০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন যুগের সূচনা, ব্যয় ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা

নীলফামারীতে ১০০০ শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ শুরু

 

উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে নীলফামারীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল”। প্রায় ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে পুরো রংপুর বিভাগজুড়ে।

শনিবার (৯ মে) সকালে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রাথমিক কারিগরি ও ভৌগোলিক সমীক্ষা শুরু করেছে চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িতব্য এ প্রকল্পে চীন সরকার অনুদান হিসেবে প্রায় ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা প্রদান করছে। হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৫ একর জমি। সেখানে গড়ে তোলা হবে আন্তর্জাতিক মানের ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল কমপ্লেক্স।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিনিধি দলের নেতা ডং লি’র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কারিগরি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা হাসপাতালের সম্ভাব্য অবকাঠামো, মাটি পরীক্ষা, সংযোগ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফাতেমা তুজ জোহরা সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালটিতে থাকবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সকল সুবিধা। এখানে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পৃথক ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন, ডিরেক্টরস বাংলো, প্রশাসনিক ভবন, উন্নত ল্যাব সুবিধা এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ১ হাজার শয্যার মধ্যে ৫০০টি সাধারণ রোগীদের জন্য এবং বাকি ৫০০টি বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার জন্য বরাদ্দ থাকবে। হাসপাতালটিতে নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, অনকোলজি, অর্থোপেডিকস, শিশু বিভাগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “এই হাসপাতালটি শুধু নীলফামারী নয়, পুরো উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যেতে হতো। হাসপাতালটি চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU), এইচডিইউ (HDU), উন্নত ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্যাথল্যাব এবং অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হবে। ফলে কিডনি, হৃদরোগ, ক্যান্সার ও স্নায়বিক জটিলতাসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবেই সম্ভব হবে।

প্রতিনিধি দলের সফরকালে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালটি নির্মিত হলে শুধু চিকিৎসাসেবার মানই উন্নত হবে না, বরং কর্মসংস্থান, স্থানীয় অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলকে একটি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা হাবে পরিণত করার পথও প্রশস্ত করবে।

ডিএস.

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন যুগের সূচনা, ব্যয় ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা

নীলফামারীতে ১০০০ শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ শুরু

প্রকাশিত : ০৫:০১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

 

উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে নীলফামারীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল”। প্রায় ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে পুরো রংপুর বিভাগজুড়ে।

শনিবার (৯ মে) সকালে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রাথমিক কারিগরি ও ভৌগোলিক সমীক্ষা শুরু করেছে চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িতব্য এ প্রকল্পে চীন সরকার অনুদান হিসেবে প্রায় ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা প্রদান করছে। হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৫ একর জমি। সেখানে গড়ে তোলা হবে আন্তর্জাতিক মানের ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল কমপ্লেক্স।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিনিধি দলের নেতা ডং লি’র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কারিগরি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা হাসপাতালের সম্ভাব্য অবকাঠামো, মাটি পরীক্ষা, সংযোগ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফাতেমা তুজ জোহরা সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালটিতে থাকবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সকল সুবিধা। এখানে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পৃথক ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন, ডিরেক্টরস বাংলো, প্রশাসনিক ভবন, উন্নত ল্যাব সুবিধা এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ১ হাজার শয্যার মধ্যে ৫০০টি সাধারণ রোগীদের জন্য এবং বাকি ৫০০টি বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার জন্য বরাদ্দ থাকবে। হাসপাতালটিতে নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, অনকোলজি, অর্থোপেডিকস, শিশু বিভাগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “এই হাসপাতালটি শুধু নীলফামারী নয়, পুরো উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যেতে হতো। হাসপাতালটি চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU), এইচডিইউ (HDU), উন্নত ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্যাথল্যাব এবং অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হবে। ফলে কিডনি, হৃদরোগ, ক্যান্সার ও স্নায়বিক জটিলতাসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবেই সম্ভব হবে।

প্রতিনিধি দলের সফরকালে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালটি নির্মিত হলে শুধু চিকিৎসাসেবার মানই উন্নত হবে না, বরং কর্মসংস্থান, স্থানীয় অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলকে একটি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা হাবে পরিণত করার পথও প্রশস্ত করবে।

ডিএস.