০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পাবনায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেধা বিকাশে অনন্য ভূমিকায় ‘খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ট্রাস্ট’

পাবনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া রোধে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন ‘খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ট্রাস্ট’। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ট্রাস্টটি নানাবিধ কল্যাণমূলক, সামাজিক ও মানবিক কাজের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা প্রসারে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে ট্রাস্টের ‘মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫’। সরকারের পাশাপাশি মফস্বল বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনায় ধরে রাখতে এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে এই প্রয়াস সত্যিই গ্রামীণ শিক্ষাখাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সুধীজনদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এই মেধাবৃত্তি কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বছর থেকে এই কার্যক্রমটি পাবনা সদর উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাস্টের। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং তাদের মানসিকভাবে উৎসাহিত করতে কোলাদী, বকশীপুর, বলরামপুর, দড়িভাউডাঙ্গা, নলদহ ও খতিব আব্দুল জাহিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে ট্রাস্ট। এসব অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল নিজে উপস্থিত থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে প্রথম কিস্তির বৃত্তির অর্থ তুলে দেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ বছর মেয়াদী এমন বৃত্তির ব্যবস্থা সত্যি বিরল। এই উদ্যোগ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করে তুলবে এবং গ্রামীণ শিক্ষাখাতের উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। উৎসাহ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরাও।
ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুমায়রা হিমু বলেন, আমার বাবা নেই। টানা তিন বছর প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে পাব, অভাবের সংসারে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। মুকুল স্যার নিজে আমাদের স্কুলে এসে যখন বৃত্তির টাকা হাতে তুলে দিলেন, তখন খুব আনন্দ লাগছিলো। এছাড়া পড়াশোনার প্রতি আরো আগ্রহ বেড়েছে।

একটি বিষয়ে রেজাল্ট খারাপ হওয়া বৃত্তি পায়নি কোলাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের স্কুলের বন্ধুরা যখন পুরস্কার নিচ্ছিল, তখন আমারও খুব গর্ব হচ্ছিল এবং একইসাথে আমার ভেতরেও প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব আরো জাগ্রত হচ্ছিলো। এ থেকে উৎসাহ পেয়ে পড়াশোনা আরো বেশি বেশি করার জেদ চলে এসেছে। সামনে অবশ্যই আরও ভালো করার চেষ্টা করব।

এধরণের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় জানিয়ে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামারা তাসবিহা বলেন, সরকারিভাবে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও পড়াশোনায় আগ্রহী করতে বৃত্তি সহ বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। এর বাইরে এই ট্রাস্টটির মত বেসরকারি সংস্থাগুলো যদি সমন্বিতভাবে এসব কাজে এগিয়ে আসে তাহলে দ্রুতই শিক্ষায় ইতিবাচক বড় একটা পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমি খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ট্রাস্টের প্রতি আহ্বান জানাবো, একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এধরণের উদ্যোগের মাধ্যমে বেশি ভূমিকা রাখতে।

স্ট্রাস্টের চেয়ারম্যান খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল বলেন, আমাদের এই ট্রাস্টের মূল লক্ষ্যই হলো অবহেলিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়ানো। গ্রামীণ জনপদে অনেক মেধাবী শিশু রয়েছে, যারা কেবল সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা আর সামান্য আর্থিক সহযোগিতার অভাবে ঝরে পড়ে। আমরা চাই না কোনো মেধা অর্থের অভাবে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাক। প্রাথমিক স্তরের এই শিশুরা যেন ঝরে না পড়ে এবং পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হয়, সেজন্যই আমরা এই ৩ বছর মেয়াদী বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি।

ডিএস./

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আশুগঞ্জে গাঁজা উদ্ধার,দুই মাদক কারবারী গ্রেফতার

পাবনায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেধা বিকাশে অনন্য ভূমিকায় ‘খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ট্রাস্ট’

প্রকাশিত : ০৩:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পাবনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া রোধে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন ‘খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ট্রাস্ট’। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ট্রাস্টটি নানাবিধ কল্যাণমূলক, সামাজিক ও মানবিক কাজের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা প্রসারে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে ট্রাস্টের ‘মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫’। সরকারের পাশাপাশি মফস্বল বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনায় ধরে রাখতে এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে এই প্রয়াস সত্যিই গ্রামীণ শিক্ষাখাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সুধীজনদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এই মেধাবৃত্তি কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বছর থেকে এই কার্যক্রমটি পাবনা সদর উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাস্টের। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং তাদের মানসিকভাবে উৎসাহিত করতে কোলাদী, বকশীপুর, বলরামপুর, দড়িভাউডাঙ্গা, নলদহ ও খতিব আব্দুল জাহিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে ট্রাস্ট। এসব অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল নিজে উপস্থিত থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে প্রথম কিস্তির বৃত্তির অর্থ তুলে দেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ বছর মেয়াদী এমন বৃত্তির ব্যবস্থা সত্যি বিরল। এই উদ্যোগ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করে তুলবে এবং গ্রামীণ শিক্ষাখাতের উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। উৎসাহ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরাও।
ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুমায়রা হিমু বলেন, আমার বাবা নেই। টানা তিন বছর প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে পাব, অভাবের সংসারে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। মুকুল স্যার নিজে আমাদের স্কুলে এসে যখন বৃত্তির টাকা হাতে তুলে দিলেন, তখন খুব আনন্দ লাগছিলো। এছাড়া পড়াশোনার প্রতি আরো আগ্রহ বেড়েছে।

একটি বিষয়ে রেজাল্ট খারাপ হওয়া বৃত্তি পায়নি কোলাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের স্কুলের বন্ধুরা যখন পুরস্কার নিচ্ছিল, তখন আমারও খুব গর্ব হচ্ছিল এবং একইসাথে আমার ভেতরেও প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব আরো জাগ্রত হচ্ছিলো। এ থেকে উৎসাহ পেয়ে পড়াশোনা আরো বেশি বেশি করার জেদ চলে এসেছে। সামনে অবশ্যই আরও ভালো করার চেষ্টা করব।

এধরণের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় জানিয়ে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামারা তাসবিহা বলেন, সরকারিভাবে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও পড়াশোনায় আগ্রহী করতে বৃত্তি সহ বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। এর বাইরে এই ট্রাস্টটির মত বেসরকারি সংস্থাগুলো যদি সমন্বিতভাবে এসব কাজে এগিয়ে আসে তাহলে দ্রুতই শিক্ষায় ইতিবাচক বড় একটা পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমি খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল ট্রাস্টের প্রতি আহ্বান জানাবো, একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এধরণের উদ্যোগের মাধ্যমে বেশি ভূমিকা রাখতে।

স্ট্রাস্টের চেয়ারম্যান খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল বলেন, আমাদের এই ট্রাস্টের মূল লক্ষ্যই হলো অবহেলিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়ানো। গ্রামীণ জনপদে অনেক মেধাবী শিশু রয়েছে, যারা কেবল সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা আর সামান্য আর্থিক সহযোগিতার অভাবে ঝরে পড়ে। আমরা চাই না কোনো মেধা অর্থের অভাবে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাক। প্রাথমিক স্তরের এই শিশুরা যেন ঝরে না পড়ে এবং পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হয়, সেজন্যই আমরা এই ৩ বছর মেয়াদী বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি।

ডিএস./