১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

পদুয়ায় হাঙ্গর খালের ভাঙ্গন: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকোতেই হাজারো মানুষের চলাচল

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সওদাগর পাড়া এলাকায় হাঙ্গর খালের ভাঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের চলাচল ব্যাহত রয়েছে। গত তিন বছর আগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করে কোনরকমভাবে চলাচল করে আসছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি করা ওই সাঁকোটিও জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ার পথে। এই সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল- মাদরাসায় পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থী সহ স্থানীয়দের। যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে এখানকার বাসিন্দাদের।

সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, খালের ভাঙ্গন অংশের পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাটির তৈরি ঘরের সংখ্যা বেশি। কাঠের সাঁকোর উপর ঝুঁকি নিয়ে অবুজ শিশুরা খেলাধুলা করতেছে। যেকোনো সময় দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও উক্ত এলাকাটি কৃষি নির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত। দিন যতই যাচ্ছে খালের পাড়ে বসবাসকারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকষ্ঠায় কালযাপন করছেন। বিশেষ করে বর্ষায় বন্যার প্লাবনে তাঁদের আতঙ্ক বেড়ে যায়। বানের পানি বৃদ্ধি পেলে দুই কূল পেরিয়ে পানি সমতল ভূমিতে প্রবেশ করে। এতে, ঘরবাড়ি, ফসলীক্ষেত ও অসংখ্য জনবসতি মারাত্নকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা, হামিদ হোসেন আজাদ বলেন, ভাঙ্গন স্থানটি বিচ্ছিন্ন হলে শুধু পদুয়া এলাকা নয় বরং পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার কিছু অংশও প্লাবিত হয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাবে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই এটি সংষ্কার করা না হলে সাধারণ মানুষের অপূরনীয় ক্ষতি হবে। তাই ভাঙ্গন অংশটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমানুল হক জানান, ভাঙ্গন অংশটি খুবই ঝুকিপূর্ণ। তাই জনগণের সর্বনাশ না ঘটার আগেই সরকারের উচিৎ কালবিলম্ব না করে স্থানটি সংষ্কারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অন্যথায় বহু এলাকার জনবসতির লোকজন নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড, পটিয়া শাখা ১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী, মাহবুব আলম জানান, হাঙ্গর খালের এই ভাঙ্গন স্থানটি শীঘ্রই পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

পদুয়ায় হাঙ্গর খালের ভাঙ্গন: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকোতেই হাজারো মানুষের চলাচল

প্রকাশিত : ০৫:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সওদাগর পাড়া এলাকায় হাঙ্গর খালের ভাঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের চলাচল ব্যাহত রয়েছে। গত তিন বছর আগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করে কোনরকমভাবে চলাচল করে আসছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি করা ওই সাঁকোটিও জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ার পথে। এই সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল- মাদরাসায় পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থী সহ স্থানীয়দের। যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে এখানকার বাসিন্দাদের।

সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, খালের ভাঙ্গন অংশের পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাটির তৈরি ঘরের সংখ্যা বেশি। কাঠের সাঁকোর উপর ঝুঁকি নিয়ে অবুজ শিশুরা খেলাধুলা করতেছে। যেকোনো সময় দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও উক্ত এলাকাটি কৃষি নির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত। দিন যতই যাচ্ছে খালের পাড়ে বসবাসকারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকষ্ঠায় কালযাপন করছেন। বিশেষ করে বর্ষায় বন্যার প্লাবনে তাঁদের আতঙ্ক বেড়ে যায়। বানের পানি বৃদ্ধি পেলে দুই কূল পেরিয়ে পানি সমতল ভূমিতে প্রবেশ করে। এতে, ঘরবাড়ি, ফসলীক্ষেত ও অসংখ্য জনবসতি মারাত্নকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা, হামিদ হোসেন আজাদ বলেন, ভাঙ্গন স্থানটি বিচ্ছিন্ন হলে শুধু পদুয়া এলাকা নয় বরং পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার কিছু অংশও প্লাবিত হয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাবে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই এটি সংষ্কার করা না হলে সাধারণ মানুষের অপূরনীয় ক্ষতি হবে। তাই ভাঙ্গন অংশটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমানুল হক জানান, ভাঙ্গন অংশটি খুবই ঝুকিপূর্ণ। তাই জনগণের সর্বনাশ না ঘটার আগেই সরকারের উচিৎ কালবিলম্ব না করে স্থানটি সংষ্কারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অন্যথায় বহু এলাকার জনবসতির লোকজন নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড, পটিয়া শাখা ১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী, মাহবুব আলম জানান, হাঙ্গর খালের এই ভাঙ্গন স্থানটি শীঘ্রই পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

ডিএস./