‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৩৮ লাখ ৮১ হাজার ২৪০টি পরিবার উপকৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৭ হাজার গ্রামে ৮২ হাজার ৩৯৫টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠিত হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
আজ রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত সমবায় দিবসের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্রামের মানুষকে দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি দেবার জন্য এবং গ্রামের অর্থনীতিকে আরও সচল করার জন্য একটি প্রকল্প আমরা নিয়েছিলাম যেন, কোনো জমি পরিত্যক্ত না থাকে এবং সকলেই যেন কিছু কাজ করতে পারে, সেই সুযোগটা সৃষ্টির জন্য ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প আমরা গ্রহণ করি।
সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘এই ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে তারা কী ধরণের কাজ করতে চান সে ধরণের সহযোগিতা দেওয়া এবং কেউ যদি কিছু সঞ্চয় করতে পারে, যেমন কেউ যদি ১০০ টাকা সঞ্চয় করতে পারে আরও ১০০ টাকা তাকে দিয়ে দুবছর পর্যন্ত দিয়ে তার নিজস্ব একটা মূলধন যাতে গড়ে উঠে সে ব্যবস্থাটা করে দিয়ে এবং পল্লী সঞ্চার ব্যাংকও আমরা করে দিই।’
প্রকল্পের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কাজেই আমি মনে করি এর মাধ্যমে মানুষ আস্তে আস্তে দারিদ্র্যের হাত থেকে উঠে আসছে এবং একটা প্রকল্পের সাথে আরও অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। তাছাড়া আমরা গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি সি বিডি (কনভেনশন অন বায়োলোজিক্যাল বায়োলজিক্যাল) বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কাজ যেটা জাতির পিতা করে গেছেন, সমবায় ভিত্তিক দুগ্ধ খাবার মিল্কভিটা। এর ফলে একদিকে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাশাপাশি আমাদের দেশের মানুষের বা শিশুদের পুষ্টি সমাধান করা-এটা তার একটা উদ্দেশ্য ছিলো, সেটা আমরা সম্প্রসারণের ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা জেলায় এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আমরা সমবায় ভিত্তিক দুগ্ধ উৎপাদন একটা কারখানাও সেখানে তৈরি করা হচ্ছে। এই কারখানার এক দিকে গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন এবং দুধের বহুমুখী প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যায়-সেদিকেই লক্ষ্য রেখে এই প্রকল্পটা আমরা হাতে নিয়েছি।’
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নের জন্যও সমবায় ভিত্তিক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সরকারের বড় লক্ষ্য দেশের দারিদ্র্য মুক্ত করা বলে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য থাকবে যে দেশকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা। ইতিমধ্যেই ট্রেনিং দেওয়ার ওপর লক্ষ্য রেখে কয়েকটা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। উন্নতজাতের গাভী পালন থেকে শুরু করে ফল-মূল, শাক-সবজি চাষ করার ব্যবস্থাও আমরা দিচ্ছি। মাত্র চার পার্সেন্ট সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয়, কেউ মৎস্য উৎপাদন করতে চায় সেই ব্যবস্থাও নেওয়া আছে, এমনকি গাভী পালন ও ক্রয় করতে চায়, সেটাও আমরা চার পার্সেন্ট সুদে ঋণ দিয়ে থাকি। যার মাধ্যমে দুগ্ধ উৎপাদন স্বয়ংসম্পূর্ণ করা যায়
বিবি/রেআ
























