দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর-এর বহিঃনোঙর (আউটার অ্যাংকারেজ) এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতি ও ছিচঁকে চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে বহিঃনোঙর এলাকায় জাহাজ চলাচল ও অবস্থান অনেক বেশি নিরাপদ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অতীতে বহিঃনোঙরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি জাহাজে চুরি, ডাকাতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির নানা অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত টহল ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে অপরাধ প্রবণতা দৃশ্যমানভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতি আস্থা বাড়ছে এবং বন্দরের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও শক্তিশালী হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহিঃনোঙরে অবস্থানরত প্রতিটি জাহাজে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের প্রশিক্ষিত ‘পোর্ট ওয়াচম্যান’ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব ওয়াচম্যান সার্বক্ষণিক জাহাজ পাহারায় নিয়োজিত থাকছেন। ফলে সন্দেহজনক নৌযান বা অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে দ্রুত সতর্কতা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।
নিরাপত্তা জোরদারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তা বিভাগ নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সাথে সমন্বিতভাবে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের মধ্যে সার্বক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাও নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক VTMIS (Vessel Traffic Management and Information System)-এর মাধ্যমে পোর্ট কন্ট্রোল থেকে বহিঃনোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নৌ-পুলিশ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমেও অপরাধীচক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসাথে বার্থ অপারেটর, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর, শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বহিঃনোঙর এলাকা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও।
নিরাপদ ও আধুনিক বন্দর গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
ডিএস./




















