১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি, ৫১ মামলায় গ্রেপ্তার ৯৭

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে উসকানির দেয়ার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলায় দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া দণ্ডবিধি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মোট ৪৩ মামলায় ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

ডিএমপি সূত্র জানায়, আন্দোলনে সহিংস ঘটনা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানির প্রেক্ষিতে রমনা বিভাগে মোট ১৪টি মামলা করা হয় এবং মোট ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যার মধ্যে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয় ১০টি। যেখানে গ্রেপ্তার করা হয় ২০ জন এবং ৮৪ জনকে আসামি করে করা চারটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ১১ জনকে। ১৪টি মামলার মধ্যে ১৩টির তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এবং একটি মামলা তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।

ডিএমপি আরও জানায়, লালবাগ বিভাগে একজনসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ বা ৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওয়ারী বিভাগে মোট মামলা হয়েছে দু’টি। অজ্ঞাতনামা ৩৫০ বা ৪৫০ জনকে আসামি করে করা দুই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক জনকে। এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ছয়টি মামলা করা হয়েছে। ছয়টি মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগে ছয়জনকে আসামি করে দুটি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে দুই জন এজাহারসহ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগের মিরপুর মডেল থানায় বি.ইউ.বি.টি ইউনিভার্সিটি ও কমার্স কলেজসহ অন্যান্য কলেজের অজ্ঞাতনামা ৫০০ বা ৬০০ জন ছাত্র-শিক্ষককে আসামি করে একটি মামলা, অজ্ঞাতনামা ৫০ বা ৬০ জনকে আসামি করে কাফরুল থানায় একটি মামলা এবং ৯৬ জনকে আসামি করে আরও তিনটি সহ মোট পাঁচটি মামলা করা হয়েছে।

এরমধ্যে গুলশান বিভাগে অজ্ঞাতনামা ২০০০ বা ২৪৫০ জনকে আসামি করে ৭টি মামলা এবং ৩১জনকে আসামি করে আরও দু’টি মামলাসহ মোট নয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ‍নয়টি মামলায় মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরা বিভাগে অজ্ঞাতনামা ১০০ বা ১৫০ জনকে আসামি করে তিনটি মামলা এবং ১১৩ জনসহ অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মোট তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়াও তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে ২৯ জনকে আসামি করে দায়ের করা মোট আটটি মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটটি মামলার মধ্যে চারটি মামলা ডিএমপি’র সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ, একটি ডিবি পুলিশ এবং একটি থানা পুলিশ তদন্ত করছে। এ আন্দোলনে নানাভাবে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গেল ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নুর পরিবহনের চাপায় মারা যান শহীদ রমিজ উদ্দীন কলেজের দুই শিক্ষার্থী। এরপর নয় দফা দাবি নিয়ে ‘নিরাপদ সড়ক’ চাই স্লোগানে আন্দোলনে নামে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা। টানা নয়দিন রাজপথে আন্দোলনে ছিল দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ঘরে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।

ট্যাগ :

শেষ মুহূর্তের গোলে চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি, ৫১ মামলায় গ্রেপ্তার ৯৭

প্রকাশিত : ১১:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে উসকানির দেয়ার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলায় দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া দণ্ডবিধি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মোট ৪৩ মামলায় ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

ডিএমপি সূত্র জানায়, আন্দোলনে সহিংস ঘটনা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানির প্রেক্ষিতে রমনা বিভাগে মোট ১৪টি মামলা করা হয় এবং মোট ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যার মধ্যে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয় ১০টি। যেখানে গ্রেপ্তার করা হয় ২০ জন এবং ৮৪ জনকে আসামি করে করা চারটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ১১ জনকে। ১৪টি মামলার মধ্যে ১৩টির তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এবং একটি মামলা তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।

ডিএমপি আরও জানায়, লালবাগ বিভাগে একজনসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ বা ৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওয়ারী বিভাগে মোট মামলা হয়েছে দু’টি। অজ্ঞাতনামা ৩৫০ বা ৪৫০ জনকে আসামি করে করা দুই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক জনকে। এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ছয়টি মামলা করা হয়েছে। ছয়টি মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগে ছয়জনকে আসামি করে দুটি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে দুই জন এজাহারসহ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগের মিরপুর মডেল থানায় বি.ইউ.বি.টি ইউনিভার্সিটি ও কমার্স কলেজসহ অন্যান্য কলেজের অজ্ঞাতনামা ৫০০ বা ৬০০ জন ছাত্র-শিক্ষককে আসামি করে একটি মামলা, অজ্ঞাতনামা ৫০ বা ৬০ জনকে আসামি করে কাফরুল থানায় একটি মামলা এবং ৯৬ জনকে আসামি করে আরও তিনটি সহ মোট পাঁচটি মামলা করা হয়েছে।

এরমধ্যে গুলশান বিভাগে অজ্ঞাতনামা ২০০০ বা ২৪৫০ জনকে আসামি করে ৭টি মামলা এবং ৩১জনকে আসামি করে আরও দু’টি মামলাসহ মোট নয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ‍নয়টি মামলায় মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরা বিভাগে অজ্ঞাতনামা ১০০ বা ১৫০ জনকে আসামি করে তিনটি মামলা এবং ১১৩ জনসহ অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মোট তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়াও তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে ২৯ জনকে আসামি করে দায়ের করা মোট আটটি মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটটি মামলার মধ্যে চারটি মামলা ডিএমপি’র সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ, একটি ডিবি পুলিশ এবং একটি থানা পুলিশ তদন্ত করছে। এ আন্দোলনে নানাভাবে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গেল ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নুর পরিবহনের চাপায় মারা যান শহীদ রমিজ উদ্দীন কলেজের দুই শিক্ষার্থী। এরপর নয় দফা দাবি নিয়ে ‘নিরাপদ সড়ক’ চাই স্লোগানে আন্দোলনে নামে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা। টানা নয়দিন রাজপথে আন্দোলনে ছিল দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ঘরে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।