চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফলপ্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগের ১০ বছরের পরীক্ষাগুলোর মধ্যে করোনাকালে ২০২০ সালে শতভাগ শিক্ষার্থী অটোপাস করেছিল। তবে ২০২৫ সালের ফলাফলে ধস নামে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ১০ বছরের মধ্যে করোনাকালে পরীক্ষা হয়নি ২০২০ সালে। সেবার সবাইকে অটোপাস দিয়ে দেওয়ায় কেউ ফেল করেনি। এর বাইরে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফলাফলে পাসের হার ৭৫ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ফলাফলে ধস নামে। ২০২৫ সালে পাসে হার নেমে আসে ৫৭.১২ শতাংশে, ফেল করে প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর বিএনপি সরকারের সময়ে আজ প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলো। এতে পাসের হার ১০ বছরে সর্বনিম্ন ৫২.১২ শতাংশ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৭২ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৬৬.৬৭ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৬৪.৬৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭২ শতাংশ, ২০২০ সালে ১০০ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৫.৫৭ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৪.৩১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪.৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫.৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন।
চলতি বছরের এইচএসসিতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। আজ ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনের পরপরই স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে ফল প্রকাশিত হবে। তিন উপায়ে ফলাফল দেখতে পারবেন শিক্ষার্থী।
যদিও কারিগরি কারণে অনেকের ফল পেতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান উদ্বোধনের সাথে সাথেই স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হবে। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের Result sheet download করা যাবে এবং SMS-এর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা তাঁদের ফলাফল জানতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকা শেষে ফলাফল আপলোডসহ অন্যান্য কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা বিলম্বে ফল জানতে পারবেন বলে অতীতের কয়েকটি পরীক্ষার অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বোর্ডসমূহ কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করার জন্য উক্ত ওয়েবসাইটের Result কর্ণারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের EIIN এর মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে ।উচ্চশিক্ষা গাইড
পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফলাফল স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করতে পারবে। শিক্ষা বোর্ডসমূহের কমন ওয়েবসাইট https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
এছাড়াও, পরীক্ষার্থীরা যে কোনো মোবাইল নম্বর থেকে ১৬১৪০ এসএমএস প্রেরণের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। এসএমএস-এর মাধ্যমে ফলাফল জানতে HSC < Space> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর < Space> রোল নম্বর < Space> পরীক্ষার বছর লিখে 16140 নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ: HSC Dha 123456 2026 লিখে 16140 নম্বরে Send করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
ডিএস,./



















