোগ করে টাকা দিচ্ছেন।

গত ২৬ মে সকালে আমুচিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় আ.লীগ নেতা এক নারীর কাছে জানতে চান তিনি এখানকার ভোটার কি না। প্রতি উত্তরে ওই নারী জানান তিনি এখানকার স্থানীয় ভোটার। এ কথা বলার পরই নোমানকে নতুন টাকার বান্ডেল থেকে ওই নারীকে টাকা দিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণার শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরীর সমর্থক ছিলেন নোমান। পরে তিনি জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ব্যবসায়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ জাহেদুল হকের হেলিকম্পটার প্রতীকে প্রচারণা আর গণসংযোগ চালায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমুচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আল নোমান বলেন, আমি কোনো ভোটারকে টাকা দেইনি। দৈনন্দিন জীবনে অনেককেই টাকা দিচ্ছি। কোনটা কিসের টাকা আমি জানি না। আমার কোনো কর্মীকে দিচ্ছি কি না বা চা-নাস্তা খেতে দিচ্ছি কি না তা আমাকে ভিডিও দেখালেই বলতে পারবো।

প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকালী রিটার্নিং কর্মকর্তা মইনুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এতে কিছু লোকজনকে হেলিকম্পটার প্রতীকে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও টাকা বিলি করতে দেখা গেছে। এটা অবশ্যই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন আচরণবিধি ১৭ (গ) কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজৗনতিক দল অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে ভোটারদের কোনোপ্রকার উপহার বা বকশিশ প্রদান করতে পারবে না। এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করা হবে। কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থীকে শোকজ করা হবে।শোকদের জবাব অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৬ষ্ঠ ধাপে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছেন সাতজন। কিন্তু ভোটের মাঠে জোরেসোরে আলোচনায় রয়েছেন চারজন। তারা হলেন হেলিকপ্টার প্রতীকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাহেদুল হক, মোটর সাইকেল প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, আনারস প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মো. শফিক ও দোয়াত কলম প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম (রাজা মিয়া)। প্রতীক পেয়েই তারা ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় তারা ছুটছেন দিনরাত এক করে। নির্বাচনের দলীয় কোনো প্রার্থী না দিলেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা হঠাৎ মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাদের মতাদর্শের প্রার্থীকে জেতাতে। নীরব ভোট বিপ্লবে এমন অভিযোগ উঠেছে এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে প্রার্থীকে জেতাতে টাকা দিচ্ছেন আ.লীগ নেতা

প্রকাশিত : ১০:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

টাকা উড়ছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। পছন্দের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহেদুল হককে হেলিকপ্টার প্রতীকে ভোট দিতে ঘরে ঘরে গিয়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বোয়ালখালী আমুচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আল নোমানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি টাকা বিতরণের এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, প্রচারণার শেষের দিকে এসে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে জয় ছিনিয়ে নিতে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন আ.লীগ নেতা আব্দুল আল নোমানের নেতাকর্মীরা। আর টাকা দিচ্ছেন হাতে হাতে। এমনকি খোদ আব্দুল আল নোমান গণসংযোগ করে টাকা দিচ্ছেন।

গত ২৬ মে সকালে আমুচিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় আ.লীগ নেতা এক নারীর কাছে জানতে চান তিনি এখানকার ভোটার কি না। প্রতি উত্তরে ওই নারী জানান তিনি এখানকার স্থানীয় ভোটার। এ কথা বলার পরই নোমানকে নতুন টাকার বান্ডেল থেকে ওই নারীকে টাকা দিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণার শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরীর সমর্থক ছিলেন নোমান। পরে তিনি জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ব্যবসায়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ জাহেদুল হকের হেলিকম্পটার প্রতীকে প্রচারণা আর গণসংযোগ চালায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমুচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আল নোমান বলেন, আমি কোনো ভোটারকে টাকা দেইনি। দৈনন্দিন জীবনে অনেককেই টাকা দিচ্ছি। কোনটা কিসের টাকা আমি জানি না। আমার কোনো কর্মীকে দিচ্ছি কি না বা চা-নাস্তা খেতে দিচ্ছি কি না তা আমাকে ভিডিও দেখালেই বলতে পারবো।

প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকালী রিটার্নিং কর্মকর্তা মইনুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এতে কিছু লোকজনকে হেলিকম্পটার প্রতীকে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও টাকা বিলি করতে দেখা গেছে। এটা অবশ্যই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন আচরণবিধি ১৭ (গ) কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজৗনতিক দল অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে ভোটারদের কোনোপ্রকার উপহার বা বকশিশ প্রদান করতে পারবে না। এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করা হবে। কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থীকে শোকজ করা হবে।শোকদের জবাব অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৬ষ্ঠ ধাপে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছেন সাতজন। কিন্তু ভোটের মাঠে জোরেসোরে আলোচনায় রয়েছেন চারজন। তারা হলেন হেলিকপ্টার প্রতীকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাহেদুল হক, মোটর সাইকেল প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, আনারস প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মো. শফিক ও দোয়াত কলম প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম (রাজা মিয়া)। প্রতীক পেয়েই তারা ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় তারা ছুটছেন দিনরাত এক করে। নির্বাচনের দলীয় কোনো প্রার্থী না দিলেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা হঠাৎ মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাদের মতাদর্শের প্রার্থীকে জেতাতে। নীরব ভোট বিপ্লবে এমন অভিযোগ উঠেছে এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে।