নওগাঁ সদর হাসপাতালে মৌসুমী আক্তার (২২) নামে এক প্রসূতি ছয়টি সন্তান প্রসব করেছে। অকাল গর্ভপাতে ছয়টি মৃত সন্তান প্রসব করেছেন ওই প্রসূতি। দুই দফায় বাচ্চাগুলো স্বাভাবিক ভাবে প্রসব হয়। ছয়টির মধ্যে তিনটি মেয়ে ও তিনটি ছেলে।
গর্ভধারণের ৪ মাসের মধ্যেই শনিবার (২১ জুলাই) সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এই খবর পেয়ে হাসপাতালে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
গৃহবধূ মৌসুমি আক্তার শহরের খাস-নওগাঁ মহল্লার অটোরিকশা চালক রানা শেখের স্ত্রী।
সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভরোট্র কাঠেরডাঙ্গা গ্রামের ফজের আলীর মেয়ে মৌসুমীর সঙ্গে তার বিয়ে হয় রানা শেখের। কিন্তু তাদের কোনো সন্তান ছিল না। দীর্ঘ সময় পর মৌসুমি আক্তার গর্ভবর্তী হন। গত এক মাস আগে সদর হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম করে জানাতে পারেন তার গর্ভে ছয়টি বাচ্চা আছে।
এরপর থেকে গাইনী ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হঠাৎ করে গত শুক্রবার বিকেলে তার স্ত্রী মৌসুমী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সন্ধ্যার দিকে নওগাঁ শহরের খাস নওগাঁয় মৌসুমীর স্বামী রানার বাসায় একটি মৃত সন্তান প্রসব করে।
মৌসুমীর স্বামী রানা জানান, শুক্রবার (২০ জুলাই) সকালে মৌসুমি আক্তারের পেটে ব্যাথা শুরু হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাড়িতেই একটি মৃত সন্তান প্রসব করে। এরপর সারাদিন বাড়িতেই ছিলেন।
তিনি আরও জানান, এরপরই মৌসুমীকে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আজ শনিবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে আরো ৫টি মৃত সন্তান প্রসব করেন। সন্তানদের বয়স প্রায় ৪ মাস হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রসুতি এখন সুস্থ আছেন।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রওশন আরা খানম বলেন, পেটে একের অধিক বাচ্চা থাকাটা অস্বাভাবিক। তখন গর্ভবর্তীকে আরো বেশি বেশি সর্তক থাকতে হয়। কারণ এতে অকাল গর্ভপাত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
তিনি আরও বলেন, গত এক মাস আগেও আমার কাছে তারা এসেছিল। যেহেতু এটি প্রথম গর্ভবর্তী এবং বাচ্চার সংখ্যাও অধিক। তাই তাকে সাবধানে থাকার এবং বেশি বেশি যত্ন নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। বাচ্চার সংখ্যা অধিক হওয়ার কারণে গর্ভপাত হয়ে গেছে। ছয়টি বাচ্চাই মৃত হয়েছে। প্রতিটির ওজন প্রায় ৬০-৭০ গ্রাম।




















