০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

১৮ বছরে বদলে গেছে ঢাকা ইস্ট, উন্নয়নের গল্প রেখে বিদায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের

দীর্ঘ ১৮ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিশু অপুষ্টি, বাল্যবিবাহ, শিক্ষাবঞ্চনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে রাজধানীর ঢাকা ইস্ট এলাকায়। স্থানীয় নেতৃত্ব, কমিউনিটি সংগঠন ও সরকারি অংশীদারদের হাতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ‘ঢাকা ইস্ট আরবান প্রোগ্রাম’।

বারিধারার ডি-মাজেনড সেন্টারে আয়োজিত ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠান ’২৬’-এ ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা ইস্টের ৮টি ওয়ার্ডে পরিচালিত কর্মসূচির অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এ সময়ে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার ১৫ মানুষের কাছে উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল পৌঁছেছে। স্পনসরশিপ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় সহায়তা পেয়েছে ৮ হাজার ২৫৫ শিশু। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

কর্মসূচির তথ্যমতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের কম ওজনের হার ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং খর্বাকৃতির হার ৩৭ শতাংশ থেকে ২৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। কার্যকর সাক্ষরতার হার ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। বিদ্যালয়ে ভর্তি ও নিয়মিত উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ের হার ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ এবং ছেলেদের বাল্যবিবাহ ১৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। কর্মসূচির আওতাভুক্ত শিশুদের শতভাগ জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারের হার ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং হাত ধোয়ার সুবিধা ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। গড়ে উঠেছে ১২টি নগর উন্নয়ন কমিটি (UDC), ১২টি শিশু ফোরাম। জীবিকায়ন সহায়তা পেয়েছে ৩ হাজার ৪৬৪টি অতি দরিদ্র পরিবার।

অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ডিরেক্টর (অপারেশন্স ও টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম) লিমা হান্না দারিং স্বাগত বক্তব্য দেন। ঢাকা ইস্ট আরবান প্রোগ্রামের এডিপি ম্যানেজার ডমিনিক সেন্টু গমেজ উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, “শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৮ বছরের অবদান অনস্বীকার্য। শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। আশা করছি স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে এই অর্জন আরও এগিয়ে যাবে।” তিনি শিশু ও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১০-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা এবং অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জুলকার নায়ন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করেন কমিউনিটি প্রতিনিধি রেহেনা পারভীন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা ইস্ট আরবান প্রোগ্রামের সমাপনী প্রতিবেদন ও ‘সফলতার গল্প’ সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন সক্রিয় কমিটির তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র ডিরেক্টর (অপারেশন্স) চন্দন জেড গমেজ। তা গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চন্দন জেড গমেজ। সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ডেপুটি ডিরেক্টর (ফিল্ড অপারেশনস সাউদার্ন বাংলাদেশ ক্লাস্টার) জেনি মিলড্রেড ডি ক্রুজ।

নিবন্ধিত শিশু, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, ইউডিসি, শিশু ফোরাম, ইউথ ফোরাম ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের স্মৃতিচারণ, শিশুদের পরিবেশনা ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। ১৮ বছরের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও স্থানীয় জনগোষ্ঠী, কমিউনিটি সংগঠন ও সরকারি অংশীদারদের নেতৃত্বে ঢাকা ইস্টের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এগিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশাই উঠে আসে অনুষ্ঠানে।

ডিএস./

ট্যাগ :

গজারিয়ায় কাভার্ড ভ্যানে চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

১৮ বছরে বদলে গেছে ঢাকা ইস্ট, উন্নয়নের গল্প রেখে বিদায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের

প্রকাশিত : ১১:০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ১৮ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিশু অপুষ্টি, বাল্যবিবাহ, শিক্ষাবঞ্চনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে রাজধানীর ঢাকা ইস্ট এলাকায়। স্থানীয় নেতৃত্ব, কমিউনিটি সংগঠন ও সরকারি অংশীদারদের হাতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ‘ঢাকা ইস্ট আরবান প্রোগ্রাম’।

বারিধারার ডি-মাজেনড সেন্টারে আয়োজিত ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠান ’২৬’-এ ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা ইস্টের ৮টি ওয়ার্ডে পরিচালিত কর্মসূচির অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এ সময়ে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার ১৫ মানুষের কাছে উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল পৌঁছেছে। স্পনসরশিপ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় সহায়তা পেয়েছে ৮ হাজার ২৫৫ শিশু। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

কর্মসূচির তথ্যমতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের কম ওজনের হার ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং খর্বাকৃতির হার ৩৭ শতাংশ থেকে ২৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। কার্যকর সাক্ষরতার হার ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। বিদ্যালয়ে ভর্তি ও নিয়মিত উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ের হার ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ এবং ছেলেদের বাল্যবিবাহ ১৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। কর্মসূচির আওতাভুক্ত শিশুদের শতভাগ জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারের হার ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং হাত ধোয়ার সুবিধা ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। গড়ে উঠেছে ১২টি নগর উন্নয়ন কমিটি (UDC), ১২টি শিশু ফোরাম। জীবিকায়ন সহায়তা পেয়েছে ৩ হাজার ৪৬৪টি অতি দরিদ্র পরিবার।

অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ডিরেক্টর (অপারেশন্স ও টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম) লিমা হান্না দারিং স্বাগত বক্তব্য দেন। ঢাকা ইস্ট আরবান প্রোগ্রামের এডিপি ম্যানেজার ডমিনিক সেন্টু গমেজ উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, “শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৮ বছরের অবদান অনস্বীকার্য। শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। আশা করছি স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে এই অর্জন আরও এগিয়ে যাবে।” তিনি শিশু ও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১০-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা এবং অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জুলকার নায়ন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করেন কমিউনিটি প্রতিনিধি রেহেনা পারভীন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা ইস্ট আরবান প্রোগ্রামের সমাপনী প্রতিবেদন ও ‘সফলতার গল্প’ সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন সক্রিয় কমিটির তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র ডিরেক্টর (অপারেশন্স) চন্দন জেড গমেজ। তা গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চন্দন জেড গমেজ। সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ডেপুটি ডিরেক্টর (ফিল্ড অপারেশনস সাউদার্ন বাংলাদেশ ক্লাস্টার) জেনি মিলড্রেড ডি ক্রুজ।

নিবন্ধিত শিশু, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, ইউডিসি, শিশু ফোরাম, ইউথ ফোরাম ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের স্মৃতিচারণ, শিশুদের পরিবেশনা ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। ১৮ বছরের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও স্থানীয় জনগোষ্ঠী, কমিউনিটি সংগঠন ও সরকারি অংশীদারদের নেতৃত্বে ঢাকা ইস্টের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এগিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশাই উঠে আসে অনুষ্ঠানে।

ডিএস./