ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত নিয়মে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান রাঙামাটি রাজবন বিহারে বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণ ও বেইন ঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপী ৪৫তম কঠিন চীবর দানোৎসব। বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে চাকমা সার্কেল চীফ, ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বেইন ঘরের ফিতা কেটে এবং চাকমা রানী য়েন য়েন চরকা থেকে সুতা কাটার মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান, বিহার অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির, জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির সহ বিহারের ভিক্ষু সংঘসহ রাঙামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা, মধু চন্দ্র চাকমা সহ পুণ্যার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানকে ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে লক্ষাধিক নর-নারী বৌদ্ধ ধর্মালম্বীর সমাগম ঘটে। কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠ পরিবেশে উদযাপনের জন্য চার স্তরের পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সার্বণিক নিরাপত্তার জন্য ৩ শতাধিক পুলিশ সদস্য সহ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্বে রাখা হয়। দুই শত বেইনে চীবর প্রস্তুতের জন্য প্রায় ৬ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কর্মী দায়িত্বে রাখা হয়। বেইন ঘর ও সুতা কাটার কার্যক্রম উদ্বোধনের পরে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চীবর প্রস্তুতের আনুষ্ঠানিকতা। সুতা সিদ্ধ ও রং করা, সুতা টিয়ানো, সুতা শুকানো, সুতা তুম ও সুতা নলীতে ভরা, বেইন টানা দেওয়া, বেইন বুননের মধ্য দিয়ে সারারাত চীবর বুনুন কাজ চলে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য রাত্রী যাপনের জন্য রাজবন বিহারে ধর্মীয় সংগীতের আসর আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির বলেন কঠিন চীবর দান হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দান। ভগবান বুদ্ধের সেবিকা বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত কঠিন চীবর দান উপলক্ষে তিনি পৃথিবীর সকল প্রাণীর হিতসুখ ও মঙ্গলকামনা করেন।
অহিংসা বাণী পৃথিবীর চারদিকে ছড়িয়ে পড়–ক এ উদ্দেশ্য করে চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় বলেন পৃথিবীতে দান,শীল ভাবনা হচ্ছে অন্যতম। তার পাশা-পাশি দানের ফলে সকলের মৈত্রীভাব সৃষ্টি হয়ে সকলের মাঝে প্রজ্ঞা লাভের বিষয়ে দৃষ্টি জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য যে, ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত রীতি-নীতি অনুসরণে ১৯৭৭ সাল থেকে রাঙামাটি রাজবন বিহারে দণি পূর্ব এশিয়ায় অন্যতম শ্রাবক বুদ্ধ শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির ( বনভন্তে) প্রথম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান সূচনা করেন। সেই রীতি-নীতি অনুসারে প্রতি বছর ন্যায় রাঙামাটি রাজবন বিহারে বৃহৎ আকারে কঠিন চীবর দানোৎসব আয়োজন করা হচ্ছে।
বিবি/ ইএম





















