০৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

কামড় খেয়েও দমলেন না আবদুল কাদের! জ্যান্ত সাপ নিয়েই হাসপাতালে

সাপের ছোবল খেয়েও দমে যাননি আবদুল কাদের (৫০)। উল্টো মুঠোফোনের আলো জ্বেলে খুঁজে বের করে ধরে ফেলেন সাপটিকে। পরে সেই জ্যান্ত সাপ নিয়েই ছুটে আসেন হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সাপটি বিষধর নয়। তারপরও সতর্কতার অংশ হিসেবে আবদুল কাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আবদুল কাদের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আঙ্গারগাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি সাপ তাকে ছোবল দেয়। এরপর মুঠোফোনের আলো জ্বেলে সাপটিকে খুঁজে বের করেন তিনি। এক পর্যায়ে সাপটি ধরেও ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে তাদের সহযোগিতায় সাপটিকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরেন। এরপর দ্রুত চলে আসেন সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আঙ্গারগাড়া এলাকাটি সখীপুরের কাছাকাছি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য সেখানে আসেন তিনি।

হাসপাতালে জ্যান্ত সাপ নিয়ে আবদুল কাদেরের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। পরে তাঁর স্বজনেরা একজন সাপুড়েকে ডেকে আনেন। সাপুড়ে এসে সাপটি নিয়ে যান।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা সেলিম কবির বলেন, ‘লোকটির সাহস দেখে অবাক হয়েছি। তিনি জ্যান্ত সাপ ধরে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, সাপটি বিষধর নয়। তাই তাঁর শরীরে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে সাপে কামড়ালে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে আসা উচিত। সাপ ধরতে যাওয়া আরও বিপজ্জনক ও হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা র‌য়ে‌ছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কামড় খেয়েও দমলেন না আবদুল কাদের! জ্যান্ত সাপ নিয়েই হাসপাতালে

প্রকাশিত : ০৫:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সাপের ছোবল খেয়েও দমে যাননি আবদুল কাদের (৫০)। উল্টো মুঠোফোনের আলো জ্বেলে খুঁজে বের করে ধরে ফেলেন সাপটিকে। পরে সেই জ্যান্ত সাপ নিয়েই ছুটে আসেন হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সাপটি বিষধর নয়। তারপরও সতর্কতার অংশ হিসেবে আবদুল কাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আবদুল কাদের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আঙ্গারগাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি সাপ তাকে ছোবল দেয়। এরপর মুঠোফোনের আলো জ্বেলে সাপটিকে খুঁজে বের করেন তিনি। এক পর্যায়ে সাপটি ধরেও ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে তাদের সহযোগিতায় সাপটিকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরেন। এরপর দ্রুত চলে আসেন সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আঙ্গারগাড়া এলাকাটি সখীপুরের কাছাকাছি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য সেখানে আসেন তিনি।

হাসপাতালে জ্যান্ত সাপ নিয়ে আবদুল কাদেরের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। পরে তাঁর স্বজনেরা একজন সাপুড়েকে ডেকে আনেন। সাপুড়ে এসে সাপটি নিয়ে যান।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা সেলিম কবির বলেন, ‘লোকটির সাহস দেখে অবাক হয়েছি। তিনি জ্যান্ত সাপ ধরে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, সাপটি বিষধর নয়। তাই তাঁর শরীরে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে সাপে কামড়ালে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে আসা উচিত। সাপ ধরতে যাওয়া আরও বিপজ্জনক ও হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা র‌য়ে‌ছে।

ডিএস./