পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ৩২টি মামলা রাজনৈতিক মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রবিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মামলাগুলোকে রাজনৈতিক মামলায় তালিকাভূক্ত না করাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দাবি করে ঈশ্বরদী বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে ঈশ্বরদীতে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন তারা। এ সময় তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা, সন্ত্রাস বিরোধী আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে তৎকালীন সরকার। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর অন্তবর্তী সরকার আওয়ামীলীগ আমলে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হিসেবে নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নিলে বর্তমান জেলা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে মামলার নথি জমা দেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু জেলা বিএনপি পরিকল্পিতভাবে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক নেতাকর্মীদের ৩২ টি মামলার নথি রাজনৈতিক মামলা তালিকায় সংযুক্ত করেনি। এসময় অবিলম্বে মামলাগুলো রাজনৈতিক তালিকায় নথিভুক্ত করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল বলেন, তিন দফায় আমরা জেলা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে মামলার তালিকা দিয়েছি। অথচ এর একটি মামলাও রাজনৈতিক মামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়নি। আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে আমাদের বেগ হতে হচ্ছে। আমরা শঙ্কায় আছি, কারণ এগুলো আমাদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুদ্দোহা পিন্টু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর রহমান স্বপন, আনোয়ার হোসেন জনি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল সহ অনেকেই বক্তব্য দেন। দফায় দফায় নথি জমা দেবার পরেও তালিকাভুক্ত না হওয়াকে সন্দেহ ও ষড়যন্ত্রমূলক আশঙ্কা করে তারা বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা আছে। কিন্তু সেটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত হবার সুযোগ নেই। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মাসুদ খন্দকার সেটিই করছেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তারা এ মামলাগুলো তালিকাভূক্ত করেননি। শুধু এ বিষয়ে নয়, সকল ক্ষেত্রেই হাবিবুর রহমান হাবিব ঈশ্বরদীর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন ও বৈষম্য তৈরি করেন। এসময় এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবার আহ্বান জানান ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা।
তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা করেছেন জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, নয়হি দিলে তালিকাভূক্ত হবার কথা। ভুলবশত না হয়ে থাকলে সেটি আমরা আবার দেখবো, তালিকাভূক্তের ব্যবস্থা করবো। এখানে ষড়যন্ত্রের কিছু নেই।
ডিএস///




















