০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন

দুর্ভোগ যুদ্ধ বন্ধ হলেও টাঙ্গাইলে কাটেনি জ¦ালানি তেলের সংকট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতি দিলেও টাঙ্গাইলে কাটছে জ¦ালানি তেলের সংকট। যানবাহনের চালক মহাসড়ক ও শহরের একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরেও পাচ্ছে না কাঙ্খিত জ¦ালাতি। এতে বিপাকে পড়েছেন চালকরা। এছাড়াও বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন থাকায় রোদ বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিন টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ডের একাধিক ফিলিং স্টেশন, রাবনা, বিক্রমহাটি ও রসুলপুর ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, যানবাহলে লাইন মাম্প ছাড়িয়ে মহাসড়কে উঠে গিয়েছে। নতুন বাসস্ট্যান্ডেও ময়মনসিংহ সড়কের বাস ট্রাকের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। চালকদের দাবি, তিন থেকে চার ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্খিত জ¦ালানি মিলছে না।

ঝটিকা পরিবহনের চালক ইকবাল হোসেন বলেন, যোগাযোগ ফিলিং স্টেশন থেকে জ¦ালানি নিতে প্রায় দুই ঘন্টা যাবত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেল পেতে আরও প্রায় দেড় ঘন্টা লাগবে। এতে আমার খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঘাটাইলের কাভার্ড ভ্যানের হেলপার মো. বাপ্পি মিয়া বলেন, আমরা ঢাকা থেকে ঘাটাইল দরজা নিয়ে যাচ্ছি। তবে মহাসড়কের বিক্রমহাটি পর্যন্ত অন্তত ১২ টি ফিলিং স্টেশনের গিয়ে মাত্র ১০ লিটার ডিজেল পাইছি। পকেটে টাকা থাকলেও জ¦ালানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর মহাসড়কের ফিলিং স্টেশন গুলোতে পরিমাপে খুব দিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।

দিলিপ ঘোষ নামের ওষুধ কোম্পানীর এক কর্মী বলেন, সাত বছর যাবত আমি মোটরসাইকেলে অকটেন ব্যবহার করি। তবে অকটেন তো দূরের কথা প্রায় এক মাস যাবত টাঙ্গাইল শহরে ২০০ টাকার বেশি পেট্রোলও পাচ্ছি না। যোগাযোগ ফিলিং স্টেশনে আজও প্রায় আড়াই ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পেট্রোল পেলাম না। তাদের পেট্রোল শেষ হয়েছে বলে মেশিন বন্ধ করে দিলো।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ও নারায়নগঞ্জ ডিপোতে দুই তিন দিন পর পর সিরিয়াল পাওয়া যায়। তবে যারা ঘুষ দেয়, তাদের আগে সিরিয়াল দেয়। ঘুষ না দিলে সিরিয়াল পাওয়া যায় না। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে জ¦ালানি তেলে ঘাটতি নেই। তবে, আমরা ডিপো থেকে কাঙ্খিত জ¦ালানি পাচ্ছি না।

টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মিজান মিয়া বলেন, আমরা কয়েক দিন যাবত পেট্রোল ও অকটেন চাহিদা মতো পাচ্ছি না। এছাড়াও ডিজেল যা পাই, তা আনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ¦ালানি পাই, তাহলেই গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারবো।
যোগাযোগ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মনির হোসেন বলেন, আমাদের বর্তমানে যা চাহিদা তার অর্ধেক জ¦ালানিও আমরা পাচ্ছি না। প্রতিদিন ২০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও আমরা পাচ্ছি সর্বোচ্চ ৯ হাজার। পেট্রোলের ১০ হাজার লিটার চাহিদা থাকলে আমরা পাচ্ছি সাড়ে চার হাজার লিটার। ৯ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা থাকলেও পাচ্ছি ৪ হাজার লিটার। কাঙ্খিত জ¦ালানি না পাওয়ায় আমরা গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছি না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, এক মাসে জ¦ালানি তেলের উপরে অন্তত ১২ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সব অভিযানে দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন

দুর্ভোগ যুদ্ধ বন্ধ হলেও টাঙ্গাইলে কাটেনি জ¦ালানি তেলের সংকট

প্রকাশিত : ০৫:৩১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতি দিলেও টাঙ্গাইলে কাটছে জ¦ালানি তেলের সংকট। যানবাহনের চালক মহাসড়ক ও শহরের একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরেও পাচ্ছে না কাঙ্খিত জ¦ালাতি। এতে বিপাকে পড়েছেন চালকরা। এছাড়াও বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন থাকায় রোদ বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিন টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ডের একাধিক ফিলিং স্টেশন, রাবনা, বিক্রমহাটি ও রসুলপুর ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, যানবাহলে লাইন মাম্প ছাড়িয়ে মহাসড়কে উঠে গিয়েছে। নতুন বাসস্ট্যান্ডেও ময়মনসিংহ সড়কের বাস ট্রাকের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। চালকদের দাবি, তিন থেকে চার ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্খিত জ¦ালানি মিলছে না।

ঝটিকা পরিবহনের চালক ইকবাল হোসেন বলেন, যোগাযোগ ফিলিং স্টেশন থেকে জ¦ালানি নিতে প্রায় দুই ঘন্টা যাবত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেল পেতে আরও প্রায় দেড় ঘন্টা লাগবে। এতে আমার খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঘাটাইলের কাভার্ড ভ্যানের হেলপার মো. বাপ্পি মিয়া বলেন, আমরা ঢাকা থেকে ঘাটাইল দরজা নিয়ে যাচ্ছি। তবে মহাসড়কের বিক্রমহাটি পর্যন্ত অন্তত ১২ টি ফিলিং স্টেশনের গিয়ে মাত্র ১০ লিটার ডিজেল পাইছি। পকেটে টাকা থাকলেও জ¦ালানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর মহাসড়কের ফিলিং স্টেশন গুলোতে পরিমাপে খুব দিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।

দিলিপ ঘোষ নামের ওষুধ কোম্পানীর এক কর্মী বলেন, সাত বছর যাবত আমি মোটরসাইকেলে অকটেন ব্যবহার করি। তবে অকটেন তো দূরের কথা প্রায় এক মাস যাবত টাঙ্গাইল শহরে ২০০ টাকার বেশি পেট্রোলও পাচ্ছি না। যোগাযোগ ফিলিং স্টেশনে আজও প্রায় আড়াই ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পেট্রোল পেলাম না। তাদের পেট্রোল শেষ হয়েছে বলে মেশিন বন্ধ করে দিলো।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ও নারায়নগঞ্জ ডিপোতে দুই তিন দিন পর পর সিরিয়াল পাওয়া যায়। তবে যারা ঘুষ দেয়, তাদের আগে সিরিয়াল দেয়। ঘুষ না দিলে সিরিয়াল পাওয়া যায় না। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে জ¦ালানি তেলে ঘাটতি নেই। তবে, আমরা ডিপো থেকে কাঙ্খিত জ¦ালানি পাচ্ছি না।

টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মিজান মিয়া বলেন, আমরা কয়েক দিন যাবত পেট্রোল ও অকটেন চাহিদা মতো পাচ্ছি না। এছাড়াও ডিজেল যা পাই, তা আনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ¦ালানি পাই, তাহলেই গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারবো।
যোগাযোগ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মনির হোসেন বলেন, আমাদের বর্তমানে যা চাহিদা তার অর্ধেক জ¦ালানিও আমরা পাচ্ছি না। প্রতিদিন ২০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও আমরা পাচ্ছি সর্বোচ্চ ৯ হাজার। পেট্রোলের ১০ হাজার লিটার চাহিদা থাকলে আমরা পাচ্ছি সাড়ে চার হাজার লিটার। ৯ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা থাকলেও পাচ্ছি ৪ হাজার লিটার। কাঙ্খিত জ¦ালানি না পাওয়ায় আমরা গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছি না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, এক মাসে জ¦ালানি তেলের উপরে অন্তত ১২ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সব অভিযানে দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

ডিএস./