০৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করায় যুবক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কলেজ পড়ুয়া এক তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে ভাইরাল করার দায়ে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এ পি বি এন ২ এর সাইবার ক্রাইম টিমের সদস্যরা টাঙ্গাইলের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য ও এপিবিএন ২ এর এক প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর থানার হুগুড়া ইউনিয়নের ধুলবাড়ী গ্রামের আব্দুল আওয়াল এর পুত্র হাবিবুর রহমান, ( ২৩) দীর্ঘ এক বছর যাবত ফুলবাড়িয়ার কলেজ পড়ুয়া তরুনীর (২১) সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় ঘটিয়ে বিয়ের প্রলোবান দেখিয়ে প্রেম করে আসতেছিল।
প্রেমের এক পর্যায়ে হাবিবুর মাঝেমধ্যই তরুণীর কাছে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ধার চাইতো। এদিকে সহজ সরল প্রকৃতির এই তরুণী কোন কিছু না ভেবেই হাবিবুর কে কয়েক দফায় ২২,০০০ টাকা প্রদান করে। এক পর্যায়ে হাবিবুর এর লোভ আরো বেড়ে যায় সে কৌশলে তরুণীকে টাঙ্গাইলে যেতে বলে সহজ সরল ২১ বছর বয়সী তরুণী ২/১২/২৪ তারিখে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে গোপনে হাবিবুরের ডাকে সাড়া দিতে টাঙ্গাইলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর হাবিবুর তরুণীকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে চলে যায়। রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর প্রথমেই তরুণীর হাতে থাকা স্মার্টফোনটি জোরপূর্বক কেড়ে নেয় এরপর তরুণীকে চড় থাপ্পড় কিল ঘুসি ছুটতে থাকে। পরবর্তীতে জোরপূর্বক তরুণীর সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করলে তরুণী কৌশলে একটি নরমাল মোবাইল সেট কিনে দেওয়ার কথা বলে সুকৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে। বাড়ি ফেরার কিছুদিন পর থেকে আবার শুরু করে হাবিবুর তার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দিফিকির পুনরায় সে আরো ছয় চল্লিশ হাজার টাকার দাবি করে। যদি তাকে দাবি কৃত টাকা না দেওয়া হয় তাহলে তার মোবাইলে থাকা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিছুদিন এভাবে চলতে থাকে। পরবর্তীতে একদিন হাবিবুর ফোন করে তরুণীকে বলে তার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও কলে কথা বলতে হবে তা না হলে সে সবকিছু ভাইরাল করে দিবে। তখন তরুণী আত্মসম্মানের ভয় আর টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মুখ বুজে রাজি হয়ে যায়। তা না হলে যদি সে ভাইরাল করে দেয় সমাজে মুখ দেখাবে কিভাবে এইসব ভেবে লম্পট হাবিবের কথায় রাজি হয়ে ভিডিও কলে আপত্তিকর অবস্থায় হাবিবের সাথে কথা বলে। এদিকে হাবিব স্কিন রেকর্ডের মাধ্যমে আপত্তিকর সমস্ত ভিডিও ও কথা সেভ করে রাখে। ঘটনার কয়েকদিন আগে হাবিব আবার তরুণীকে প্রস্তাব করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে অন্যথায় তাকে কোথাও সংসার করতে দেবে না, তার পরিবারকে হুমকির মুখে রাখে। এক পর্যায়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে হাবিবুর তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করে। তরুণী দুপুর বেলা তার ছবি বাড়িতে থেকে মোবাইল ফোনে দেখে পরিবারের লোকজনকে বলে। পরিবারের লোকজন এ ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করে ট্রিপল নাইনে ফোন করলে ওখান থেকে পরামর্শ ক্রমে ময়মনসিংহ এপিবিএন ২ মুক্তাগাছা একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল ২৫.২-২০২৫ তারিখে
২ এবিপিএন এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আহাম্মদ আলী খান এর দিকনির্দেশনায় ২ এপিবিএন এর সাইবার ক্রাইমসেল কর্তৃক এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের
এলঅহসি/সিঅহএ সেলের উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাবিবুরের অবস্থান সনাক্ত করে রাত ৩:৩০ মিনিটে ধুলবাড়ী গ্রাম থেকে হাবিবুর কে গ্রেফতার করে হাবিবুর এর নিকট থেকে তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওসহ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাবিবুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে ফুলবাড়িয়া থানায় হাবিবুর এর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ১৫ তারিখ -২৫/২/২০২৫। হাবিবুর কে এপিবিএন ২ ফুলবাড়িয়া থানায় সোপর্দ করেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করায় যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত : ০৮:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কলেজ পড়ুয়া এক তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে ভাইরাল করার দায়ে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এ পি বি এন ২ এর সাইবার ক্রাইম টিমের সদস্যরা টাঙ্গাইলের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য ও এপিবিএন ২ এর এক প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর থানার হুগুড়া ইউনিয়নের ধুলবাড়ী গ্রামের আব্দুল আওয়াল এর পুত্র হাবিবুর রহমান, ( ২৩) দীর্ঘ এক বছর যাবত ফুলবাড়িয়ার কলেজ পড়ুয়া তরুনীর (২১) সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় ঘটিয়ে বিয়ের প্রলোবান দেখিয়ে প্রেম করে আসতেছিল।
প্রেমের এক পর্যায়ে হাবিবুর মাঝেমধ্যই তরুণীর কাছে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ধার চাইতো। এদিকে সহজ সরল প্রকৃতির এই তরুণী কোন কিছু না ভেবেই হাবিবুর কে কয়েক দফায় ২২,০০০ টাকা প্রদান করে। এক পর্যায়ে হাবিবুর এর লোভ আরো বেড়ে যায় সে কৌশলে তরুণীকে টাঙ্গাইলে যেতে বলে সহজ সরল ২১ বছর বয়সী তরুণী ২/১২/২৪ তারিখে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে গোপনে হাবিবুরের ডাকে সাড়া দিতে টাঙ্গাইলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর হাবিবুর তরুণীকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে চলে যায়। রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর প্রথমেই তরুণীর হাতে থাকা স্মার্টফোনটি জোরপূর্বক কেড়ে নেয় এরপর তরুণীকে চড় থাপ্পড় কিল ঘুসি ছুটতে থাকে। পরবর্তীতে জোরপূর্বক তরুণীর সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করলে তরুণী কৌশলে একটি নরমাল মোবাইল সেট কিনে দেওয়ার কথা বলে সুকৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে। বাড়ি ফেরার কিছুদিন পর থেকে আবার শুরু করে হাবিবুর তার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দিফিকির পুনরায় সে আরো ছয় চল্লিশ হাজার টাকার দাবি করে। যদি তাকে দাবি কৃত টাকা না দেওয়া হয় তাহলে তার মোবাইলে থাকা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিছুদিন এভাবে চলতে থাকে। পরবর্তীতে একদিন হাবিবুর ফোন করে তরুণীকে বলে তার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও কলে কথা বলতে হবে তা না হলে সে সবকিছু ভাইরাল করে দিবে। তখন তরুণী আত্মসম্মানের ভয় আর টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মুখ বুজে রাজি হয়ে যায়। তা না হলে যদি সে ভাইরাল করে দেয় সমাজে মুখ দেখাবে কিভাবে এইসব ভেবে লম্পট হাবিবের কথায় রাজি হয়ে ভিডিও কলে আপত্তিকর অবস্থায় হাবিবের সাথে কথা বলে। এদিকে হাবিব স্কিন রেকর্ডের মাধ্যমে আপত্তিকর সমস্ত ভিডিও ও কথা সেভ করে রাখে। ঘটনার কয়েকদিন আগে হাবিব আবার তরুণীকে প্রস্তাব করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে অন্যথায় তাকে কোথাও সংসার করতে দেবে না, তার পরিবারকে হুমকির মুখে রাখে। এক পর্যায়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে হাবিবুর তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করে। তরুণী দুপুর বেলা তার ছবি বাড়িতে থেকে মোবাইল ফোনে দেখে পরিবারের লোকজনকে বলে। পরিবারের লোকজন এ ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করে ট্রিপল নাইনে ফোন করলে ওখান থেকে পরামর্শ ক্রমে ময়মনসিংহ এপিবিএন ২ মুক্তাগাছা একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল ২৫.২-২০২৫ তারিখে
২ এবিপিএন এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আহাম্মদ আলী খান এর দিকনির্দেশনায় ২ এপিবিএন এর সাইবার ক্রাইমসেল কর্তৃক এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের
এলঅহসি/সিঅহএ সেলের উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাবিবুরের অবস্থান সনাক্ত করে রাত ৩:৩০ মিনিটে ধুলবাড়ী গ্রাম থেকে হাবিবুর কে গ্রেফতার করে হাবিবুর এর নিকট থেকে তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওসহ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাবিবুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে ফুলবাড়িয়া থানায় হাবিবুর এর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ১৫ তারিখ -২৫/২/২০২৫। হাবিবুর কে এপিবিএন ২ ফুলবাড়িয়া থানায় সোপর্দ করেছে।