০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘নাগরিকরা দায়িত্ব পালন করেছেন, এবার জনপ্রতিনিধিদের পালা’: ডিসি

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী আবারও প্রমাণ করেছেন যে তারা একটি শান্তিপূর্ণ চট্টগ্রাম ও একটি সুন্দর নতুন বাংলাদেশ চান। সে লক্ষ্যেই তারা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। “এ বিজয় চট্টগ্রামবাসীর বিজয়—এ বিজয় আপনাদের সকলের,” বলেন তিনি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলার আটটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা ও বিতরণকালে জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের কোথাও কোনো অভিযোগ, অনুযোগ, দুর্ঘটনা বা সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। ফলাফল ঘোষণার পরও কোনো প্রার্থী আপত্তি জানাননি; সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ফলাফল মেনে নিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুর সময় প্রধান উপদেষ্টা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে পুনর্গঠন করা হয়। স্বল্প সময়ে নতুন পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। “কিন্তু আমাদের বিশ্বাস ছিল—আমাদের পারতেই হবে। সেই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে,” বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক দাবি করেন, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, তা দূর করতে নাগরিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। “চট্টগ্রামের নাগরিকরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন,” যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার বাহিনী এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে সবার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে বৈষম্যহীন ও নিরাপদ নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। “আপনারা দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে মানুষের সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করবেন,” অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পরও মানুষ প্রতিকূলতার মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন—এই প্রত্যাশায় যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একটি ভালো দেশ গড়ে তুলবেন। “নাগরিকেরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন যাঁদের ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তাঁরা নিশ্চয়ই সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন,” বলেন জেলা প্রশাসক।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন তারেক রহমান

‘নাগরিকরা দায়িত্ব পালন করেছেন, এবার জনপ্রতিনিধিদের পালা’: ডিসি

প্রকাশিত : ০১:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী আবারও প্রমাণ করেছেন যে তারা একটি শান্তিপূর্ণ চট্টগ্রাম ও একটি সুন্দর নতুন বাংলাদেশ চান। সে লক্ষ্যেই তারা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। “এ বিজয় চট্টগ্রামবাসীর বিজয়—এ বিজয় আপনাদের সকলের,” বলেন তিনি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলার আটটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা ও বিতরণকালে জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের কোথাও কোনো অভিযোগ, অনুযোগ, দুর্ঘটনা বা সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। ফলাফল ঘোষণার পরও কোনো প্রার্থী আপত্তি জানাননি; সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ফলাফল মেনে নিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুর সময় প্রধান উপদেষ্টা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে পুনর্গঠন করা হয়। স্বল্প সময়ে নতুন পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। “কিন্তু আমাদের বিশ্বাস ছিল—আমাদের পারতেই হবে। সেই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে,” বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক দাবি করেন, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, তা দূর করতে নাগরিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। “চট্টগ্রামের নাগরিকরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন,” যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার বাহিনী এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে সবার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে বৈষম্যহীন ও নিরাপদ নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। “আপনারা দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে মানুষের সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করবেন,” অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পরও মানুষ প্রতিকূলতার মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন—এই প্রত্যাশায় যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একটি ভালো দেশ গড়ে তুলবেন। “নাগরিকেরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন যাঁদের ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তাঁরা নিশ্চয়ই সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন,” বলেন জেলা প্রশাসক।

ডিএস./