১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

পরিবহন ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম, চরম দূর্ভোগ সাধারণ মানুষ

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা বাতিলসহ ৮ দফা দাবিতে সারাদেশে শ্রমিকদের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে রাস্তাঘাটে গণপরিবহন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থগামী মানুষ।

ধর্মঘট চলাকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রবেশমুখে পরিবহন শ্রমিকদের পিকেটিং করতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নগরীর প্রবেশমুখ কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকায় শ্রমিকদের যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচলে বাধা দিতে দেখা যায়। নগরীরর রাস্তায় টেম্পু, বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিক্সাসহ কিছুই ছিল না। দু’একটি প্রাইভেট কার চললেও সেগুলো শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। এমনকি রিকশা চলাচলেও বাধা দিচ্ছিল শ্রমিকরা। একইচিত্র দেখা গেছে নগরীর প্রবেশমুখ সিটি গেইট, কালুরঘাট ও অক্সিজেন মোড়, চকবাজার, জিইসি, টাইগারপাস, নিউমার্কেট মোড়, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, হালিশহর, কাজির দেউড়িতে। এসব এলাকায়ও পিকেটারেরা সকাল থেকে যান চলাচলে বাধা দিয়েছে।

চকবাজারে সকাল থেকে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন আলী হোসেন নামের এক চাকরিজীবী। তার অফিস আগ্রাবাদ হওয়ায় হেঁটে যাওয়ারও সাহস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ধর্মঘট এমন হবে ভাবতেই পারিনি। এসবের কিছু মানে হয় না। রিকশাও এত দূরে যেতে চাইছে না। সিএনজি অটোরিকশা যে ভাড়া চেয়েছে তা শুনে মাথা ঘুরে গেছে।
কামাল নামের ব্যাংকার বলেন, সকাল ৮টা থেকে নতুন ব্রিজে এসেছি। এসে দেখি কোনো গাড়ি নেই। রিকশায় আগ্রাবাদ যেতে ভাড়া চাইছে ৩০০ টাকা।
ধর্মঘটের কারণে বন্দরনগরীতে তেমন কোন বাস, টেম্পো ও সিএনজি চলেনি। এই সুযোগে রিকশাচালকরা ভাড়া দ্বিগুণ হাঁকিয়েছে।

মিরসরাই থেকে সীতাকুন্ড যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে মামুন জানান, মিরসরাই থেকে সীতাকুন্ডে যাওয়ার জন্য ২ঘন্টা দাড়িয়ে আছি কোন গাড়ি নাই এবং মীরসরাই থেকে সীতাকুন্ডে যেতে ২০-২৫ টাকা লাগে কিন্তু আজ তারা ৮০-১০০ টাকা ভাড়া চাইতেছে। এমন আরো রাস্তার পাশে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী জানান, হঠাৎ করে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আট দফা দাবিগুলো হলো- সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে, শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা করা যাবে না, সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে, ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে, ওয়েস্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে, সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

পরিবহন ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম, চরম দূর্ভোগ সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত : ০৩:০৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা বাতিলসহ ৮ দফা দাবিতে সারাদেশে শ্রমিকদের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে রাস্তাঘাটে গণপরিবহন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থগামী মানুষ।

ধর্মঘট চলাকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রবেশমুখে পরিবহন শ্রমিকদের পিকেটিং করতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নগরীর প্রবেশমুখ কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকায় শ্রমিকদের যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচলে বাধা দিতে দেখা যায়। নগরীরর রাস্তায় টেম্পু, বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিক্সাসহ কিছুই ছিল না। দু’একটি প্রাইভেট কার চললেও সেগুলো শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। এমনকি রিকশা চলাচলেও বাধা দিচ্ছিল শ্রমিকরা। একইচিত্র দেখা গেছে নগরীর প্রবেশমুখ সিটি গেইট, কালুরঘাট ও অক্সিজেন মোড়, চকবাজার, জিইসি, টাইগারপাস, নিউমার্কেট মোড়, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, হালিশহর, কাজির দেউড়িতে। এসব এলাকায়ও পিকেটারেরা সকাল থেকে যান চলাচলে বাধা দিয়েছে।

চকবাজারে সকাল থেকে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন আলী হোসেন নামের এক চাকরিজীবী। তার অফিস আগ্রাবাদ হওয়ায় হেঁটে যাওয়ারও সাহস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ধর্মঘট এমন হবে ভাবতেই পারিনি। এসবের কিছু মানে হয় না। রিকশাও এত দূরে যেতে চাইছে না। সিএনজি অটোরিকশা যে ভাড়া চেয়েছে তা শুনে মাথা ঘুরে গেছে।
কামাল নামের ব্যাংকার বলেন, সকাল ৮টা থেকে নতুন ব্রিজে এসেছি। এসে দেখি কোনো গাড়ি নেই। রিকশায় আগ্রাবাদ যেতে ভাড়া চাইছে ৩০০ টাকা।
ধর্মঘটের কারণে বন্দরনগরীতে তেমন কোন বাস, টেম্পো ও সিএনজি চলেনি। এই সুযোগে রিকশাচালকরা ভাড়া দ্বিগুণ হাঁকিয়েছে।

মিরসরাই থেকে সীতাকুন্ড যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে মামুন জানান, মিরসরাই থেকে সীতাকুন্ডে যাওয়ার জন্য ২ঘন্টা দাড়িয়ে আছি কোন গাড়ি নাই এবং মীরসরাই থেকে সীতাকুন্ডে যেতে ২০-২৫ টাকা লাগে কিন্তু আজ তারা ৮০-১০০ টাকা ভাড়া চাইতেছে। এমন আরো রাস্তার পাশে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী জানান, হঠাৎ করে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আট দফা দাবিগুলো হলো- সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে, শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা করা যাবে না, সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে, ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে, ওয়েস্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে, সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

বিবি/ ইএম