১১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

১২০ কি.মি বেগে ধ্বংসাত্মক রূপে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। ঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১টার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে।

আইএমডির রাত ১টা ৩০ মিনিটের বুলেটিন অনুযায়ী, তখন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড়টি। ওঙ্গোল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল এর অবস্থান।

আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেলোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ওঙ্গোলের কাছাকাছি এলাকায় ঝড়টি অতিক্রম করার কথা। এ সময় সকাল পর্যন্ত উপকূল ও আশপাশের এলাকায় ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুধু প্রবল বাতাসই নয়, উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসেরও আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডি জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ১ থেকে দেড় মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এতে দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে বাপাতলা, কৃষ্ণা ও প্রকাশম জেলায় জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

ঝড়ের প্রভাবে আগামী ১২ ঘণ্টা দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে নিচু এলাকায় পানি জমা, সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং উপকূলীয় জনজীবনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস, তিন দিকের ঝুঁকি নিয়ে ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ম পে-স্কেলের বেতন-ভাতা নির্ধারণ সম্পন্ন, নভেম্বর থেকে বাড়তি বেতন পাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

১২০ কি.মি বেগে ধ্বংসাত্মক রূপে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’

প্রকাশিত : ১০:১৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। ঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১টার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে।

আইএমডির রাত ১টা ৩০ মিনিটের বুলেটিন অনুযায়ী, তখন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড়টি। ওঙ্গোল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল এর অবস্থান।

আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেলোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ওঙ্গোলের কাছাকাছি এলাকায় ঝড়টি অতিক্রম করার কথা। এ সময় সকাল পর্যন্ত উপকূল ও আশপাশের এলাকায় ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুধু প্রবল বাতাসই নয়, উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসেরও আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডি জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ১ থেকে দেড় মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এতে দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে বাপাতলা, কৃষ্ণা ও প্রকাশম জেলায় জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

ঝড়ের প্রভাবে আগামী ১২ ঘণ্টা দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে নিচু এলাকায় পানি জমা, সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং উপকূলীয় জনজীবনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস, তিন দিকের ঝুঁকি নিয়ে ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

ডিএস./