০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশী-বিদেশী ষড়েযন্ত্রে বন্ধের পথে জাহাজ ভাঙা শিল্প

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা দেশের একমাত্র শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো বন্ধ হওয়ার পথে। দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে জাহাজ ভাঙা শিল্প। শিল্পটি বন্ধ হলে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার। পাশাপাশি এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ৩০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বেন।

জানা যায়, জাহাজ ভাঙা শিল্পের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সীতাকুণ্ড উপকূলজুড়েই গড়ে উঠেছে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড। সীতাকুণ্ডের ২০ কিলোমিটার উপকূলে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের সংখ্যা ১৮০ টি হলেও বর্তমানে সচল রয়েছে ২২টি। বিভিন্ন দেশের পরিত্যক্ত জাহাজ ভীড়ছে এখানে। আর এই জাহাজ ভাঙা শিল্পে হাড়ভাঙ্গা খাঁটুনি খেটেই জীবন চালাচ্ছেন লক্ষাধিক শ্রমিক।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বিদেশী প্রভুদের যোগসাজশে জাহাজ ভাঙা শিল্পকে ধ্বংসের ধারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকা সম্ভাবনাময় জাহাজ ভাঙা শিল্পটি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থাও পরিবেশের দোহাই দিয়ে বিদেশী প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেছে। যেখানে ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিশ্বে এই জাহাজ ভাঙা শিল্প প্রথম স্থানে ছিল এবং এই শিল্প থেকে ১২শ থেকে ১৫শ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশের নাম কোন অবস্থানের মধ্যেই নেই।

বিগত সরকারের একমাত্র পলিসিগত সিদ্ধান্তের কারণে ১৫৮টি শিপ ইয়ার্ড আজ বন্ধ হয়ে গেছে। আওয়ামী সরকারের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দেশের একমাত্র এই জাহাজ ভাঙা শিল্প অনেকটাই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। এই শিল্পের সাথে জড়িত অধিকাংশ শিপ ইয়ার্ড ব্যবসায়ী ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়ে দেউলিয়া আবার অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন। কারণ জাহাজ আমদানীতে এলসি করতে ব্যাংকের কঠিন শর্ত, বিশ্ব ব্যাংকের নানাভাবে চাপ সৃষ্টি, শ্রমিকদের উস্কানি, সীতাকুণ্ড থেকে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড সরিয়ে ফেলাসহ নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পুরাতন জাহাজের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা জাহাজ আমদানী করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে ছোট ব্যবসায়ীরা ঝরে পড়েছেন। তারা ইয়ার্ডগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। বড় মাপের ব্যবসায়ীরা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে লোকসান দিয়ে হলেও স্ক্র্যাপ জাহাজ এনে কাটছেন। তবে এই সংখ্যা হাতেগুনা কয়েকটি। যারা বর্তমানে ইয়ার্ড চালু রেখেছেন তাদের অনেকেরই রোলিং মিল রয়েছে। স্ক্র্যাপ বিক্রি চেয়ে রড তৈরী করে বিক্রি করায় তাদের মূল লক্ষ্য।

এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সীতাকুণ্ডে ১৮০টি শিপ ইয়ার্ড রয়েছে। সবগুলো ইয়ার্ড চালু থাকলে প্রতি বছর সরকার ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অধিক রাজস্ব পেতো সরকার। প্রতি বছর সীতাকুণ্ডে ২০০ থেকে ২৫০টি জাহাজ ভাঙা হয়। এই শিল্প থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টন স্টিল রিসাইক্লিং করা হয়। দেশের ৪৫০ স্টিল রি-রোলিং মিলের মধ্যে ৮০ ভাগই ছোট আকারের এবং তাদের কাঁচামালের জন্য এই শিল্পের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। এই শিল্পে স্থবিরতা শুরু হলে রডের দামও বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবসায়ীরা জানানা, এই শিল্পকে ধ্বংস করতে গত কয়েক বছর ধরে একটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র উঠে পড়ে লেগেছে। এই চক্রান্তের কারণে গত বছর শিপ ব্রেকিং ব্যবসার কার্যক্রম কয়েক মাস বন্ধ ছিল। এ ঘটনার পর বিভিন্ন ধরনের কঠিন শর্ত পূরণ করে যখন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো তে জাহাজ ভাঙা শুরু হয়, তখন চক্রটি অন্য একটি ইস্যু নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

শিপ ইয়ার্ডের মালিকরা জানান, নানান ষড়যন্ত্রে শিপ ব্রেকিং ব্যবসা ধ্বংসের পথে। এলসি খুলতে ব্যাংকের কঠিন শর্ত, স্ক্র্যাপ জাহাজের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবেশ-মানবাধিকার সংগঠনের নামে শ্রমিকদের উস্কানি, মালিকদের হয়রানি, বিদেশী স্ক্র্যাপ জাহাজ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে জাহাজ বিক্রি করতে অনীহা প্রকাশ এবং দেশে এই ব্যবসা বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টি এ সবই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বহিপ্রকাশ বলে তারা মনে করেন।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের (বিএসবিএ) সদস্য লোকমান হোসেন বলেন, অধিকাংশ শিপ ইয়ার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ৩০ লাখ লোক বেকার হয়ে পড়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে অধিকাংশের বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে মাত্র পাঁচটি শিপইয়ার্ডকে গ্রিন শিপ ইয়ার্ডে রূপান্তর হয়েছে। তিনি আরো বলেন একটি গ্রিন শিপইয়ার্ড করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। সরকারীভাবে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা দিলে এই শিল্পের সাথে জড়িত ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে এবং এই শিল্পে বিকাশ ঘটবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

১২ ফেব্রুয়া‌রির নির্বাচন স্বাধীনতা রক্ষা করার নির্বাচন

দেশী-বিদেশী ষড়েযন্ত্রে বন্ধের পথে জাহাজ ভাঙা শিল্প

প্রকাশিত : ০৫:২০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা দেশের একমাত্র শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো বন্ধ হওয়ার পথে। দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে জাহাজ ভাঙা শিল্প। শিল্পটি বন্ধ হলে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার। পাশাপাশি এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ৩০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বেন।

জানা যায়, জাহাজ ভাঙা শিল্পের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সীতাকুণ্ড উপকূলজুড়েই গড়ে উঠেছে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড। সীতাকুণ্ডের ২০ কিলোমিটার উপকূলে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের সংখ্যা ১৮০ টি হলেও বর্তমানে সচল রয়েছে ২২টি। বিভিন্ন দেশের পরিত্যক্ত জাহাজ ভীড়ছে এখানে। আর এই জাহাজ ভাঙা শিল্পে হাড়ভাঙ্গা খাঁটুনি খেটেই জীবন চালাচ্ছেন লক্ষাধিক শ্রমিক।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বিদেশী প্রভুদের যোগসাজশে জাহাজ ভাঙা শিল্পকে ধ্বংসের ধারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকা সম্ভাবনাময় জাহাজ ভাঙা শিল্পটি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থাও পরিবেশের দোহাই দিয়ে বিদেশী প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেছে। যেখানে ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিশ্বে এই জাহাজ ভাঙা শিল্প প্রথম স্থানে ছিল এবং এই শিল্প থেকে ১২শ থেকে ১৫শ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশের নাম কোন অবস্থানের মধ্যেই নেই।

বিগত সরকারের একমাত্র পলিসিগত সিদ্ধান্তের কারণে ১৫৮টি শিপ ইয়ার্ড আজ বন্ধ হয়ে গেছে। আওয়ামী সরকারের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দেশের একমাত্র এই জাহাজ ভাঙা শিল্প অনেকটাই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। এই শিল্পের সাথে জড়িত অধিকাংশ শিপ ইয়ার্ড ব্যবসায়ী ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়ে দেউলিয়া আবার অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন। কারণ জাহাজ আমদানীতে এলসি করতে ব্যাংকের কঠিন শর্ত, বিশ্ব ব্যাংকের নানাভাবে চাপ সৃষ্টি, শ্রমিকদের উস্কানি, সীতাকুণ্ড থেকে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড সরিয়ে ফেলাসহ নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পুরাতন জাহাজের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা জাহাজ আমদানী করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে ছোট ব্যবসায়ীরা ঝরে পড়েছেন। তারা ইয়ার্ডগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। বড় মাপের ব্যবসায়ীরা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে লোকসান দিয়ে হলেও স্ক্র্যাপ জাহাজ এনে কাটছেন। তবে এই সংখ্যা হাতেগুনা কয়েকটি। যারা বর্তমানে ইয়ার্ড চালু রেখেছেন তাদের অনেকেরই রোলিং মিল রয়েছে। স্ক্র্যাপ বিক্রি চেয়ে রড তৈরী করে বিক্রি করায় তাদের মূল লক্ষ্য।

এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সীতাকুণ্ডে ১৮০টি শিপ ইয়ার্ড রয়েছে। সবগুলো ইয়ার্ড চালু থাকলে প্রতি বছর সরকার ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অধিক রাজস্ব পেতো সরকার। প্রতি বছর সীতাকুণ্ডে ২০০ থেকে ২৫০টি জাহাজ ভাঙা হয়। এই শিল্প থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টন স্টিল রিসাইক্লিং করা হয়। দেশের ৪৫০ স্টিল রি-রোলিং মিলের মধ্যে ৮০ ভাগই ছোট আকারের এবং তাদের কাঁচামালের জন্য এই শিল্পের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। এই শিল্পে স্থবিরতা শুরু হলে রডের দামও বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবসায়ীরা জানানা, এই শিল্পকে ধ্বংস করতে গত কয়েক বছর ধরে একটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র উঠে পড়ে লেগেছে। এই চক্রান্তের কারণে গত বছর শিপ ব্রেকিং ব্যবসার কার্যক্রম কয়েক মাস বন্ধ ছিল। এ ঘটনার পর বিভিন্ন ধরনের কঠিন শর্ত পূরণ করে যখন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলো তে জাহাজ ভাঙা শুরু হয়, তখন চক্রটি অন্য একটি ইস্যু নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

শিপ ইয়ার্ডের মালিকরা জানান, নানান ষড়যন্ত্রে শিপ ব্রেকিং ব্যবসা ধ্বংসের পথে। এলসি খুলতে ব্যাংকের কঠিন শর্ত, স্ক্র্যাপ জাহাজের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবেশ-মানবাধিকার সংগঠনের নামে শ্রমিকদের উস্কানি, মালিকদের হয়রানি, বিদেশী স্ক্র্যাপ জাহাজ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে জাহাজ বিক্রি করতে অনীহা প্রকাশ এবং দেশে এই ব্যবসা বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টি এ সবই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বহিপ্রকাশ বলে তারা মনে করেন।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের (বিএসবিএ) সদস্য লোকমান হোসেন বলেন, অধিকাংশ শিপ ইয়ার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ৩০ লাখ লোক বেকার হয়ে পড়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে অধিকাংশের বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে মাত্র পাঁচটি শিপইয়ার্ডকে গ্রিন শিপ ইয়ার্ডে রূপান্তর হয়েছে। তিনি আরো বলেন একটি গ্রিন শিপইয়ার্ড করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। সরকারীভাবে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা দিলে এই শিল্পের সাথে জড়িত ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে এবং এই শিল্পে বিকাশ ঘটবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস