০৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
পলোগ্রাউন্ডের জনসভা

শিক্ষা–চাকরি–নিরাপত্তায় বিএনপির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত তারেক রহমানের

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিএনপিই কার্যকরভাবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখনই সাধারণ মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনেরা ক্যান আছেন (আপনারা কেমন আছেন)?’—এতে মুহূর্তেই সমাবেশস্থলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন চায় নিরাপদ জীবন, স্থিতিশীল চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, বিএনপির নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক তরুণ, যারা কর্মসংস্থান ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ চায়। বিএনপি অতীতেও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামের ইপিজেডগুলো তার বাস্তব উদাহরণ।

তারেক রহমান আরও বলেন, ভবিষ্যতে নতুন পরিকল্পনার আওতায় আরও ইপিজেড গড়ে তোলা হবে, যাতে যুব সমাজের কর্মসংস্থান বাড়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি ত্বরান্বিত হয়। একইসঙ্গে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করে জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে।

দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, অতীতের বিএনপি সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এটি দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যা নিরসনে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এতে কৃষি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। সমাবেশে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বেলা সোয়া ১২টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হলে করতালিতে সমাবেশস্থল মুখরিত হয়ে ওঠে। তিনি হাত নেড়ে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

পলোগ্রাউন্ডের জনসভা

শিক্ষা–চাকরি–নিরাপত্তায় বিএনপির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত তারেক রহমানের

প্রকাশিত : ০৫:২১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিএনপিই কার্যকরভাবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখনই সাধারণ মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনেরা ক্যান আছেন (আপনারা কেমন আছেন)?’—এতে মুহূর্তেই সমাবেশস্থলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন চায় নিরাপদ জীবন, স্থিতিশীল চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, বিএনপির নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক তরুণ, যারা কর্মসংস্থান ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ চায়। বিএনপি অতীতেও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামের ইপিজেডগুলো তার বাস্তব উদাহরণ।

তারেক রহমান আরও বলেন, ভবিষ্যতে নতুন পরিকল্পনার আওতায় আরও ইপিজেড গড়ে তোলা হবে, যাতে যুব সমাজের কর্মসংস্থান বাড়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি ত্বরান্বিত হয়। একইসঙ্গে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করে জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে।

দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, অতীতের বিএনপি সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এটি দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যা নিরসনে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এতে কৃষি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। সমাবেশে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বেলা সোয়া ১২টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হলে করতালিতে সমাবেশস্থল মুখরিত হয়ে ওঠে। তিনি হাত নেড়ে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান।

ডিএস./