১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সাতকানিয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষে কৃষকদের সাফল্য

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন একাধিক কৃষক। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকেরা, এসব তরমুজ বেশ সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা অনেক বেশি। পাইকাররা মাঠ থেকে এসব তরমুজ কিনে নিয়ে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কৃষকেরা জানান,কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে মাঠে কাজ করছেন তারা।
সরজমিনে দেখা যায় প্রতিটি ক্ষেতে মাচাই ঝুলছে এসব তরমুজ। তরমুজ গুলো মাচা থেকে যেন ছিঁড়ে না পড়ে এজন্য ব্যবহার করা হয়েছে নেটের ব্যাগ।

বারোমাসি তরমুজ ক্ষেতে পরিচর্চা করছেন কৃষক আবুল হাশেম।

কৃষক আবুল হাসেম বলেন, এবারে ফলন অনেকটাই ভালো হয়েছে,একেকটি তরমুজ ২ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। তাই মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজ গুলো নেটের ব্যাগেই বেঁধে রাখতে হয়। ফলে একদিকে তরমুজ গুলো নিরাপদে থাকে। অপরদিকে ক্ষেতের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসব তরমুজ ক্ষেতে এসে ক্রয় করে নিয়ে যায়। ফলে বাজারজাত করা নিয়ে বাড়তি কষ্ট করতে হয় না তাদের, মাঠে থেকে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস,এবারে বারোমাসি তরমুজ চাষে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে,সঠিক বাজার মূল্য থাকলে ২ লাখের বেশি বিক্রয় করতে পারব বলে আশাবাদী।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান, ২০২১ সালে সর্বপ্রথম একজন কৃষক বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু করেন। তার সফলতা দেখে বর্তমানে ৮থেকে ১০জন কৃষক বারোমাসি তরমুজ চাষে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৮/১০ জন কৃষক বর্তমানে এ চাষ করছেন , পাকিজা জাতের বারোমাসি তরমুজ চারা রোপন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত ৭০/৮০ দিন সময় লাগে অন্যান্য জাতের সময় লাগে ৬৫ দিন । প্রতি বছরে দুই ভাগে এ বারোমাসি তরমুজ চাষ করে কৃষক।

বারোমাসি তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করছেন কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন,এ বছর ছদাহা ইউনিয়নে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ হয়েছে।এখানে পাকিজা, ব্ল্যাকবেবি ও মার্সালো নামে তিন জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ করছেন তারা। তিনি জানান এন এফ এল সিসি নামে একটি প্রকল্প ছিল, সে প্রকল্পের প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথম চাষটা শুরু হয়েছিল, লাভজনক হওয়ার ফলে কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন নিজেরা চাষ করছেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক তাদেরকে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকলে এখানকার কৃষকেরা বারোমাসি তরমুজ চাষ করে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করবেন এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সাতকানিয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষে কৃষকদের সাফল্য

প্রকাশিত : ০৪:৪২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন একাধিক কৃষক। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকেরা, এসব তরমুজ বেশ সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা অনেক বেশি। পাইকাররা মাঠ থেকে এসব তরমুজ কিনে নিয়ে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কৃষকেরা জানান,কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে মাঠে কাজ করছেন তারা।
সরজমিনে দেখা যায় প্রতিটি ক্ষেতে মাচাই ঝুলছে এসব তরমুজ। তরমুজ গুলো মাচা থেকে যেন ছিঁড়ে না পড়ে এজন্য ব্যবহার করা হয়েছে নেটের ব্যাগ।

বারোমাসি তরমুজ ক্ষেতে পরিচর্চা করছেন কৃষক আবুল হাশেম।

কৃষক আবুল হাসেম বলেন, এবারে ফলন অনেকটাই ভালো হয়েছে,একেকটি তরমুজ ২ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। তাই মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজ গুলো নেটের ব্যাগেই বেঁধে রাখতে হয়। ফলে একদিকে তরমুজ গুলো নিরাপদে থাকে। অপরদিকে ক্ষেতের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসব তরমুজ ক্ষেতে এসে ক্রয় করে নিয়ে যায়। ফলে বাজারজাত করা নিয়ে বাড়তি কষ্ট করতে হয় না তাদের, মাঠে থেকে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস,এবারে বারোমাসি তরমুজ চাষে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে,সঠিক বাজার মূল্য থাকলে ২ লাখের বেশি বিক্রয় করতে পারব বলে আশাবাদী।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান, ২০২১ সালে সর্বপ্রথম একজন কৃষক বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু করেন। তার সফলতা দেখে বর্তমানে ৮থেকে ১০জন কৃষক বারোমাসি তরমুজ চাষে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৮/১০ জন কৃষক বর্তমানে এ চাষ করছেন , পাকিজা জাতের বারোমাসি তরমুজ চারা রোপন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত ৭০/৮০ দিন সময় লাগে অন্যান্য জাতের সময় লাগে ৬৫ দিন । প্রতি বছরে দুই ভাগে এ বারোমাসি তরমুজ চাষ করে কৃষক।

বারোমাসি তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করছেন কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন,এ বছর ছদাহা ইউনিয়নে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ হয়েছে।এখানে পাকিজা, ব্ল্যাকবেবি ও মার্সালো নামে তিন জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ করছেন তারা। তিনি জানান এন এফ এল সিসি নামে একটি প্রকল্প ছিল, সে প্রকল্পের প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথম চাষটা শুরু হয়েছিল, লাভজনক হওয়ার ফলে কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন নিজেরা চাষ করছেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক তাদেরকে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকলে এখানকার কৃষকেরা বারোমাসি তরমুজ চাষ করে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করবেন এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ডিএস./