০৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সীতাকুণ্ডে হরহামেশাই চলছে সওজ’র জায়গা দখল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক ও জনপথের (সওজ’র) জায়গা দখলে মেতে ওঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্র৷ মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাত বদল হয়ে দখলের মহোৎসবে মেতে ওঠে ওই মহল৷ কেউ নিজে কেউবা ভাড়া দিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। সড়ক ও জনপথের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ এ ব্যাপারে নিরব৷ ফলে হরহামেশাই চলছে সড়কের পাশে জায়গা দখল।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার পৌরসদর, বড় দারোগারহাট, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী, সলিমপুর, বাড়বকুণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে অবস্থিত পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দোকানপাট নির্মাণের নামে সরকারী জায়গা হরিলুট চলছে।
জানা যায়, সওজ’র একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এবং স্থানীয় দলীয় প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় সরকারী জমি দখলের এই মহোৎসবের পাশপাশি চলে আসছে বিশাল অঙ্কের আর্থিক বাণিজ্যও। যার পরিমাণ কোটি টাকা। এতে করে প্রতিনিয়ত সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানজট লেগে থাকে প্রকট আকারে। যানজট লেগে থাকার কারণে যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন বাজার কমিটির বেশীর ভাগ নেতৃবৃন্দদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সরকারী জায়গায় গড়ে তোলা এসব দোকানের বৈধতা দিচ্ছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বেশ কয়েকজন অবৈধ দখলদার জানান, প্রতিটি দোকানের পজিশন ফিরে পেতে মাথাপিছু এক থেকে দেড় লাখ টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের।
সীতাকুণ্ড পৌরসভা সংলগ্ন খালের উপর বিল্ডিং করে বিভিন্ন মার্কেট নির্মাণ করছে একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। বাজার জুড়ে চলা এই দখলের প্রতিযোগীতায় যাত্রী ছাউনিতেও হয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশের পৌরসদরস্থ বাস কাউন্টার সংলগ্ন সড়কের পূর্বপাশে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারী খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে দোকান নির্মাণ করছেন গনেশ নামে এক ব্যক্তি।
স্থানীয় বাসিন্দা গনেশ নামে ঔই ব্যক্তি একাই ৫টি ঘর নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দিয়ে মোটা অংকের মাসিক ভাড়া উত্তোলন করছেন। তিনি সরকারের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দোকানগুলো নির্মাণ শুরু করেন।
এক ভাড়াটিয়া দোকানী বলেন, জায়গাটি সড়ক ও জনপথ কিংবা ব্যক্তি মালিকা কিনা জানিনা। এখানে আমাদের একজন জমিদার আছে গনেশ। ওনার কাছ থেকে দোকানটি দুই লক্ষ টাকা সেলামী ও মাসে ২৫০০ টাকা করে ভাড়ার বিনিময়ে নিয়েছি।
স্থানীয়রা জানান, এটা যেহেতু সড়ক ও জনপথের অধিনে আমরা চাই এসব জায়গাগুলো খোলা-মেলা থাকুক। এখানে যেন দোকানপাড় না করে। দূর-দূরান্ত থেকে যেসব পর্যটক আসে এরা যেন নিরাপদস্থানে দাঁড়িয়ে রাস্তায় গাড়ীতে ওঠতে পারে আমরা সেটা চাই। রাস্তার পাশে অবৈধভাবে দোকান গড়ে ওঠায় দুর্ঘটনার সম্ভবনা আছে। সড়কের পাশে জায়গা দখল করে দোকান গড়ে তুলায় এখন গাড়ীগুলো রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে থাকে যার কারণে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। আমরা এটার প্রতিকার চাই। আমরা চাই এসব দখল বাণিজ্যগুলো বন্ধ হোক।
এবিষয়ে জানতে চাইলে গনেশ বলেন, সড়কের পাশে দোকান করতে কেউ ত অনুমোদন নেয় নাই। তাই আমিও নি নাই। দোকান নির্মাণ করতেছি যে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ অবগত আছে।
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সওজ সড়ক উপ-বিভাগ সীতাকুণ্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান বলেন, এবিষয়ে আমরা নোটিশ করেছি ইউএনও মহোদয়ের সাথে আমাদের আলাপ হয়েছে। আমরা আগামী সপ্তাহে একটা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা আছে। আমাদের তো জনবলের খুব সল্পতা আছে আর আমাদের বিভিন্ন জায়গায় কাজ চলতেছে। সব কিছু মিলিয়ে সময় বের করতে আমাদের একটু দেরি হচ্ছে। আমাদের অনেক জায়গায় এরকম সমস্যা আছে। এ অভিযানগুলো করতে হলে ডিসি অফিস থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে হয়।
উল্লেখ্য যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ লেনে উন্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে সমীক্ষার কাজও চলমান। কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারের এ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ওঠেপড়ে লেগেছে। এতে মহাসড়ক যদি ১০ লেনে উন্নিত হয় তাহলে বড় দারোগারহাট থেকে সিটিগেইট পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশের দখলদারদের কপালে বাজ পড়বে। বন্ধ হয়ে যাবে তাদের সকল অবৈধ বাণিজ্য। এজন্য চক্রটি প্রকল্পটির বিরোধিতা করছে নানাভাবে।
ডিএস../
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডে হরহামেশাই চলছে সওজ’র জায়গা দখল

প্রকাশিত : ০৫:১৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক ও জনপথের (সওজ’র) জায়গা দখলে মেতে ওঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্র৷ মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাত বদল হয়ে দখলের মহোৎসবে মেতে ওঠে ওই মহল৷ কেউ নিজে কেউবা ভাড়া দিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। সড়ক ও জনপথের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ এ ব্যাপারে নিরব৷ ফলে হরহামেশাই চলছে সড়কের পাশে জায়গা দখল।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার পৌরসদর, বড় দারোগারহাট, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী, সলিমপুর, বাড়বকুণ্ডসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে অবস্থিত পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দোকানপাট নির্মাণের নামে সরকারী জায়গা হরিলুট চলছে।
জানা যায়, সওজ’র একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এবং স্থানীয় দলীয় প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় সরকারী জমি দখলের এই মহোৎসবের পাশপাশি চলে আসছে বিশাল অঙ্কের আর্থিক বাণিজ্যও। যার পরিমাণ কোটি টাকা। এতে করে প্রতিনিয়ত সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানজট লেগে থাকে প্রকট আকারে। যানজট লেগে থাকার কারণে যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন বাজার কমিটির বেশীর ভাগ নেতৃবৃন্দদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সরকারী জায়গায় গড়ে তোলা এসব দোকানের বৈধতা দিচ্ছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বেশ কয়েকজন অবৈধ দখলদার জানান, প্রতিটি দোকানের পজিশন ফিরে পেতে মাথাপিছু এক থেকে দেড় লাখ টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের।
সীতাকুণ্ড পৌরসভা সংলগ্ন খালের উপর বিল্ডিং করে বিভিন্ন মার্কেট নির্মাণ করছে একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। বাজার জুড়ে চলা এই দখলের প্রতিযোগীতায় যাত্রী ছাউনিতেও হয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশের পৌরসদরস্থ বাস কাউন্টার সংলগ্ন সড়কের পূর্বপাশে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারী খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে দোকান নির্মাণ করছেন গনেশ নামে এক ব্যক্তি।
স্থানীয় বাসিন্দা গনেশ নামে ঔই ব্যক্তি একাই ৫টি ঘর নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দিয়ে মোটা অংকের মাসিক ভাড়া উত্তোলন করছেন। তিনি সরকারের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দোকানগুলো নির্মাণ শুরু করেন।
এক ভাড়াটিয়া দোকানী বলেন, জায়গাটি সড়ক ও জনপথ কিংবা ব্যক্তি মালিকা কিনা জানিনা। এখানে আমাদের একজন জমিদার আছে গনেশ। ওনার কাছ থেকে দোকানটি দুই লক্ষ টাকা সেলামী ও মাসে ২৫০০ টাকা করে ভাড়ার বিনিময়ে নিয়েছি।
স্থানীয়রা জানান, এটা যেহেতু সড়ক ও জনপথের অধিনে আমরা চাই এসব জায়গাগুলো খোলা-মেলা থাকুক। এখানে যেন দোকানপাড় না করে। দূর-দূরান্ত থেকে যেসব পর্যটক আসে এরা যেন নিরাপদস্থানে দাঁড়িয়ে রাস্তায় গাড়ীতে ওঠতে পারে আমরা সেটা চাই। রাস্তার পাশে অবৈধভাবে দোকান গড়ে ওঠায় দুর্ঘটনার সম্ভবনা আছে। সড়কের পাশে জায়গা দখল করে দোকান গড়ে তুলায় এখন গাড়ীগুলো রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে থাকে যার কারণে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। আমরা এটার প্রতিকার চাই। আমরা চাই এসব দখল বাণিজ্যগুলো বন্ধ হোক।
এবিষয়ে জানতে চাইলে গনেশ বলেন, সড়কের পাশে দোকান করতে কেউ ত অনুমোদন নেয় নাই। তাই আমিও নি নাই। দোকান নির্মাণ করতেছি যে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ অবগত আছে।
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সওজ সড়ক উপ-বিভাগ সীতাকুণ্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান বলেন, এবিষয়ে আমরা নোটিশ করেছি ইউএনও মহোদয়ের সাথে আমাদের আলাপ হয়েছে। আমরা আগামী সপ্তাহে একটা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা আছে। আমাদের তো জনবলের খুব সল্পতা আছে আর আমাদের বিভিন্ন জায়গায় কাজ চলতেছে। সব কিছু মিলিয়ে সময় বের করতে আমাদের একটু দেরি হচ্ছে। আমাদের অনেক জায়গায় এরকম সমস্যা আছে। এ অভিযানগুলো করতে হলে ডিসি অফিস থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে হয়।
উল্লেখ্য যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ লেনে উন্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে সমীক্ষার কাজও চলমান। কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারের এ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ওঠেপড়ে লেগেছে। এতে মহাসড়ক যদি ১০ লেনে উন্নিত হয় তাহলে বড় দারোগারহাট থেকে সিটিগেইট পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশের দখলদারদের কপালে বাজ পড়বে। বন্ধ হয়ে যাবে তাদের সকল অবৈধ বাণিজ্য। এজন্য চক্রটি প্রকল্পটির বিরোধিতা করছে নানাভাবে।
ডিএস../