বঙ্গবন্ধু একজন বড় মাপের শিল্পী ছিলেন। ইউনেস্কো তার ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়ে একথা সমর্থন করেছে। ১৫ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর উপর এক বক্তৃতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান এসব কথা বলেন।
সাহিত্যিক, গায়ক, সংস্কৃতিসেবী অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ব্যক্তিত্বের যে আভা তিনি ছড়িয়েছেন তা শেষ পর্যন্ত শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছিল। শিল্পী, শিক্ষক, সংস্কৃতিসেবী, সাহিত্যিকদের সাথে তার ছিল গভীর সম্পর্ক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর টানের কারণেই তিনি শুরু থেকেই ভাষা আন্দোলনকে সংগঠিত করেছেন। সেজন্যে বারে বারে জেলে গেছেন। এর পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তিনি বাংলা ভাষা ও শিল্পের সাথে জড়িত গুনীজনদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ছিলেন তার প্রিয় লেখক। রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি তিনি দেশ স্বাধীন হবার বহু আগেই জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। স্বাধীন দেশের দায়িত্ব ভার নিয়েই তিনি নজরুলকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং জাতীয় কবির সম্মান দেন।
তার বলা, চলা, পঠন, বরাবরই একজন বড় মাপের শিল্পীর মত ছিল। তার প্রমাণ মেলে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে। ঐ ভাষণ ছিল একই সঙ্গে উদ্দীপনামূলক ও নান্দনিক। কবি নির্মলেন্দু গুণ যথার্থই বলেছেন, রাজনীতির এই মহান কবি রবীন্দ্রনাথের মতই দৃপ্তপায়ে এসে দাড়িয়েছিলেন মে। তার তর্জনী হেলন, দেহভঙ্গি, গম্ভীর গলা, স্বরের উঠানামা ছিল একজন শিল্পীর মতই।
বাঙালির আশা, ভরসা, স্বপ্ন, অপমান, অহং, সংকল্প-সবকিছুই যেন সেদিন অর্কেষ্ট্রার মত বেঁজে উঠেছিল তার মাঝ থেকে। সে ছিল এক হিরন্ময় সময়। একজন ছোট গল্পকারের মত তিনি সব কিছুই বলেন আবার পুরোপুরি বললেন না। স্বাধীনতা ও মুক্তির কথা বললেন। কিন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন না। এভাবেই তিনি হয়ে উঠলেন রাজনীতির এক অমর কবি। বনে গেলেন নান্দনিক এক শিল্পী।
























