০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

কবিগুরুর স্মৃতিধন্য পতিসরে বর্ণিল রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর পতিসরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে রবীন্দ্রজয়ন্তী। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত এ জনপদে দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবিক দর্শন ও সমকালীন সমাজভাবনা” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের কবি নন, তিনি বিশ্বমানবতার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য, দর্শন, সংগীত ও সমাজচিন্তা যুগে যুগে মানুষকে আলোকিত করেছে। মানবিক মূল্যবোধ, সাম্য ও সম্প্রীতির যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

তিনি আরও বলেন, পতিসরের মাটির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছিল গভীর সম্পর্ক। এখানকার কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। মানুষের কল্যাণ ও গ্রামীণ উন্নয়নে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে। সমাজে বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রেজাউল ইসলাম রেজু, জাহিদুল ইসলাম ধলু, মোস্তাফিজুর রহমান, ফজলে হুদা বাবুল, ইকরামুল বারী টিপু, এনামুল হক, এম. মুশফিকুল ফজল (আনসারী), মোহাম্মদ শাহজাহান, আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক দর্শনকে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কবিগুরুর স্মৃতিধন্য পতিসরে বর্ণিল রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন

প্রকাশিত : ০১:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর পতিসরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে রবীন্দ্রজয়ন্তী। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত এ জনপদে দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবিক দর্শন ও সমকালীন সমাজভাবনা” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের কবি নন, তিনি বিশ্বমানবতার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য, দর্শন, সংগীত ও সমাজচিন্তা যুগে যুগে মানুষকে আলোকিত করেছে। মানবিক মূল্যবোধ, সাম্য ও সম্প্রীতির যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

তিনি আরও বলেন, পতিসরের মাটির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছিল গভীর সম্পর্ক। এখানকার কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। মানুষের কল্যাণ ও গ্রামীণ উন্নয়নে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে। সমাজে বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রেজাউল ইসলাম রেজু, জাহিদুল ইসলাম ধলু, মোস্তাফিজুর রহমান, ফজলে হুদা বাবুল, ইকরামুল বারী টিপু, এনামুল হক, এম. মুশফিকুল ফজল (আনসারী), মোহাম্মদ শাহজাহান, আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক দর্শনকে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিএস./