দলীয় কাউন্সিলে বাধা দেবার অভিযোগে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ভিপি শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে জেলা বিএনপি। রবিবার (১২ জানুয়ারি) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এ আদেশ দেয়া হয়। তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করেছেন বহিষ্কৃত ওই নেতা।
আদেশে বলা হয়েছে, দলীয় শৃংঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি কোনোরুপ সম্মান না দেখিয়ে গত ১০ জানুয়ারি বেড়া পৌর কাউন্সিল বাধাগ্রস্ত ও ভন্ডুল করার লক্ষ্যে কাউন্সিল স্থলের পাশে নেতাকর্মী সহ ভিপি শামসুর রহমান অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন ও অশোভন আচরণ করেন। সে কারণে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডিপি শামসুর রহমানকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হলো। স্থায়ী বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেরণ করা হলো বলেও এ আদেশে বলা হয়।
বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার জানান, আদেশটি সত্য। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের জন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপিতে উচ্ছৃঙ্খল কারোর জায়গা নেই।
তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে ভিপি শামসুর রহমান বলেন, বেড়া পৌর সম্মেলনের দিন আমি সেখানে ছিলাম না। তাহলে কিভাবে কাউন্সিলে বাধা দিলাম? সাঁথিয়ায় একটা মিছিল হয়েছে বলে শুনেছি, এ মিছিলেও আমি ছিলাম না। অথচ মিথ্যা অভিযোগ দেখিয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব ও মাসুদ খন্দকার নাটকীয় বহিষ্কারাদেশ দিয়েছেন।
এ আদেশ কোনো নেতাকর্মী মানেন না জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে তাদের জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কোত্থাও সুশৃঙ্খলভাবে দলের জন্য কল্যাণকর একটি কমিটি ও সিদ্ধান্ত দিতে পারেন নাই। উল্টো অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পছন্দের লোকদের নিয়ে পকেট কমিটি করেছেন। আ.লীগের লোকদেরকেও এসব কমিটিতে জায়গা দিয়েছেন। এতে দলে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে। ত্যাগীদের অবমূল্যায়নের কারণে তাদের সিদ্ধান্তকে নেতাকর্মীরা প্রত্যাখান করেছেন। এসবের জন্য আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বহিষ্কারাদেশ দিয়েছেন। বহিষ্কার করতে হলে দলীয় সভা ও রেজুলেশনে সিদ্ধান্ত হয়। এসবের কিছুই না করে দুজনে ব্যক্তিগতভাবে এ আদেশ দিয়েছেন। এ আদেশ মানেন না বলে জানান এ বহিষ্কৃত নেতা।




















