০৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস–২০২৬ উদযাপন

পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতি ও ধরণ পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে দেশের বর্ডার এজেন্সির কাজের কৌশল ও গুরুত্ব। রাজস্ব আহরণ যেখানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হত, সেখানে বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণ, চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধসহ নানাবিধ জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কাস্টমসের বহুমূখী ভূমিকা ও তার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর World Customs Organization (WCO) একটি বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বিশ্বব্যাপী তার তাৎপর্য তুলে ধরে। ২০২৬ সালে WCO কর্তৃক নির্ধারিত কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “Customs protecting society through vigilance and commitment”। WCO এর অন্যান্য সদস্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশ কাস্টমস এ প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয়ভাবে সেমিনার আয়োজন ও দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও কাস্টমস স্টেশনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কাস্টমস এর বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

ফ্রন্টলাইন বর্ডার এজেন্সি হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর দিয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ ও মাদক, অস্ত্র, অবৈধ স্বর্ণ, খাদ্য-ওষুধ, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে—যেমন পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ আন্তর্জাতিকভাবে WTO-TFA, WCO-RKC ও CMAA চুক্তি এবং SAARC, D-8, তুরস্ক, সৌদি আরব ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী অন্যান্য দেশের কাস্টমস প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। চোরাচালান শনাক্ত ও প্রতিরোধের জন্য WCO-এর RILO এবং Customs Enforcement Network (CEN) ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের আর্থ–সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায়ের ২৭% কাস্টমস হতে আদায় করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, দেশীয় শিল্পকে রেয়াতি সুবিধা ও ট্যারিফ সুরক্ষা প্রদান, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধায় রপ্তানি সহজীকরণ, LDC Graduation-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ ও মেধাস্বত্ব বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ করা হয়েছে।

ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি দ্রুততর করছে। ASYCUDA World, iBAS++ ইন্টিগ্রেশন, Bangladesh Single Window (BSW) ও Automated Risk Management Software কার্যকর ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পণ্যচালান খালাস সহজ ও পেপারলেস হয়েছে। Time Release Study অনুসারে ৯০% পণ্য এক দিনের মধ্যে শুল্কায়ন হচ্ছে। Non-Intrusive Inspection, Post Clearance Audit, AEO, Customs Bond Management System, E-auction ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করছে।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা, চোরাচালানকারীসহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসে জড়িতদের নিত্যনতুন কলাকৌশল, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। উচ্চ পেশাদরিত্ব, বিশেষায়িত জ্ঞান, দেশি-বিদেশী অংশীজনদের সাথে সহযোগিতা বজায় রাখাসহ যুগোপযোগী কর্মকৌশলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কাস্টমস এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সারা বিশ্বে আর্থ–সামাজিক সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস–২০২৬ উদযাপন

প্রকাশিত : ০৫:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতি ও ধরণ পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে দেশের বর্ডার এজেন্সির কাজের কৌশল ও গুরুত্ব। রাজস্ব আহরণ যেখানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হত, সেখানে বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণ, চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধসহ নানাবিধ জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কাস্টমসের বহুমূখী ভূমিকা ও তার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর World Customs Organization (WCO) একটি বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বিশ্বব্যাপী তার তাৎপর্য তুলে ধরে। ২০২৬ সালে WCO কর্তৃক নির্ধারিত কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “Customs protecting society through vigilance and commitment”। WCO এর অন্যান্য সদস্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশ কাস্টমস এ প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয়ভাবে সেমিনার আয়োজন ও দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও কাস্টমস স্টেশনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কাস্টমস এর বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

ফ্রন্টলাইন বর্ডার এজেন্সি হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর দিয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ ও মাদক, অস্ত্র, অবৈধ স্বর্ণ, খাদ্য-ওষুধ, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে—যেমন পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ আন্তর্জাতিকভাবে WTO-TFA, WCO-RKC ও CMAA চুক্তি এবং SAARC, D-8, তুরস্ক, সৌদি আরব ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী অন্যান্য দেশের কাস্টমস প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। চোরাচালান শনাক্ত ও প্রতিরোধের জন্য WCO-এর RILO এবং Customs Enforcement Network (CEN) ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের আর্থ–সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায়ের ২৭% কাস্টমস হতে আদায় করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, দেশীয় শিল্পকে রেয়াতি সুবিধা ও ট্যারিফ সুরক্ষা প্রদান, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধায় রপ্তানি সহজীকরণ, LDC Graduation-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ ও মেধাস্বত্ব বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ করা হয়েছে।

ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি দ্রুততর করছে। ASYCUDA World, iBAS++ ইন্টিগ্রেশন, Bangladesh Single Window (BSW) ও Automated Risk Management Software কার্যকর ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পণ্যচালান খালাস সহজ ও পেপারলেস হয়েছে। Time Release Study অনুসারে ৯০% পণ্য এক দিনের মধ্যে শুল্কায়ন হচ্ছে। Non-Intrusive Inspection, Post Clearance Audit, AEO, Customs Bond Management System, E-auction ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করছে।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা, চোরাচালানকারীসহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসে জড়িতদের নিত্যনতুন কলাকৌশল, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। উচ্চ পেশাদরিত্ব, বিশেষায়িত জ্ঞান, দেশি-বিদেশী অংশীজনদের সাথে সহযোগিতা বজায় রাখাসহ যুগোপযোগী কর্মকৌশলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কাস্টমস এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সারা বিশ্বে আর্থ–সামাজিক সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে।

ডিএস./