০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সীতাকুণ্ডের সাত ইউপিতে সব ধরণের কার্যক্রম পুনরায় চালু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সাত ইউপিতে সব ধরণের কার্যক্রম এক মাসেরও অধিক বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দায়েরকৃত রিট পিটিশনের রায় আগামী ৮ মাসের জন্য আদালত স্থগিত করেছেন।

গত ১০ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়। গত ২৩ জুন উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের নির্দেশনা মোতাবেক সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালনের বৈধতা ফিরে পেলেও চেয়ারম্যানদের পরিষদে অনুপস্থিতির কারণে এক মাসেরও অধিক সময় প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে এসব ইউনিয়নে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানগণ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন। উচ্চ আদালতের আদেশের পরও সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানরা পরিষদে যোগদান না করায় এক মাসেরও অধিক সময় ধরে পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানদের রিট পিটিশনের রায় আদালত আগামী ৮ মাসের জন্য স্থগিত করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। সেই থেকে জনপ্রতিনিধিবিহীন সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম স্বাক্ষরিত এক আদেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ১৯ আগস্ট এক পরিপত্র মোতাবেক ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং বারৈয়াঢালা, সোনাইছড়ি ও সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে প্রদান করা হয়। এরপর কিছুদিন ইউনিয়ন পরিষদের পরিসেবার কার্যক্রম চলে।

পরবর্তীতে সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি ও সলিমপুরসহ ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে। রিট পিটিশনের রায় মোতাবেক এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা ফিরে পায়। কিন্তু আদালতের রায়ের পরও এক মাসেরও অধিক সময় অতিবাহিত হলেও এসব ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে সাতটি ইউপির তিন লাখ ১৫ হাজার ৬৩৯ বাসিন্দা চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, সোনাইছড়ি ও সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান সংক্রান্ত জেলা প্রশাসকের আদেশের কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। যার কারণে পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এতে করে ওই সাত ইউনিয়নে জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ ২০টিরও বেশী মৌলিক সেবা বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। চাকরি, ব্যবসা, জমি কেনা-বেচা, স্কুল-কলেজে ভর্তি সবকিছু থমকে যায়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফখরুল ইসলাম জানান, ১০ আগস্ট থেকে সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। সাতটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের আদেশ আগামী আট মাসের জন্য আদালত স্থগিত করেছেন।

ডিএস./

 

ট্যাগ :

সীতাকুণ্ডের সাত ইউপিতে সব ধরণের কার্যক্রম পুনরায় চালু

প্রকাশিত : ০১:১৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সাত ইউপিতে সব ধরণের কার্যক্রম এক মাসেরও অধিক বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দায়েরকৃত রিট পিটিশনের রায় আগামী ৮ মাসের জন্য আদালত স্থগিত করেছেন।

গত ১০ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়। গত ২৩ জুন উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের নির্দেশনা মোতাবেক সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালনের বৈধতা ফিরে পেলেও চেয়ারম্যানদের পরিষদে অনুপস্থিতির কারণে এক মাসেরও অধিক সময় প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে এসব ইউনিয়নে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানগণ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন। উচ্চ আদালতের আদেশের পরও সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানরা পরিষদে যোগদান না করায় এক মাসেরও অধিক সময় ধরে পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানদের রিট পিটিশনের রায় আদালত আগামী ৮ মাসের জন্য স্থগিত করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। সেই থেকে জনপ্রতিনিধিবিহীন সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম স্বাক্ষরিত এক আদেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ১৯ আগস্ট এক পরিপত্র মোতাবেক ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং বারৈয়াঢালা, সোনাইছড়ি ও সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে প্রদান করা হয়। এরপর কিছুদিন ইউনিয়ন পরিষদের পরিসেবার কার্যক্রম চলে।

পরবর্তীতে সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি ও সলিমপুরসহ ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে। রিট পিটিশনের রায় মোতাবেক এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা ফিরে পায়। কিন্তু আদালতের রায়ের পরও এক মাসেরও অধিক সময় অতিবাহিত হলেও এসব ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে সাতটি ইউপির তিন লাখ ১৫ হাজার ৬৩৯ বাসিন্দা চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, সোনাইছড়ি ও সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান সংক্রান্ত জেলা প্রশাসকের আদেশের কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। যার কারণে পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এতে করে ওই সাত ইউনিয়নে জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ ২০টিরও বেশী মৌলিক সেবা বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। চাকরি, ব্যবসা, জমি কেনা-বেচা, স্কুল-কলেজে ভর্তি সবকিছু থমকে যায়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফখরুল ইসলাম জানান, ১০ আগস্ট থেকে সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। সাতটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের আদেশ আগামী আট মাসের জন্য আদালত স্থগিত করেছেন।

ডিএস./