সাংবাদিক জামাল খাশোগির মৃত্যুর বিষয়ে মুখ খুলল সৌদি আরব। ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় জামাল খাশোগি নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে সৌদি। দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি এক প্রাথমিক তদন্তের বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।
পাশাপাশি এ ঘটনার সাথে জড়িত দুই সিনিয়র কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এ ঘটনায় এখনো তদন্ত চলছে এবং ১৮ সৌদি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এসপিএ শনিবার জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, খাসোগি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পরপরই কয়েকজনের সঙ্গে তার লড়াই হয় এবং এর কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃতদেহ কোথায় আছে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত দুই কর্মকর্তা হলেন- সৌদির রয়্যাল কোর্টের উপদেষ্টা ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তারক্ষী সৌদ আল কাহতানি ও সহকারী গোয়েন্দা প্রধান আহমেদ আশিরি।
সৌদি বাদশাহ সালমান এই ঘটনার পর রাষ্ট্রের সাধারণ গোয়েন্দা সংস্থার পুনর্গঠনের জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিপর্যায়ের কমিটি গঠনের জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যা ঘটেছে তা অপ্রত্যাশিত। তবে সৌদি আরব অনেক বড় বন্ধু।
এক গোল টেবিল বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিনি সৌদি আরবের প্রশংসা করেন।
সৌদি আরবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বিকল্প পথ ছিল। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তা মার্কিন অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলতো।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি গত ২ অক্টোবর নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান। সেখান থেকে তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
যদিও শুরু থেকে তুরস্ক দাবি করে আসছিল খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরব এ অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তবে এখন খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হলো সৌদি আরব। সূত্র: বিবিসি ও আলজাজিরা
বিবি/জেজে





















