১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত, সংকটে শ্রীলংকা

প্রধানমন্ত্রী রানিল উইকরেমেসিংহেকে বরখাস্ত করেছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাহিথ্রিপালা সিরিসেনা। তার পরিবর্তে শুক্রবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই প্রেসিডেন্টের দপ্তরে রাজাপাকসেকে শপথ পড়িয়েছেন সিরিসেনা।

এদিকে বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী রানিল উইকরেমেসিংহে দাবি করেছেন তিনিই বৈধ প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আদালতে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমি আপনাদেরকে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলছি। আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল আছে এবং আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করে যাব।’

সম্প্রতি অর্থনৈতিক নীতি এবং সরকারের প্রতিদিনের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে সিরিসেনা ও উইকরেমেসিংহের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রীকে এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অবসানের জন্য বলেছিলেন সিরিসেনা এবং জোট সরকার যে প্রতিশ্রুত সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে তা জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে প্রতিবেশী ভারতকে কনটেইনার টার্মিনাল ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন দুজন।

২০১৫ সালে সংবিধানের এক সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্তে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাতিল করা হয়। উইকরেমেসিংহে বরখাস্তের মাধ্যমে সিরিসেনা সরকার নতুন করে রাজনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সারারাউইরা টুইটারে লিখেছেন, ‘রাজপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অসাংবিধানিক ও বেআইনি। এটা গণতন্ত্রবিরোধী অভ্যুত্থান।’

২০১৫ সালে জাতীয় নির্বাচনে সিরিসেনার কাছে হেরে যায় রাজাপাকসের দল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে তার নবগঠিত দল শ্রীলংকা পদুজানা পেরোমুনা স্থানীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছে। রাজাপাকসের আমলেই তামিল টাইগারদের দমনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীলংকায়।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত, সংকটে শ্রীলংকা

প্রকাশিত : ০১:০৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী রানিল উইকরেমেসিংহেকে বরখাস্ত করেছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাহিথ্রিপালা সিরিসেনা। তার পরিবর্তে শুক্রবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই প্রেসিডেন্টের দপ্তরে রাজাপাকসেকে শপথ পড়িয়েছেন সিরিসেনা।

এদিকে বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী রানিল উইকরেমেসিংহে দাবি করেছেন তিনিই বৈধ প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আদালতে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমি আপনাদেরকে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলছি। আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল আছে এবং আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করে যাব।’

সম্প্রতি অর্থনৈতিক নীতি এবং সরকারের প্রতিদিনের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে সিরিসেনা ও উইকরেমেসিংহের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রীকে এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অবসানের জন্য বলেছিলেন সিরিসেনা এবং জোট সরকার যে প্রতিশ্রুত সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে তা জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত সপ্তাহে প্রতিবেশী ভারতকে কনটেইনার টার্মিনাল ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন দুজন।

২০১৫ সালে সংবিধানের এক সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্তে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাতিল করা হয়। উইকরেমেসিংহে বরখাস্তের মাধ্যমে সিরিসেনা সরকার নতুন করে রাজনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সারারাউইরা টুইটারে লিখেছেন, ‘রাজপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অসাংবিধানিক ও বেআইনি। এটা গণতন্ত্রবিরোধী অভ্যুত্থান।’

২০১৫ সালে জাতীয় নির্বাচনে সিরিসেনার কাছে হেরে যায় রাজাপাকসের দল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে তার নবগঠিত দল শ্রীলংকা পদুজানা পেরোমুনা স্থানীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছে। রাজাপাকসের আমলেই তামিল টাইগারদের দমনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীলংকায়।

বিবি/জেজে