০২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

রেকর্ড পরিমান উৎপাদন তবুও লোকসানে লবণ চাষীরা

উৎপাদন বেশি হওয়ায় আনন্দের বদলে বিপদে পড়েছেন লবন চাষীরা।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোটাখালীর উত্তর ফুলছড়ি গ্রামের এক লবণ চাষী বলেন, তিনি এ বছর ১০ কানি (এক কানিতে ৩৯ শতাংশ) জমিতে লবণ চাষ করছেন। ব্যাপক লবণ উৎপাদন হওয়ায় আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। ভেবেছিলেন এবার বেশি লাভের টাকা দিয়ে সংসারের কিছু বাড়তি খরচ করবেন। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি।

দাম কমে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, খরচ উঠাতে পারবে কিনা তা নিয়েই এখন চিন্তিত তিনি। এখানকার আরেক লবণ চাষী বলেন, তিনি ২০ কানি জমিতে চাষ করেছেন। তারও একই অবস্থা। প্রায় একই রকম তথ্য জানালেন ১০-১২ জন লবণ চাষী। তাদের দাবি, এ চিত্র সব চাষীরই।

তিন মাস আগে মাঠ থেকে যে লবণ বিক্রি হতো প্রতি মণ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। তা এখন কমে ১৫০ টাকা হয়েছে। এ অবস্থায় লবণের ন্যায্য দাম পেতে সরকারের সহোযোগিতা চাচ্ছেন তারা। লবণ বোর্ড গঠনের দাবিও উঠে এসেছে তাদের কণ্ঠে। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) এবং কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি ড. শামসুল আলম বলেন, লবণের চাহিদা সীমিত। মানুষের আয় বাড়লেও দেখা যায় লবণ বেশি খায় না। এজন্য উৎপাদন বাড়লেই চাষীদের দাম হারাতে হয়। সরকারিভাবে যেটি করা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে রফতানির সুযোগ থাকলে তার ব্যবস্থা করা দরকার। এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

একদিকে যেমন অধিক উৎপাদন হওয়ায় দাম কমেছে। অন্যদিকে বর্তমানে বড় বড় কোম্পানিগুলো লবণ কেনা বন্ধ রেখেছে। এই দুই কারণে লবণের চাহিদা নেই বললেই চলে। এখন লবণ বিক্রি করা মানেই লোকসান। স্থানীয় একাধিক চাষী জানিয়েছেন, লবণ শিল্প বাঁচাতে হলে সরকারকে বক্সবাজারে একটা ‘লবণ বোর্ড’ গঠন করতে হবে। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৬ লাখ টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও উৎপাদন ইতিমধ্যে ১৮ লাখ টন ছাড়িয়েছে, যা ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এত বেশি লবণ উৎপাদনের কারণ হিসেবে জানান, এ বছর প্রচণ্ড রোদ রয়েছে। সেই সঙ্গে উপযোগী বাতাস। এই দুয়ের মধ্যে সুন্দর একটা সমন্বয় থাকায় এত বেশি লবণ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

বিসিক চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগে আমি কক্সবাজার ঘুরে এসেছি। চাষীরা একদিকে জমির মালিকদের কাছে জিম্মি, অন্যদিকে চড়া সুদে দাদন (ঋণ) নিয়ে লবণ চাষ করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। গত বছরের লবণ এখনও আছে। তার ওপর এবার সারপ্লাস উৎপাদন হয়েছে। চাষীরা সত্যিই বঞ্চিত হচ্ছেন। এজন্য খাবার লবণ আমদানি বন্ধ, অন্তত ২০ লাখ টন লবণ রফতানি করা এবং চাষীদের কৃষি ঋণের মতো ব্যাংকগুলো থেকে লবণ ঋণ দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

 

বিবি/এমএ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সর্বোচ্চ ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

রেকর্ড পরিমান উৎপাদন তবুও লোকসানে লবণ চাষীরা

প্রকাশিত : ১২:২৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯

উৎপাদন বেশি হওয়ায় আনন্দের বদলে বিপদে পড়েছেন লবন চাষীরা।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোটাখালীর উত্তর ফুলছড়ি গ্রামের এক লবণ চাষী বলেন, তিনি এ বছর ১০ কানি (এক কানিতে ৩৯ শতাংশ) জমিতে লবণ চাষ করছেন। ব্যাপক লবণ উৎপাদন হওয়ায় আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। ভেবেছিলেন এবার বেশি লাভের টাকা দিয়ে সংসারের কিছু বাড়তি খরচ করবেন। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি।

দাম কমে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, খরচ উঠাতে পারবে কিনা তা নিয়েই এখন চিন্তিত তিনি। এখানকার আরেক লবণ চাষী বলেন, তিনি ২০ কানি জমিতে চাষ করেছেন। তারও একই অবস্থা। প্রায় একই রকম তথ্য জানালেন ১০-১২ জন লবণ চাষী। তাদের দাবি, এ চিত্র সব চাষীরই।

তিন মাস আগে মাঠ থেকে যে লবণ বিক্রি হতো প্রতি মণ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। তা এখন কমে ১৫০ টাকা হয়েছে। এ অবস্থায় লবণের ন্যায্য দাম পেতে সরকারের সহোযোগিতা চাচ্ছেন তারা। লবণ বোর্ড গঠনের দাবিও উঠে এসেছে তাদের কণ্ঠে। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) এবং কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি ড. শামসুল আলম বলেন, লবণের চাহিদা সীমিত। মানুষের আয় বাড়লেও দেখা যায় লবণ বেশি খায় না। এজন্য উৎপাদন বাড়লেই চাষীদের দাম হারাতে হয়। সরকারিভাবে যেটি করা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে রফতানির সুযোগ থাকলে তার ব্যবস্থা করা দরকার। এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

একদিকে যেমন অধিক উৎপাদন হওয়ায় দাম কমেছে। অন্যদিকে বর্তমানে বড় বড় কোম্পানিগুলো লবণ কেনা বন্ধ রেখেছে। এই দুই কারণে লবণের চাহিদা নেই বললেই চলে। এখন লবণ বিক্রি করা মানেই লোকসান। স্থানীয় একাধিক চাষী জানিয়েছেন, লবণ শিল্প বাঁচাতে হলে সরকারকে বক্সবাজারে একটা ‘লবণ বোর্ড’ গঠন করতে হবে। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৬ লাখ টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও উৎপাদন ইতিমধ্যে ১৮ লাখ টন ছাড়িয়েছে, যা ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এত বেশি লবণ উৎপাদনের কারণ হিসেবে জানান, এ বছর প্রচণ্ড রোদ রয়েছে। সেই সঙ্গে উপযোগী বাতাস। এই দুয়ের মধ্যে সুন্দর একটা সমন্বয় থাকায় এত বেশি লবণ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

বিসিক চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগে আমি কক্সবাজার ঘুরে এসেছি। চাষীরা একদিকে জমির মালিকদের কাছে জিম্মি, অন্যদিকে চড়া সুদে দাদন (ঋণ) নিয়ে লবণ চাষ করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। গত বছরের লবণ এখনও আছে। তার ওপর এবার সারপ্লাস উৎপাদন হয়েছে। চাষীরা সত্যিই বঞ্চিত হচ্ছেন। এজন্য খাবার লবণ আমদানি বন্ধ, অন্তত ২০ লাখ টন লবণ রফতানি করা এবং চাষীদের কৃষি ঋণের মতো ব্যাংকগুলো থেকে লবণ ঋণ দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

 

বিবি/এমএ