অন্তহীন সমস্যার মধ্যেই শুরু হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হয়েছে। সূত্র বলছে, সভার মাধ্যমে বিমানের জটিল সব সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষতার অভাবে নতুন দামি উড়োজাহাজ সমানে বিকল হচ্ছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কোনো সেক্টরেই সুফল মিলছে না। বিগত এবং চলতি বছর অপরিকল্পিত ব্যয় বাড়ানোর কারণে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থা।
অর্থের অভাবে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজের মূল্যবান যন্ত্রাংশ কেনা যাচ্ছে না। অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তে লোকসানি রুট লন্ডনে ড্রিমলাইনারের সংযোজন এবং সপ্তাহে চারটির বদলে ছয়টি ফ্লাইট চালু করার ঘোষণা দিয়ে উভয় সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।
মেরামতের জন্যে হায়দ্রাবাদে পাঠানো ড্যাস-৮ ১৫ দিন পর ফেরত আনার কথা থাকলেও সেটিও অর্থের অভাবে আনা যাচ্ছে না। ফলে অভ্যন্তরীণ রুটের শীতকালীন সিডিউল লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এই সুযোগে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর কব্জায় চলে যাচ্ছে বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটের বড় বাজার।
সূত্র আরও জানায়, মিসর থেকে ভাড়ায় আনা দুটি উড়োজাহাজ ভিয়েতনাম বিমানবন্দরে এক বছর ধরে পড়ে আছে। অর্থের অভাবে উড়োজাহাজ দুটির মেরামত করা যাচ্ছে না। উড়োজাহাজ দুটির চারটি ইঞ্জিন ঠিক করতে ১০০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এজন্য ঋণের জন্য দৌড়াদৌড়ি করেও কোনো লাভ হয়নি। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় চারটি ব্র্যান্ড নিউ বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ ও দুটি ড্রিমলাইনার বহরে থাকলেও মিলছে না কোনো সুফল। এজন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মৌলিক সমস্যার সমাধান না করেই হজের দুই মাসের সামান্য মুনাফার ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে ফেলা হয়েছে। উচ্চ ও মধ্যম লেভেলের অফিসারদের লভ্যাংশ দেয়া হবে বলেও সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এ ঘোষণায় অভ্যন্তরীণ চরম অসন্তোষ দানা বাধতে শুরু করেছে।
অন্তহীন সমস্যার মধ্যে বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হচ্ছে-এমন প্রশ্রের জবাবে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘সভায় বিমানের বার্ষিক আয়-ব্যয়সহ সবধরনের হিসাবের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। আমরা কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করব।’
বিবি/রেআ


























