১০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

স্বপ্ন ছোঁয়ার দিন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন

১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় সমাবর্তন। সমাবর্তন একটি কাঙ্খিত ও প্রতীক্ষিত দিন। যার জন্য অপেক্ষা করে থাকে হাজারো শিক্ষার্থী। সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি দেয়া হয়। এ অনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমেই একাডেমিক শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি হয় এবং শুরু হয় পেশাগত বাস্তব জীবনযাত্রা।

গ্রীষ্মের আগমনের চারদিকে ফুটে রয়েছে নানা রকম ফুল। সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, জারুল, চম্পা ,কবরী, জবা, টগর ,ভৃঙ্গরাজের সমারোহে চবি ক্যাম্পাস যেন কোন আনন্দ অনুষ্ঠানের বার্তা দিচ্ছে। লাল, নীল, সবুজ রঙিন বাতির ঝলক সপ্তাহ জুড়ে রাতভর দিয়ে যাচ্ছে যেন সমাবর্তনের আগমনী বার্তা। খাতা, কলম ও ক্যালেন্ডারের পাতায় সমাবর্তনের দিনটি ১৪-ই মে হলেও দুই দিন আগ থেকেই ক্যাম্পাস জুড়ে শুরু হয়েছিল উৎসবের আমেজ।

দিনটিকে ঘিরে ক্যাম্পাস জুড়ে হয়েছে নানান সংস্কার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ, সমাজ বিজ্ঞান, সাইন্স, জীব বিজ্ঞান, জারুল তলা, ঝুপড়ি, শহীদ মিনার জিরো পয়েন্ট, দক্ষিণ ক্যাম্পাস, ফরেস্ট্রি ও ক্যাম্পাসের আকর্ষণীয় স্থানগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন গ্রাজুয়েটরা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পার করে কেউ চাকরিতে প্রবেশ করেছেন আবার কেউবা এখনও বেকারত্ব ঘুচানোর চেষ্টায় আছেন। তবে সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে চাকরি বা বেকারত্ব কোনো কিছুরই যেন ছাপ নেই। সবাই মেতেছেন আনন্দ উল্লাসে।

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, প্রিয়জন পরিবারের সাথে একাডেমি জীবনের শেষ সময়টাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

তীব্র তাপদাহ ও গরমের মধ্যেও গাউন টুপি পড়ে ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা, আকাশে ছুঁড়ে দেওয়া কালো টুপির সাথে মিশিয়ে আছে একরাশ আনন্দ উচ্ছ্বাস। বাবা, মা, প্রিয়জনকে গাউন পরিয়ে শিক্ষা জীবনের শেষ মুহূর্তটা ক্যামেরাবন্দী করার মাধ্যমে আবেগঘন একটা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সমাবর্তন উপলেক্ষে ক্যাম্পাসে ঠাঁই পেয়েছে জুলাইয়ের শহীদেরা। তারা আছেন গ্রাফিতির প্রতিটি তুলির আঁচড়ে, ফেস্টুনের প্রতিটি বাক্যে, মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত প্রতিটি স্মৃতিতে। তারা হলেন ইতিহাস বিভাগের দুই শহীদ শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন ও হৃদয় তরুয়া। তাদের সঙ্গে আছেন চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম এবং জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ।

পাহাড়ের কোল ঘেঁসে গড়ে ওঠা ২৩০০ একরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর। আয়তনের দিক থেকে সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত মাত্র চারটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে, এরপর ক্রমান্বয়ে, ১৯৯৯, ২০০৮ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সমাবর্তনে অংশ নেন ৭ হাজার ১৯৪ জন গ্র্যাজুয়েট। নয়জন শিক্ষার্থী পান চ্যান্সেলর পদক, আর ২৫ জন পিএইচডি ডিগ্রি ও ১৩ জন এমফিল ডিগ্রী।

তবে চবির এবারের সমাবর্তনে ২০১১-২০২৩ সালের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করা ২২ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন । অনুষদভিত্তিক অংশ গ্রহণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে ৪ হাজার ৯৮৮জন, ব্যবসায় প্রশাসনে ৪ হাজার ৫৯৬ বাস, সমাজবিজ্ঞান ৪ হাজার ১৫৮ জন এবং বিজ্ঞান অনুষদে হজার ৭৬৭জন। তন্মোধ্যে ৪২ জন পিএইচডি এবং ৩৩ এমফিল ডিগ্রিসহ মোট ২২ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে-স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। দুপুর ১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সফলভাবে সমাবর্তন সম্পন্ন করতে কাজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি উপ-কমিশন। এবং এ আয়োজনে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়। যেখানে ৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে প্যান্ডেন্স নির্মাণে। ২ কোটি টাকা সার্টিফিকেট সহ অন্যান্য উপকরণে। এছাড়া গউন, টুপি, গিফট, দুপুরের খাবারসহ অন্যান্য খাতে খরচ হয়েছে আরে ৯ কোটি টাকা।

সমাবর্তনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, চবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ডক্টর অব লেটারস (ডি-লিট) ডিগ্রি দেওয়া হয় এবার সমাবর্তনে।

তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ,সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষকরা। প্রধান উপদেষ্টার সরকারের আরো চার জন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সমাবর্তনে অতিথি হিসেবে ছিলেন জ্বালানি উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

শিক্ষার্থীরা এ সম্পর্কে মতামত জানান

বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী শাওন বলেন, বিশ্বিবদ্যালয়ের মাস্টার্সের রানিং শিক্ষার্থী হিসেবে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। এ জন্য আমি খুবই আনন্দিত। দীর্ঘ দিন ক্যাম্পাসে এরকম কোনো উৎসবের আমেজ দেখি নি। এটা আমার জন্য প্রথমবার এবং এ আনন্দের অনুভূতি বলে বুঝানো সম্ভব না। অনেকেই তাদের পরিবার- পরিজনকে নিয়ে এসেছে, আমি আমার বাবাকে নিয়ে এসেছি। এরকম একটা আনন্দঘন মূহুর্ত বাবার সাথে সাথে শেয়ার করে খুবই ভালো লাগছে।

বাংলা বিভাগের ২০১৬-২০১৭ সেশনের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘ দুই বছর পর ক্যাম্পাসে এসে মনে হয়ছে আই ফিল মাই হার্টবিট। এই অনূভুতি প্রকাশ করে বুঝানোর মতো না। অনেক দিন পর বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়া মাত্রই ক্যাম্পাসে কাটানো সুন্দর মূহুতগুলোর কথা মনে পড়ছে। সেগুলার স্মৃতিচারণ যখনি হয় তখনি মনে হয় ক্যাস্পাসে থেকে যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, সমাবর্তন শেষেই ব্যাক করা লাগবে।

ব্যাবস্থাপনা বিভাগের ২০০৭-২০০৮ সেশনের শিক্ষার্থী আরাফাতুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টা অতিবাহিত করেছি। অনেক স্মৃতি রয়েছে ক্যাম্পাসকে ঘিরে যেগুলো কখনো ভুলার নয়। সেগুলো আজ বারংবার মনে পড়ে। তাছাড়া দীর্ঘ দিন পর বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে সমাবর্তন উপলক্ষ্যে। যাদের অনেকরই সাথে এতোদিনে দেখা হয় নি। সবমিলে অন্যরকম একটা সময় কাটাচ্ছি, যার আনন্দ বর্ণনাতীত।

এছাড়াও প্রিয় শিক্ষার্থীদের একনজর দেখতে ক্যাম্পাসে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও। দুইদিন আগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখর হয়ে ওঠে গ্রাজুয়েটদের পদচারণায়। মাথায় কালো টুপি, গায়ে গাউন। দল বেঁধে ছোটাছুটি করছেন প্রিয় আঙ্গিনাজুড়ে।

সর্বোপরি সমাবর্তনের এই বিশাল আয়োজন কেবল সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং মান, মর্যাদা ও অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করছে। এই মহা মিলন মেলায় অংশগ্রহণকারী হাজারো শিক্ষার্থী শুধু একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিই পাচ্ছেন না, বরং জাতি গঠনে নতুন দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করছেন।

ডিএস//

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

স্বপ্ন ছোঁয়ার দিন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন

প্রকাশিত : ১২:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় সমাবর্তন। সমাবর্তন একটি কাঙ্খিত ও প্রতীক্ষিত দিন। যার জন্য অপেক্ষা করে থাকে হাজারো শিক্ষার্থী। সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি দেয়া হয়। এ অনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমেই একাডেমিক শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি হয় এবং শুরু হয় পেশাগত বাস্তব জীবনযাত্রা।

গ্রীষ্মের আগমনের চারদিকে ফুটে রয়েছে নানা রকম ফুল। সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, জারুল, চম্পা ,কবরী, জবা, টগর ,ভৃঙ্গরাজের সমারোহে চবি ক্যাম্পাস যেন কোন আনন্দ অনুষ্ঠানের বার্তা দিচ্ছে। লাল, নীল, সবুজ রঙিন বাতির ঝলক সপ্তাহ জুড়ে রাতভর দিয়ে যাচ্ছে যেন সমাবর্তনের আগমনী বার্তা। খাতা, কলম ও ক্যালেন্ডারের পাতায় সমাবর্তনের দিনটি ১৪-ই মে হলেও দুই দিন আগ থেকেই ক্যাম্পাস জুড়ে শুরু হয়েছিল উৎসবের আমেজ।

দিনটিকে ঘিরে ক্যাম্পাস জুড়ে হয়েছে নানান সংস্কার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ, সমাজ বিজ্ঞান, সাইন্স, জীব বিজ্ঞান, জারুল তলা, ঝুপড়ি, শহীদ মিনার জিরো পয়েন্ট, দক্ষিণ ক্যাম্পাস, ফরেস্ট্রি ও ক্যাম্পাসের আকর্ষণীয় স্থানগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন গ্রাজুয়েটরা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পার করে কেউ চাকরিতে প্রবেশ করেছেন আবার কেউবা এখনও বেকারত্ব ঘুচানোর চেষ্টায় আছেন। তবে সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে চাকরি বা বেকারত্ব কোনো কিছুরই যেন ছাপ নেই। সবাই মেতেছেন আনন্দ উল্লাসে।

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, প্রিয়জন পরিবারের সাথে একাডেমি জীবনের শেষ সময়টাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

তীব্র তাপদাহ ও গরমের মধ্যেও গাউন টুপি পড়ে ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা, আকাশে ছুঁড়ে দেওয়া কালো টুপির সাথে মিশিয়ে আছে একরাশ আনন্দ উচ্ছ্বাস। বাবা, মা, প্রিয়জনকে গাউন পরিয়ে শিক্ষা জীবনের শেষ মুহূর্তটা ক্যামেরাবন্দী করার মাধ্যমে আবেগঘন একটা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সমাবর্তন উপলেক্ষে ক্যাম্পাসে ঠাঁই পেয়েছে জুলাইয়ের শহীদেরা। তারা আছেন গ্রাফিতির প্রতিটি তুলির আঁচড়ে, ফেস্টুনের প্রতিটি বাক্যে, মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত প্রতিটি স্মৃতিতে। তারা হলেন ইতিহাস বিভাগের দুই শহীদ শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন ও হৃদয় তরুয়া। তাদের সঙ্গে আছেন চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম এবং জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ।

পাহাড়ের কোল ঘেঁসে গড়ে ওঠা ২৩০০ একরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর। আয়তনের দিক থেকে সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত মাত্র চারটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে, এরপর ক্রমান্বয়ে, ১৯৯৯, ২০০৮ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সমাবর্তনে অংশ নেন ৭ হাজার ১৯৪ জন গ্র্যাজুয়েট। নয়জন শিক্ষার্থী পান চ্যান্সেলর পদক, আর ২৫ জন পিএইচডি ডিগ্রি ও ১৩ জন এমফিল ডিগ্রী।

তবে চবির এবারের সমাবর্তনে ২০১১-২০২৩ সালের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করা ২২ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন । অনুষদভিত্তিক অংশ গ্রহণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে ৪ হাজার ৯৮৮জন, ব্যবসায় প্রশাসনে ৪ হাজার ৫৯৬ বাস, সমাজবিজ্ঞান ৪ হাজার ১৫৮ জন এবং বিজ্ঞান অনুষদে হজার ৭৬৭জন। তন্মোধ্যে ৪২ জন পিএইচডি এবং ৩৩ এমফিল ডিগ্রিসহ মোট ২২ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে-স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। দুপুর ১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সফলভাবে সমাবর্তন সম্পন্ন করতে কাজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি উপ-কমিশন। এবং এ আয়োজনে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়। যেখানে ৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে প্যান্ডেন্স নির্মাণে। ২ কোটি টাকা সার্টিফিকেট সহ অন্যান্য উপকরণে। এছাড়া গউন, টুপি, গিফট, দুপুরের খাবারসহ অন্যান্য খাতে খরচ হয়েছে আরে ৯ কোটি টাকা।

সমাবর্তনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, চবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ডক্টর অব লেটারস (ডি-লিট) ডিগ্রি দেওয়া হয় এবার সমাবর্তনে।

তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ,সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষকরা। প্রধান উপদেষ্টার সরকারের আরো চার জন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সমাবর্তনে অতিথি হিসেবে ছিলেন জ্বালানি উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

শিক্ষার্থীরা এ সম্পর্কে মতামত জানান

বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী শাওন বলেন, বিশ্বিবদ্যালয়ের মাস্টার্সের রানিং শিক্ষার্থী হিসেবে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। এ জন্য আমি খুবই আনন্দিত। দীর্ঘ দিন ক্যাম্পাসে এরকম কোনো উৎসবের আমেজ দেখি নি। এটা আমার জন্য প্রথমবার এবং এ আনন্দের অনুভূতি বলে বুঝানো সম্ভব না। অনেকেই তাদের পরিবার- পরিজনকে নিয়ে এসেছে, আমি আমার বাবাকে নিয়ে এসেছি। এরকম একটা আনন্দঘন মূহুর্ত বাবার সাথে সাথে শেয়ার করে খুবই ভালো লাগছে।

বাংলা বিভাগের ২০১৬-২০১৭ সেশনের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘ দুই বছর পর ক্যাম্পাসে এসে মনে হয়ছে আই ফিল মাই হার্টবিট। এই অনূভুতি প্রকাশ করে বুঝানোর মতো না। অনেক দিন পর বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়া মাত্রই ক্যাম্পাসে কাটানো সুন্দর মূহুতগুলোর কথা মনে পড়ছে। সেগুলার স্মৃতিচারণ যখনি হয় তখনি মনে হয় ক্যাস্পাসে থেকে যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, সমাবর্তন শেষেই ব্যাক করা লাগবে।

ব্যাবস্থাপনা বিভাগের ২০০৭-২০০৮ সেশনের শিক্ষার্থী আরাফাতুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টা অতিবাহিত করেছি। অনেক স্মৃতি রয়েছে ক্যাম্পাসকে ঘিরে যেগুলো কখনো ভুলার নয়। সেগুলো আজ বারংবার মনে পড়ে। তাছাড়া দীর্ঘ দিন পর বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে সমাবর্তন উপলক্ষ্যে। যাদের অনেকরই সাথে এতোদিনে দেখা হয় নি। সবমিলে অন্যরকম একটা সময় কাটাচ্ছি, যার আনন্দ বর্ণনাতীত।

এছাড়াও প্রিয় শিক্ষার্থীদের একনজর দেখতে ক্যাম্পাসে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও। দুইদিন আগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখর হয়ে ওঠে গ্রাজুয়েটদের পদচারণায়। মাথায় কালো টুপি, গায়ে গাউন। দল বেঁধে ছোটাছুটি করছেন প্রিয় আঙ্গিনাজুড়ে।

সর্বোপরি সমাবর্তনের এই বিশাল আয়োজন কেবল সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং মান, মর্যাদা ও অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করছে। এই মহা মিলন মেলায় অংশগ্রহণকারী হাজারো শিক্ষার্থী শুধু একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিই পাচ্ছেন না, বরং জাতি গঠনে নতুন দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করছেন।

ডিএস//