১১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

কোরবানির ঈদে রংপুরে ১৪ লাখ পশু প্রস্তুত

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রংপুরে পশু খামার ও বাসা-বাড়িতে প্রায় পৌনে ১৪ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ার আশায় বিভাগের অধিকাংশ খামারি নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করে কোরবানির বাজার ধরার জন্য এ পশু পালন করছেন। এবার রংপুরের খামারি এনামুল হক তার ৩০০ গরু বাজারে তুলবেন।

ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে গো-খাদ্যসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন না খামারিরা। এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে রংপুরের বিভিন্ন পশুর হাটে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বেপারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশু অনুযায়ী দরদাম করছেন। ভারতীয় গরুর ওপর নির্ভর না করে নিজেদের পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা পূরণ শেষে প্রায় দুই লক্ষাধিক গরু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করছেন খামারি ও বাজার সংশ্লিষ্টরা। রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভাগের আট জেলায় ৫৪ হাজার ২১টি বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে।

এর মধ্যে রংপুরে ৮ হাজার ৪৪৯টি, নীলফামারীতে ২ হাজার ২৫০টি, কুড়িগ্রামে ১০ হাজার ৮৮২টি, দিনাজপুরে ১১ হাজার ৫৩২টি, লালমনিরহাটে ৪ হাজার ৬৯৩টি, গাইবান্ধায় ৮ হাজার ৬৮৪টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ হাজার ২৪১টি এবং পঞ্চগড়ে ৩ হাজার ২৯০টি। এছাড়া অনেকে বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে আবার কেউ সংসারে সচ্ছলতা আনতে খামার গড়ে তুলে বিভিন্ন প্রজাতির পশু লালনপালন করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রংপুর বিভাগের আট জেলায় গত বছর ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯টি পশু জবাই করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর হওয়ায় গতবারের তুলনায় এবার ঈদে কোরবানির চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর বিপরীতে স্থানীয় সরকারি পশু চিকিৎকদের সহযোগিতায় এ বছর রংপুরের আট জেলায় কোরবানিযোগ্য ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৬টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া ৪ লাখ ৮২ হাজার ৭৬৯টি, গরু, মহিষ, বলদ, ষাঁড় ও গাভি ৮ লাখ ৯২ হাজার ৯০৫টি এবং অন্যান্য ৪৯২টি। কোরবানিতে দেশি জাতের ও শংকর জাতের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় খামারিরা এ ধরনের গরু স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মোটাতাজাকরণ শুরু করেছেন। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ঘোনাবাড়ি গ্রামের খামারি এনামুল হক প্রধান বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, আমার খামারে একশ গরু রয়েছে। এছাড়া অন্যের কাছে দুইশ গরু রেখেছি। এবার তিনশ গরু বাজারে তুলব। রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকার খামারি ওয়াজেদ মিয়া ও তামপাটের আবু হানিফা বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ঈদকে ঘিরে লাভের আশায় পশু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন খামারিরা। তবে ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে পশু আমদানি করা হলে লোকসানের মুখে পড়ি আমরা।

কুড়িগাম পৌর এলাকার বকশীপাড়ার তরুণ খামারি মাহমুদুল হাসান বাপ্পী বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, তার খামারে কোরকানিযোগ্য ২০টি গরু রয়েছে। গত ৬ মাস ধরে তিনি এসব গরু লালন-পালন করছেন। বর্তমান বাজার অনুযায়ী বিক্রি হলে তিনি লাভবান হবেন। তবে বাইরে থেকে গরু আমদানি হলে দামে বিপর্যয় হতে পারে বলে আশঙ্কা তার। রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের উপ-পরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার রংপুর বিভাগে গরুর খামারিরা যে পরিমাণ গরু লালন-পালন করছেন তাতে ঈদে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানোর পরও প্রায় দুই লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে পারবেন খামারিরা।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম উপায়ে যাতে কোনো খামারি গরু মোটাতাজা করতে না পারে সেজন্য আমাদের মাঠকর্মীরা বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। রোগবালাইমুক্ত সুস্থ, সবল পশুর জন্য স্টরয়েট জাতীয় খাবার পরিহার করে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কোরবানির ঈদে রংপুরে ১৪ লাখ পশু প্রস্তুত

প্রকাশিত : ০৮:১৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অগাস্ট ২০১৮

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রংপুরে পশু খামার ও বাসা-বাড়িতে প্রায় পৌনে ১৪ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ার আশায় বিভাগের অধিকাংশ খামারি নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করে কোরবানির বাজার ধরার জন্য এ পশু পালন করছেন। এবার রংপুরের খামারি এনামুল হক তার ৩০০ গরু বাজারে তুলবেন।

ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে গো-খাদ্যসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন না খামারিরা। এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে রংপুরের বিভিন্ন পশুর হাটে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বেপারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশু অনুযায়ী দরদাম করছেন। ভারতীয় গরুর ওপর নির্ভর না করে নিজেদের পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা পূরণ শেষে প্রায় দুই লক্ষাধিক গরু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করছেন খামারি ও বাজার সংশ্লিষ্টরা। রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভাগের আট জেলায় ৫৪ হাজার ২১টি বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে।

এর মধ্যে রংপুরে ৮ হাজার ৪৪৯টি, নীলফামারীতে ২ হাজার ২৫০টি, কুড়িগ্রামে ১০ হাজার ৮৮২টি, দিনাজপুরে ১১ হাজার ৫৩২টি, লালমনিরহাটে ৪ হাজার ৬৯৩টি, গাইবান্ধায় ৮ হাজার ৬৮৪টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ হাজার ২৪১টি এবং পঞ্চগড়ে ৩ হাজার ২৯০টি। এছাড়া অনেকে বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে আবার কেউ সংসারে সচ্ছলতা আনতে খামার গড়ে তুলে বিভিন্ন প্রজাতির পশু লালনপালন করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রংপুর বিভাগের আট জেলায় গত বছর ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯টি পশু জবাই করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর হওয়ায় গতবারের তুলনায় এবার ঈদে কোরবানির চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর বিপরীতে স্থানীয় সরকারি পশু চিকিৎকদের সহযোগিতায় এ বছর রংপুরের আট জেলায় কোরবানিযোগ্য ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৬টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া ৪ লাখ ৮২ হাজার ৭৬৯টি, গরু, মহিষ, বলদ, ষাঁড় ও গাভি ৮ লাখ ৯২ হাজার ৯০৫টি এবং অন্যান্য ৪৯২টি। কোরবানিতে দেশি জাতের ও শংকর জাতের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় খামারিরা এ ধরনের গরু স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মোটাতাজাকরণ শুরু করেছেন। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ঘোনাবাড়ি গ্রামের খামারি এনামুল হক প্রধান বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, আমার খামারে একশ গরু রয়েছে। এছাড়া অন্যের কাছে দুইশ গরু রেখেছি। এবার তিনশ গরু বাজারে তুলব। রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকার খামারি ওয়াজেদ মিয়া ও তামপাটের আবু হানিফা বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ঈদকে ঘিরে লাভের আশায় পশু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন খামারিরা। তবে ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে পশু আমদানি করা হলে লোকসানের মুখে পড়ি আমরা।

কুড়িগাম পৌর এলাকার বকশীপাড়ার তরুণ খামারি মাহমুদুল হাসান বাপ্পী বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, তার খামারে কোরকানিযোগ্য ২০টি গরু রয়েছে। গত ৬ মাস ধরে তিনি এসব গরু লালন-পালন করছেন। বর্তমান বাজার অনুযায়ী বিক্রি হলে তিনি লাভবান হবেন। তবে বাইরে থেকে গরু আমদানি হলে দামে বিপর্যয় হতে পারে বলে আশঙ্কা তার। রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের উপ-পরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার রংপুর বিভাগে গরুর খামারিরা যে পরিমাণ গরু লালন-পালন করছেন তাতে ঈদে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানোর পরও প্রায় দুই লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে পারবেন খামারিরা।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম উপায়ে যাতে কোনো খামারি গরু মোটাতাজা করতে না পারে সেজন্য আমাদের মাঠকর্মীরা বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। রোগবালাইমুক্ত সুস্থ, সবল পশুর জন্য স্টরয়েট জাতীয় খাবার পরিহার করে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।