০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সাড়ে সাত বছর পর রায়:দাদন ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় ফরিদের যাবজ্জীবন

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় দাদন ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফরিদ মিয়াকে (৩৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আসামির স্ত্রী মিষ্টি বেগম মিনিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুরের সিনিয়র দায়রা জজ ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন।পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ে ফরিদ মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে ফরিদ মিয়ার আর্থিক লেনদেন ছিল। চার শতাংশ জমি কবলা দলিল করে দেওয়ার পরও সিরাজুলের কাছে ফরিদের ৭০ হাজার টাকা পাওনা থেকে যায়।এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সিরাজুল ইসলামকে ফোন করে ডেকে আনেন ফরিদ মিয়া। পরে তাকে হত্যা করে পরদিন নিজ বাড়ির রান্নাঘরের মেঝেতে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখেন তিনি।

ঘটনার পর নিহত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মবিনা বেগম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর ধরে মামলার কার্যক্রম শেষে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আফতাব উদ্দিন। তিনি বলেন,“দীর্ঘদিনের লড়াই শেষে আদালত ন্যায়বিচার দিয়েছেন।এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, খুন করে পার পাওয়া যায় না।”

অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী শাহেদ কামাল ইবনে খতিব বলেন, “আমার মক্কেল নির্দোষ দাবি করলেও আদালত যাবজ্জীবন দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

 

নিহতের স্ত্রী মবিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন,আজ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলাম। তবে আমি চাই দ্রুত রায় কার্যকর হোক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সাড়ে সাত বছর পর রায়:দাদন ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় ফরিদের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত : ০৮:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় দাদন ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফরিদ মিয়াকে (৩৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আসামির স্ত্রী মিষ্টি বেগম মিনিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুরের সিনিয়র দায়রা জজ ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন।পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ে ফরিদ মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে ফরিদ মিয়ার আর্থিক লেনদেন ছিল। চার শতাংশ জমি কবলা দলিল করে দেওয়ার পরও সিরাজুলের কাছে ফরিদের ৭০ হাজার টাকা পাওনা থেকে যায়।এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সিরাজুল ইসলামকে ফোন করে ডেকে আনেন ফরিদ মিয়া। পরে তাকে হত্যা করে পরদিন নিজ বাড়ির রান্নাঘরের মেঝেতে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখেন তিনি।

ঘটনার পর নিহত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মবিনা বেগম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর ধরে মামলার কার্যক্রম শেষে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আফতাব উদ্দিন। তিনি বলেন,“দীর্ঘদিনের লড়াই শেষে আদালত ন্যায়বিচার দিয়েছেন।এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, খুন করে পার পাওয়া যায় না।”

অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী শাহেদ কামাল ইবনে খতিব বলেন, “আমার মক্কেল নির্দোষ দাবি করলেও আদালত যাবজ্জীবন দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

 

নিহতের স্ত্রী মবিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন,আজ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলাম। তবে আমি চাই দ্রুত রায় কার্যকর হোক।