০৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
সেতু ও সড়ক রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

তিস্তার ঢলে সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে রংপুর–লালমনিরহাট সড়ক

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং ভেঙে যাওয়ায় সেতু এবং রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ মিটারের বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হঠাৎ করে বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভাঙন শুরু হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

এলাকাবাসী জানান, গত বছরও একই স্থানে প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। সে সময় স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে এলজিইডি প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং স্থাপন করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে। কিন্তু পরবর্তীতে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবার সেই পাইলিং ভেদ করেই নদীর তীব্র স্রোত নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান করা হয় না। এখনই জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সেতু ও সড়ক রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “গত বছর যখন সেতু রক্ষা বাঁধটিতে ভাঙন শুরু হয়, তখন আমি এলজিইডিকে জিওব্যাগ বা কংক্রিট ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং স্থাপন করে। এবার সেই পাইলিংও টিকতে পারেনি। বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার না হওয়ার কারণেই আজ এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে বাঁশের পাইলিং নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছিল। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, চলমান বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে শুধু দ্বিতীয় তিস্তা সেতুই নয়, রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ডিএস./

ট্যাগ :

অবহেলার মূল্য জীবন! ব্রিজ ধসে নিহত ট্রাকচালক

সেতু ও সড়ক রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

তিস্তার ঢলে সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে রংপুর–লালমনিরহাট সড়ক

প্রকাশিত : ০৫:১৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং ভেঙে যাওয়ায় সেতু এবং রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ মিটারের বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হঠাৎ করে বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভাঙন শুরু হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

এলাকাবাসী জানান, গত বছরও একই স্থানে প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। সে সময় স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে এলজিইডি প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং স্থাপন করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে। কিন্তু পরবর্তীতে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবার সেই পাইলিং ভেদ করেই নদীর তীব্র স্রোত নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান করা হয় না। এখনই জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সেতু ও সড়ক রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “গত বছর যখন সেতু রক্ষা বাঁধটিতে ভাঙন শুরু হয়, তখন আমি এলজিইডিকে জিওব্যাগ বা কংক্রিট ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং স্থাপন করে। এবার সেই পাইলিংও টিকতে পারেনি। বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার না হওয়ার কারণেই আজ এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে বাঁশের পাইলিং নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছিল। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, চলমান বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে শুধু দ্বিতীয় তিস্তা সেতুই নয়, রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ডিএস./