নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নথি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে আদালতের এক কর্মচারীর কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে আদালতের কর্মচারী, মুহুরি ও উমেদারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে ২০২৬ সন্ধ্যায় নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে জানান যে, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ থেকে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি হয়েছে। মামলাটি ছিল দায়রা মামলা নং-৯০৪/২০২২, যার রায় ঘোষণার কথা ছিল শিগগিরই।
বিষয়টি জানার পর পুলিশ সুপার আরও তথ্য পান যে, একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আদালতের এক কর্মচারীর কাছে ফোন করে চুরি হওয়া নথি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেফতার এবং নথি উদ্ধারের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে ডিবির একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার গভীর তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে এস এম আকাশ (২৬) নামের এক যুবককে শনাক্ত করা হয়। পরে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এবং পরবর্তীতে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার বাড়ির আঙিনায় খড়ের পালার ভেতর লুকিয়ে রাখা চুরি হওয়া আদালতের নথি উদ্ধার করে দেয়।
আকাশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ নওগাঁ সদর ও আদমদীঘি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর পিয়ন পলাশ, পলাশের ভাই সাপাহার সাব-জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং আদালতের মুহুরি সবুজ (৪০)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত এস এম আকাশ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তিনি কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথাও জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, কিংবা আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনেতদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ডিএস./




















