পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর। এই দায়িত্ব পালনে সংস্থাটি বরাবরেই ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও রমজানকে ঘিরে চলে কর্মযজ্ঞ। এবার চট্টগ্রামের খোলা বাজার থেকে ৮২টি পণ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে সংস্থাটি। রমজানে ব্যবহৃত হয় এমন পণ্যগুলোর মধ্যে ৫০টি ফলাফল সংস্থাটির হাতে এসেছে। এর মধ্যে একটি পানির ও দুটি চানাচুর মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ইতোমধ্যে মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া বা মানহীন এ তিন প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থায় যাবে সংস্থাটি। যদিও এসব প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের নাম গোপন রাখছে বিএসটিআই।
বিএসটিআই চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক কাউসার মতিন বলেন, ‘খোলা বাজার থেকে এবার আমরা ৮২টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করেছিলাম। এর মধ্যে সবগুলোর ফলাফল আমাদের হাতে আসেনি। ৫০টি পণ্যের ফলাফল এসেছে, তার মধ্যে তিনটি পণ্য ফেল করেছে। একটি পানি এবং দুটি চানাচুর রয়েছে। সবগুলো রিপোর্ট হাতে না আসায় আমরা প্রতিষ্ঠানের বা ব্র্যান্ডের নাম আপাতত প্রকাশ করছি না।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা শোকজ করেছি। তারা জবাব দিবে। এরপর আমরা আবার রিস্যাম্পরিং করবো। তারপরও মান উন্নীত না হলে আইন অনুযায়ী সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বাংলাদেশে খাদ্য ও শিল্পপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের হলেও বাজার তদারকিতে সংস্থাটি বরাবরই পিছিয়ে আছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করার কথা। কিন্তু বাস্তবে রমজানের আগে সাময়িক লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে মাত্র। ইতোমধ্যে রমজানের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও এখনো পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পায়নি সংস্থাটি। যে পণ্যগুলো মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি বা মানহীন সে পণ্য বাজার থেকে সরাতে বিএসটিআইকে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে পুরো রমজান মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে এই সময়ে মানহীন পণ্যগুলো ভোগ করে ফেলেন ভোক্তা। আবার হাজার হাজার পণ্যের মাঝে মাত্র ৮২টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে বাজারে থাকা পণ্যের সঠিক মান যাচাইও সম্ভব নয়।
রমজানে অধিক চাহিদাসম্পন্ন খাদ্যপণ্যের মধ্যে থাকে সেমাই, চিনি, মুড়ি, মসলা, ঘি, দুধ, ড্রিংকস, ভোজ্যতেলসহ নানা ধরনের ভোগ্যপণ্য। এই পণ্যের মান নিশ্চিত না হলে জনস্বাস্থ্যে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু বাজারে এসব পণ্যের মান ঠিক আছে কিনা, তা যাচাই করতে বিএসটিআই যে উদ্যোগ নেয়, তা কার্যকর না হওয়ায় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ থেকেই যায়। প্রতি বছর দেখা যায়, রমজানের সময় বিএসটিআই যে পণ্যগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষায় কিছু মানহীন পণ্য ধরা পড়ে। কিন্তু সেই পণ্য বাজার থেকে তোলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ততদিনে রমজান পার হয়ে যায়। ফলে কার্যত কোনো সুফল পায় না সাধারণ মানুষ।
জামাল খান থেকে রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছিলেন হাসান মুকুল । তিনি বলেন, ‘কোনটি কি মানের সেটা বুঝার কোনো উপায় নেয়। বিএসটিআইয়ের সিল তো সব পণ্যে আছে, আসলে কি লাইসেন্স আছে বা মান পরীক্ষা করে বিএসটিআই। অনেক ঘি দেখলাম, কোনোটাই তো মান সম্পন্ন মনে হলো না। সব পণ্যে একই অবস্থা। দাম এবং কোম্পানি দেখে কিনছি, বাস্তবে কতটুকু ঠকছি সেটা নিজেও জানি না।’
ডিএস../