রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকলেও তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার ১২ নম্বর মিঠিপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে মাদরাসা মোড় সংলগ্ন একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। দীর্ঘ সময় নজরদারির পর ডিবির একটি বিশেষ দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় বাড়ির ভেতরে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার প্রমাণ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকেই ৮ জনকে আটক করা হয়।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, দুটি কম্পিউটার মনিটর, একটি সিপিইউ, ১৩টি স্মার্টফোন এবং ২৬টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, এসব ডিভাইস ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনভিত্তিক জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত করে অর্থ লেনদেনেরও তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত ছিল। তবে বাইরে থেকে সাধারণ আবাসিক বাড়ি মনে হওয়ায় কেউ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেনি। মাঝেমধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ির ভেতরে কার্যক্রম চললেও স্থানীয়দের অনেকেই সেটিকে গুরুত্ব দেননি।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান,“বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রম সমাজে নতুন ধরনের অপরাধ হিসেবে বিস্তার লাভ করছে। তরুণদের একটি অংশ সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।”
তিনি আরও বলেন,“গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ চলছে। পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো বর্তমানে সাইবার অপরাধের বড় একটি অংশে পরিণত হয়েছে। মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গোপনে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।এতে তরুণ সমাজের মধ্যে আসক্তি বাড়ছে এবং অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ডিএস./



















