০৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সীতাকুণ্ডে অস্ত্র তৈরীর কারখানার সন্ধান, অস্ত্র-গুলিসহ আটক চার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি পূর্ব থেকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নানাবিধ অপরাধ সংগঠিত করে সন্ত্রাসীরা এই জঙ্গল সলিমপুরে আশ্রয় নেয়। সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু এই অঞ্চলের অপরাধ কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

সন্ত্রাসীরা এখানে আশ্রয় নিয়ে মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। একইভাবে বড় বড় পাহাড় কেটে সমতল করে ভূমিহীন বিভিন্ন জেলার মানুষদের কাছে দখলসত্ব বিক্রি করে থাকে। এসব ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা আয় করে সন্ত্রাসীদের গডফাদার বনে গেছে অনেকে।

তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম গফুর ও গাজী সাদেকের নেতৃত্বে গুম, খুন ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামী মশিউর ও রিপন। আর আলীনগর নিয়ন্ত্রণ করে বড় রাজা প্রকাশ মোহাম্মদ ইয়াসিন ও ছোট রাজা মোহাম্মদ ফারুক। এভাবে একাধিক বাহিনী একাধিক নামে এই জঙ্গল সলিমপুর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

দীর্ঘদিন পর এই জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্র তৈরীর কারখানার সন্ধান পেয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের অধীন সিন্দুকছড়ি জোন এই অভিযান পরিচালনা করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- বাঁশখালী উপজেলার চনুয়া গ্রামের ফয়েজ আহমেদের পুত্র কামরুল হাসান (৩৫), সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর গ্রামের মোঃ মোর্শেদের পুত্র আশিকুর রহমান (৩৫), মহেশখালীর ফকির ঝুমপাড়ার মোঃ নুরুল ইসলামের পুত্র রুমন (২৫) ও নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার দক্ষিণ হাতিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের পুত্র আমির ইসলাম (৪০)।

অভিযানে দেশীয় তৈরী ৬টি অস্ত্র, ৩৫ রাউন্ড খালি কার্তুজ, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, ২০টি ছুরি, ওয়াকিটকি চার্জার ২টি, একটি মেগাফোন, ৪টি প্যারাসুট ফ্লেয়ারসহ অস্ত্র তৈরীর নানা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, আটক চারজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর এবং সন্ত্রাস দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডে অস্ত্র তৈরীর কারখানার সন্ধান, অস্ত্র-গুলিসহ আটক চার

প্রকাশিত : ০৫:০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি পূর্ব থেকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নানাবিধ অপরাধ সংগঠিত করে সন্ত্রাসীরা এই জঙ্গল সলিমপুরে আশ্রয় নেয়। সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু এই অঞ্চলের অপরাধ কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

সন্ত্রাসীরা এখানে আশ্রয় নিয়ে মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। একইভাবে বড় বড় পাহাড় কেটে সমতল করে ভূমিহীন বিভিন্ন জেলার মানুষদের কাছে দখলসত্ব বিক্রি করে থাকে। এসব ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা আয় করে সন্ত্রাসীদের গডফাদার বনে গেছে অনেকে।

তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম গফুর ও গাজী সাদেকের নেতৃত্বে গুম, খুন ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামী মশিউর ও রিপন। আর আলীনগর নিয়ন্ত্রণ করে বড় রাজা প্রকাশ মোহাম্মদ ইয়াসিন ও ছোট রাজা মোহাম্মদ ফারুক। এভাবে একাধিক বাহিনী একাধিক নামে এই জঙ্গল সলিমপুর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

দীর্ঘদিন পর এই জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্র তৈরীর কারখানার সন্ধান পেয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের অধীন সিন্দুকছড়ি জোন এই অভিযান পরিচালনা করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- বাঁশখালী উপজেলার চনুয়া গ্রামের ফয়েজ আহমেদের পুত্র কামরুল হাসান (৩৫), সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর গ্রামের মোঃ মোর্শেদের পুত্র আশিকুর রহমান (৩৫), মহেশখালীর ফকির ঝুমপাড়ার মোঃ নুরুল ইসলামের পুত্র রুমন (২৫) ও নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার দক্ষিণ হাতিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের পুত্র আমির ইসলাম (৪০)।

অভিযানে দেশীয় তৈরী ৬টি অস্ত্র, ৩৫ রাউন্ড খালি কার্তুজ, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, ২০টি ছুরি, ওয়াকিটকি চার্জার ২টি, একটি মেগাফোন, ৪টি প্যারাসুট ফ্লেয়ারসহ অস্ত্র তৈরীর নানা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, আটক চারজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর এবং সন্ত্রাস দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিএস./