বুদ্ধ কি,ধর্ম কি,সংঘ কি, বনভান্তে কি, কল্পতরু কি…. এর জয় ধ্বনিতে সাধু সাধু সাধু এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও রাঙামাটি সদর উপজেলাধীন ১১০ নং শুকরছড়ি মৌজার বোধিপুর বনবিহারে দু’দিন ব্যাপী ১৫তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ অক্টোবর কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির আয়োজনে
ভিক্ষু সংঘের বেইন ঘর উদ্বোধনের মাধ্যমে সুতা রং করণ ও সারা রাতব্যাপী বেইন বুননের মধ্যে দিয়ে শুরু দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎস। ২৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন ও বুদ্ধ পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় সকালের প্রথম পর্বের কঠিন চীবর দানোৎসব । বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে উদযাপিত হয় ধর্মানুষ্ঠানটি। দুপুরে কঠিন চীবর ও কল্পতরুকে ডাক-ঢোলের মহা কলরবে পুরো বিহার প্রদক্ষিণ করে বোধিপুর বন বিহারের বিহার অধ্যক্ষ জিনবোধি মহাস্থবিরকে কঠিন চীবরটি দান করেন এলাকার মুরুব্বী অরবিল দেওয়ান। লক্ষীদেবী চাকমা ও পূণ্য শংকর চাকমার উদ্বোধনী ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় কঠিন চীবর দানের দ্বিতীয় পর্বানুষ্ঠান। গৃহী জীবনের অন্যতম পঞ্চশীলে দীক্ষিত হওয়ার পরে কঠিন চীবর দান উৎসর্গ, বুদ্ধ মূর্তি দান, অষ্টপরিস্কার দান, কল্পতরু দান,হাজার বাতি দান সহ নানা বিধ দানের উৎসর্গ করা হয়। এছাড়া সকালে সংঘদান সহ নানাবিধ দান অনুষ্ঠিত হয়।
সোনালী চাকমা ও অনুময় চাকমার উপস্থাপনায় গুঞ্জিত হয় অনুষ্ঠান মঞ্চ। দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থী অংশ গ্রহন করে।মূখরিত হয়ে ওঠে বোধিপুর এলাকা।
দায়ক-দায়িকাদের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন সেবিকা চাকমা।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন উপমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ান, ৩নং সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৃনাল কান্তি চাকমা, অরবিল দেওয়ান ও চন্দ্র লাল চাকমা, জ্যোতিন্দ্র চাকমা প্রমূখ।
মহাদান কঠিন চীবর দানের তাৎপর্য বিষয়ে প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে স্বধর্ম দেশনা প্রদান ফুরমোন সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বনধ্যান কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভৃগু মহাস্থবির, বোধিপুর বন বিহারের অধ্যক্ষ জিনবোধি মহাস্থবির, নানিয়াচর বেনুবন অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ পন্থক ভিক্ষু, রাজবন বিহারের অন্যতম সুমন মহাস্থবির , মেত্তা বংশ ভিক্ষু, বিদূঢ় মহাস্থবির প্রমূখ।
উল্লেখ্য যে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও আগে অর্থ্যাৎ গৌতম বুদ্ধের সময়কালে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে রংকরণসহ তৈরি শেষে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের গেরুয়া কাপড় (চীবর) গৌতম বুদ্ধকে দান করেছিলেন। তারই প্রয়াসে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা কঠিন চীবর দান করে থাকে। প্রতি বছর বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষুদের বর্ষা অধিস্তান শেষে বিশাখা প্রবর্তিত কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করে থাকে।
বিবি/ ইএম






















