০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৬ মাস স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষিকা,তবুও চলছে হাজিরা বেতন-ভাতা

ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়নের ‘১৮৬নং চর আইচা ৮নং ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া বেগম ৬ মাস ধরে লাপাত্তা আছেন। বিদ্যালয়ে না আসলেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিত তিনি,পাচ্ছেন বেতন-ভাতাও। স্কুলে না আসলেও অদৃশ্য ভাবে চলছে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর। এ নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুত্রে জানাযায়,তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জানাযায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়ে আসেন না চর আইচা ৮ নং ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া বেগম। তার স্বামী আবদুল মান্নান জাতীয় পার্টিও সাবেক উপজেলার সভাপতি ও স্বামী ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাধে তিনি আওয়ামীলীগের নেতাদের বলয়ে থেকে সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি করেছেন রাজনীতিও। স্বামী-স্ত্রী মিলে ওই এলাকায় প্রভাবখাটিয়ে নানান অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নানান অনিয়মের কারনে সরকার পতনের পরপরই অনুস্থ্যতার অজুহাতে ১ মাসের ছুটি নিয়ে বিদ্যালয় ছেড়েন তিনি। দীর্ঘ ৬ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও একদিনও বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি তাকে। এনিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানাযায়, দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়নের ‘১৮৬নং চর আইচা ৮নং ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় দুইশতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য সরকারী বিধি মতে ৫ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষিকাসহ শিক্ষক ছিলেন ৪ জন। প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারনে ৪ শিক্ষকের পরিবর্তে শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। এতে ওই বিদ্যালয়ে দুইশতাধিক শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘœ দেখা দেয়। এসব কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠাদানের কথা ভাবে ওই বিদ্যালয়ের খসড়া গেজেট ভুক্ত প্রধান শিক্ষক নেসার উদ্দিন জিহাদী সহ ৫ জন শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান করাচ্ছেন। জানা যায়, খসড়া গেজেট ভুক্ত প্রধান শিক্ষক নেসার উদ্দিন জিহাদী সহ ৫ জন শিক্ষককে ২০১৬ সালে স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া গংরা বের করে দিয়েছেন।

ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সাদিয়া বেগম, মেহেদী হাসানসহ অপর শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক মাস যাবত আমাদের স্কুলে প্রধান ম্যাডামকে দেখিনা। স্কুল অনেক শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক নাই। তাই তাদের ঠিক মতো ক্লাস হচ্ছেনা। প্রায় ৬ মাসের বেশি স্কুলে আসেন না প্রধান শিক্ষক। তিনি কোথায় আছেন তা আমরা জানিনা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হোসেন জানান,বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া বেগমসহ ৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। ৫ আষ্টের পর প্রধান শিক্ষক রাবিয়া বেগম এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদ্যালয় ছাড়েন । এরপর মাঝে মধ্যে তিনি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করছেন এবং অফিসিয়াল কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। কিন্ত তিনি কোথায় আছেন এবং কবে নাগাদ স্কুলে ফিরবেন এ বিষয়ে কোন জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছেন না। তার এমন রহস্যজনক অনুপস্থিতির ফলে বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকান্ড ব্যহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই সহকারী শিক্ষক।

ওই বিদ্যালয়ের জমিদাতা আবদুল হাকিম মোল্লা জানান, প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়ার স্বামী ক্ষমতার প্রভাবখাটিয়ে বহুবছর যাবত ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। স্ত্রী প্রধান শিক্ষক আর স্বামী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ায় লুটপাট করেছেন বিদ্যালয়ের বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা। সরকার প্রদত্ত স্কুল সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দিলেও কোন কাজ না করেই ওইসব বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলার নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে ওই বিদ্যালয়ে রামরাজত্ব কায়েম করে বহুবছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে বহাল তবিয়তে ছিলেন। এবং তিনি বিদ্যালয়ে না গিয়েও তুলছিলেন নিয়মিত বেতন-ভাত। তার বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানালে তারা প্রভাবশালী স্বামীর হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন অনেকেই।

প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া বেগম জানান, আমি অসুস্থ্য থাকায় ছুটিতে আছি তাই বিদ্যালয়ে নেই। তবে কতোদিনের ছুটিতে আছেন এমন প্রশ্নের কোন জাবাব তিনি দিতে রাজি হননি। তিনি অসুস্থ কথা বলেতে পাববেনা বলে ফোন রেখে দেন।

ওই বিদ্যালয়ে দ্বায়িত্বে থাকা ক্লাস্টার সহকারী শিক্ষা অফিসার, মো. শাহাদাত হোসেন জানান, প্রথমে তিনি অসুস্থ্য জনিত কারনে ১ মাসের ছুটি নেন। পরে তার ওই বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গেলে জানাতে পারি তিনি কয়েক মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহ. তাশেম উদ্দিন জানান, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অসুস্থতার কথা বলে এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। তাকে অনুপস্থিতির কারণ ব্যখ্যা করতে নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসানা শারমিন মিথি জানান, বিষয়টি জেনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ডিএস..

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৬ মাস স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষিকা,তবুও চলছে হাজিরা বেতন-ভাতা

প্রকাশিত : ০৬:০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়নের ‘১৮৬নং চর আইচা ৮নং ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া বেগম ৬ মাস ধরে লাপাত্তা আছেন। বিদ্যালয়ে না আসলেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিত তিনি,পাচ্ছেন বেতন-ভাতাও। স্কুলে না আসলেও অদৃশ্য ভাবে চলছে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর। এ নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুত্রে জানাযায়,তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জানাযায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়ে আসেন না চর আইচা ৮ নং ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া বেগম। তার স্বামী আবদুল মান্নান জাতীয় পার্টিও সাবেক উপজেলার সভাপতি ও স্বামী ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাধে তিনি আওয়ামীলীগের নেতাদের বলয়ে থেকে সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি করেছেন রাজনীতিও। স্বামী-স্ত্রী মিলে ওই এলাকায় প্রভাবখাটিয়ে নানান অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নানান অনিয়মের কারনে সরকার পতনের পরপরই অনুস্থ্যতার অজুহাতে ১ মাসের ছুটি নিয়ে বিদ্যালয় ছেড়েন তিনি। দীর্ঘ ৬ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও একদিনও বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি তাকে। এনিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানাযায়, দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়নের ‘১৮৬নং চর আইচা ৮নং ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় দুইশতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য সরকারী বিধি মতে ৫ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষিকাসহ শিক্ষক ছিলেন ৪ জন। প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারনে ৪ শিক্ষকের পরিবর্তে শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। এতে ওই বিদ্যালয়ে দুইশতাধিক শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘœ দেখা দেয়। এসব কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠাদানের কথা ভাবে ওই বিদ্যালয়ের খসড়া গেজেট ভুক্ত প্রধান শিক্ষক নেসার উদ্দিন জিহাদী সহ ৫ জন শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান করাচ্ছেন। জানা যায়, খসড়া গেজেট ভুক্ত প্রধান শিক্ষক নেসার উদ্দিন জিহাদী সহ ৫ জন শিক্ষককে ২০১৬ সালে স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া গংরা বের করে দিয়েছেন।

ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সাদিয়া বেগম, মেহেদী হাসানসহ অপর শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক মাস যাবত আমাদের স্কুলে প্রধান ম্যাডামকে দেখিনা। স্কুল অনেক শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক নাই। তাই তাদের ঠিক মতো ক্লাস হচ্ছেনা। প্রায় ৬ মাসের বেশি স্কুলে আসেন না প্রধান শিক্ষক। তিনি কোথায় আছেন তা আমরা জানিনা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হোসেন জানান,বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া বেগমসহ ৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। ৫ আষ্টের পর প্রধান শিক্ষক রাবিয়া বেগম এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদ্যালয় ছাড়েন । এরপর মাঝে মধ্যে তিনি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করছেন এবং অফিসিয়াল কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। কিন্ত তিনি কোথায় আছেন এবং কবে নাগাদ স্কুলে ফিরবেন এ বিষয়ে কোন জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছেন না। তার এমন রহস্যজনক অনুপস্থিতির ফলে বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকান্ড ব্যহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই সহকারী শিক্ষক।

ওই বিদ্যালয়ের জমিদাতা আবদুল হাকিম মোল্লা জানান, প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়ার স্বামী ক্ষমতার প্রভাবখাটিয়ে বহুবছর যাবত ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। স্ত্রী প্রধান শিক্ষক আর স্বামী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ায় লুটপাট করেছেন বিদ্যালয়ের বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা। সরকার প্রদত্ত স্কুল সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দিলেও কোন কাজ না করেই ওইসব বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলার নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে ওই বিদ্যালয়ে রামরাজত্ব কায়েম করে বহুবছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে বহাল তবিয়তে ছিলেন। এবং তিনি বিদ্যালয়ে না গিয়েও তুলছিলেন নিয়মিত বেতন-ভাত। তার বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানালে তারা প্রভাবশালী স্বামীর হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন অনেকেই।

প্রধান শিক্ষিকা রাবিয়া বেগম জানান, আমি অসুস্থ্য থাকায় ছুটিতে আছি তাই বিদ্যালয়ে নেই। তবে কতোদিনের ছুটিতে আছেন এমন প্রশ্নের কোন জাবাব তিনি দিতে রাজি হননি। তিনি অসুস্থ কথা বলেতে পাববেনা বলে ফোন রেখে দেন।

ওই বিদ্যালয়ে দ্বায়িত্বে থাকা ক্লাস্টার সহকারী শিক্ষা অফিসার, মো. শাহাদাত হোসেন জানান, প্রথমে তিনি অসুস্থ্য জনিত কারনে ১ মাসের ছুটি নেন। পরে তার ওই বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গেলে জানাতে পারি তিনি কয়েক মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহ. তাশেম উদ্দিন জানান, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অসুস্থতার কথা বলে এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। তাকে অনুপস্থিতির কারণ ব্যখ্যা করতে নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসানা শারমিন মিথি জানান, বিষয়টি জেনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ডিএস..